রামগড়ে ভূমি দখলের আড়ালে ইউপিডিএফের নেতৃত্বে চলছে বাঙালী উচ্ছেদ মিশন


সন্তোষ বড়ুয়া

পার্বত্য চট্টগ্রাম নিয়ে উপজাতি স্বার্থান্বেষী মহল নিয়মিত অপপ্রচার চালিয়ে আসছে। বিভিন্ন সোশ্যাল মিডিয়া, অনলাইন পত্রিকা, মিছিল, মিটিং, সমাবেশ, স্মারকলিপি প্রদান, হরতাল, স্কুল-কলেজে ক্লাস বর্জনসহ নানা ধরণের পদক্ষেপ তারা গ্রহণ করে থাকে। তাদের এই মিথ্যা অপপ্রচারের গণ্ডি শুধু পার্বত্য চট্টগ্রামের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়। চট্টগ্রাম, ঢাকা এমনকি বিদেশেও তারা এই অপপ্রচার চালিয়ে যাচ্ছে। পরিতাপের বিষয় এই যে, তাদের এই অপপ্রচারে সরাসরি সহযোগিতা করছে দেশের কিছু তথাকথিত বুদ্ধিজীবী, সুশীল সমাজ ও বিভিন্ন মানবাধিকার সংগঠন।

আমার আজকের লেখার বিষয় হল পার্বত্য জেলা খাগড়াছড়ির রামগড় উপজেলাকে নিয়ে এমনই কিছু মিথ্যাচার আর সেখানে আঞ্চলিক সশস্ত্র সংগঠন ইউনাইটেড পিপলস ডেমোক্রেটিক ফ্রন্ট (ইউপিডিএফ) প্রসীত গ্রুপের সন্ত্রাসী কার্যকলাপ নিয়ে।

রামগড়ে গত বেশ কিছুদিন যাবত ভূমি নিয়ে সমস্যা পরিলক্ষিত হচ্ছে। উপজাতিদের অভিযোগ সেখানকার স্থানীয় বাঙালি এবং নিরাপত্তাবাহিনীর সদস্যরা তাদেরকে ভূমি থেকে উচ্ছেদ করছে, তাদের বসত-ঘর ভেঙ্গে দিচ্ছে ইত্যাদি ইত্যাদি। তাদের এই অভিযোগসমূহ সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যম ফেসবুকে বেশ ঘটা করে তারা প্রচারও করছে। অভিযোগ যেহেতু গুরুতর তাই এ ব্যাপারে বিস্তারিত তথ্য সংগ্রহের জন্য আমি রামগড়ে সরেজমিনে তদন্তের জন্য রাঙামাটি থেকে ছুটে গেলাম।

সেখানকার স্থানীয় জনসাধারনের সাথে কথা বলে যে তথ্য সংগ্রহ করেছি তাতে একটা বিষয় পরিস্কার যে ভূমি নিয়ে উপজাতিদের উত্থাপিত সকল অভিযোগ মিথ্যা।

স্থানীয়দের কাছ থেকে জানা যায় যে, রামগড় এবং এর পার্শ্ববর্তী এলাকাটি মূলতঃ আঞ্চলিক সশস্ত্র সংগঠন ইউপিডিএফ(প্রসীত) গ্রুপের আধিপত্যপূর্ণ এলাকা। সশস্ত্র ঐ সংগঠনটি রামগড় এলাকায় নিয়মিত চাঁদাবাজি, ছিনতাই, অপহরণসহ নানান ধরণের সন্ত্রাসী কার্যকলাপে লিপ্ত। তাদের এই সশস্ত্র সন্ত্রাসী কার্যক্রমে প্রধান বাধা নিরাপত্তাবাহিনীর সদস্যরা। আর সে কারণেই তারা নিরাপত্তাবাহিনীকে বিতর্কিত করার উদ্দেশ্যে মিথ্যা, বানোয়াট আর বিভ্রান্তিকর অপপ্রচার করে গুজব সৃষ্টি করে আসছে। শুধু অপপ্রচারেই তারা ক্ষ্যান্ত নয়। সুযোগ পেলে তারা নিরাপত্তাবাহিনীর উপর হামলা করতেও দ্বিধাবোধ করে না।

উদাহরণ হিসেবে বলা যায়, গত ৫ জুন ২০১৭ তারিখে পুলিশের ওপর ইউপিডিএফ প্রসীত গ্রুপের পেট্রোল বোমা ও ককটেল নিক্ষেপ, ৭ জুন ২০১৭ তারিখে ইউপিডিএফ প্রসীত গ্রুপের কর্মীদের কর্তৃক বিজিবি ও পুলিশের উপর হামলা, ৮ মার্চ ২০১৮ তারিখে ইউপিডিএফ সমর্থিত হিল ইউমেন্স ফেডারেশন কর্তৃক পুলিশের উপর হামলার চেষ্টা ইত্যাদি।


এ সংক্রান্ত আরো লেখা:
নতুন কৌশলে পাহাড়ীদের ভূমি দখল: পার্বত্য চট্টগ্রাম থেকে বাঙালী বিতাড়নের নীল নকশা


ইউপিডিএফ(প্রসীত) গ্রুপের সশস্ত্র দলের অস্ত্রের মুখে স্থানীয় জনসাধারণও অতিষ্ঠ। কিন্তু প্রাণ ভয়ে তারা কেউ মুখ খুলতে সাহস পায় না। নামপ্রকাশ না করার শর্তে স্থানীয় উপজাতি এবং বাঙালিরা ইউপিডিএফ(প্রসীত) গ্রুপের সশস্ত্র দলের বেশ কিছু সন্ত্রাসী কার্যকলাপের ঘটনার বর্ণনা করেছেন পাশাপাশি বিভিন্ন পত্রিকায় প্রকাশিত সংবাদ থেকেও এর সত্যতা পেয়েছি। এর কিছু উদাহরণ নিম্নে তুলে ধরা হলো:

১। ১৬ এপ্রিল ২০১৮ তারিখে, রামগড়ের দুর্গম পাহাড়ি গ্রাম অন্তুপাড়া এলাকায় ইউপিডিএফ(প্রসীত) গ্রুপের কয়েকজন অস্ত্রধারী সন্ত্রাসী আকস্মিকভাবে এসে চাইন্দে মারমা নামক এক ব্যক্তির বসতঘর ও রান্নাঘর ভেঙ্গে গুড়িয়ে দেয়।

২। ২৭ জানুয়ারি ২০১৮ তারিখে, তৈচাগাড়া বাটনাশিবির নামক স্থানে মো. হানিফ মজুমদার (৬৫), মো. আবু সাইদ (৫৫) এবং মো. ওবাইদুল হক (৫০) নামক তিনজন বাঙালির মালিকানাধীন জায়গায় ইউপিডিএফ(প্রসীত) গ্রুপের লোকজন জোরপূর্বক বসত-ঘর তৈরী করে। কিন্তু ইউপিডিএফ কর্তৃক তৈরীকৃত ঘরগুলো উক্ত জমির মালিকরা ভেঙ্গে দেয়। পরবর্তীতে, বাঙালিরা তাদের বসত-ঘর ভেঙ্গে দিয়েছে মর্মে অপপ্রচার চালায় ইউপিডিএফ প্রসীত গ্রুপের সদস্যরা।

৩। ৪ মার্চ ২০১৮ তারিখে, পাকলাপাড়া নামক স্থানে নিজ বাসা থেকে অজ্ঞাতনামা উপজাতি অস্ত্রধারীরা (স্থানীয়দের দাবী ইউপিডিএফ প্রসীত গ্রুপ) চাইথুই মারমা (৫৫)নামক একজনকে অপহরণ করে নিয়ে যায়।

৪। ২১ মার্চ ২০১৮ তারিখে, পাতাছড়া ইউনিয়নের কলাবাড়ি নামক স্থানে ইউপিডিএফ(প্রসীত) গ্রুপের সন্ত্রাসীদের গুলিতে সিএনজি চালিত অটো রিক্সার চালক শরীফুল ইসলাম(২৬) আহত হয়। একই স্থানে অপর একটি অটো রিক্সায় ছোঁড়া ইটের আঘাতে দেড় বছরের একটি শিশুও আহত হয়।

৫। ৪ জুন ২০১৮ তারিখে পার্বত্যনিউজ ডট কম পত্রিকায় প্রকাশিত সংবাদ হতে জানা যায় যে, রামগড় ইউনিয়নের ২২৯ নম্বর রামগড় মৌজার তৈচাগাড়া ও থানা চন্দ্র পাড়া এলাকায় সরকারিভাবে বন্দোবস্তী দেয়া ১৩টি বাঙালি পরিবারের প্রায় ৬০ একর টিলা ভূমি দখল করে বসতি স্থাপন করছে কতিপয় উপজাতিরা। ইউপিডিএফ প্রসীত গ্রুপের সদস্যরা পরিকল্পিতভাবে বাঙালিদেরকে উচ্ছেদ করার লক্ষ্যে অন্যত্র থেকে পাহাড়ি পরিবারগুলোকে এনে বাঙালিদের ওইসব জায়গায় বসতি তৈরী করে দিচ্ছে।

৬। ৩ জুন ২০১৮ তারিখে থানাচন্দ্রপাড়া নামক স্থানে ১০ জন বাঙালির সর্বমোট ৭০.৫০ একর জায়গা ইউপিডিএফ প্রসীত গ্রুপের সদস্যরা ঝুপড়ি ঘর তৈরী করে দখলে নেয়। পরবর্তীতে, সংশ্লিষ্ট বাঙালিরা উক্ত জায়গার মালিকানা দাবী করে তাদেরকে বাধা প্রদান করলে ইউপিডিএফ (প্রসীত) গ্রুপের সদস্যরা সংশ্লিষ্ট বাঙালিদের অস্ত্র দেখিয়ে ভয়ভীতি প্রদর্শন করে। এ প্রেক্ষিতে ক্ষতিগ্রস্ত বাঙালি কর্তৃক উক্ত ব্যাপারে মামলা দায়ের করা হয়।

৭। ১৮ জুলাই ২০১৮ তারিখে গৈয়াপাড়া এলাকায় জনৈক বাঙালি মোঃ সুলতান আহমেদ (৭০) এর মালিকানাধীন জায়গায় ইউপিডিএফ (প্রসীত) গ্রুপের এর ইন্ধনে উপজাতীয়রা ৩/৪টি বাড়ী নির্মাণ করে। পরবর্তীতে বাদী সুলতান আহমেদ রামগড় থানায় একটি মামলা দায়ের করেন।

৮। ২৫ এপ্রিল ২০১৮ তারিখে, দাতারামপাড়া, রসলপুর নামক স্থানে ইউপিডিএফ (প্রসীত) গ্রুপের কিছু সশস্ত্র সন্ত্রাসী নির্মাণাধীন রাস্তার কাজে নিয়োজিত চারজন শ্রমিকের কাছে চাঁদা দাবী করে। শ্রমিকরা চাঁদা দিতে অস্বীকৃতি জানালে সন্ত্রাসীরা তাদেরকে মারধর করে।

৯। ২০ আগষ্ট ২০১৮ তারিখে, চাঁদা না দেয়ায় সোনাইআগা নোয়াপাড়া নামক স্থানে বসবাসকারী মো. আব্দুল মান্নান (৪২) নামক এক বাঙালিকে ইউপিডিএফ (প্রসীত) গ্রুপের ১০/১২ জন সন্ত্রাসী মারধর করে আহত করে। আব্দুল মান্নান জানায় যে, ইউপিডিএফ (মূলদল) এর সন্ত্রাসীরা সোনাইআগা নোয়াপাড়া হতে বাঙালিদেরকে বাড়ি ঘর ছেড়ে চলে যাওয়ার জন্য হুমকি দিয়ে উক্ত এলাকা পাহাড়ীদের বলে দাবী করে।

১০. গত ১৯ সেপ্টেম্বর সকাল ৯টার দিকে উপজেলার রামগড় ইউনিয়নের গরুকাটা নামক দুর্গম এলাকায় চাঁদার টোকেন দেখাতে না পারায় এক বাঙালী অটো রিক্সা ড্রাইভারের গাড়ী ভাঙচুর করে ইউপিডিএফ সন্ত্রাসীরা। জানা যায়, সকালে খাগড়াবিল বাজার থেকে যাত্রী নিয়ে গরুকাটায় পৌঁছলে ৩-৪ জন সশস্ত্র উপজাতি সন্ত্রাসী অটোরিক্সাটি আটক করে। তারা চালকের কাছে চাঁদার টোকেন দেখতে চায়।

তাৎক্ষণিকভাবে টোকেন দেখাতে না পারায় সন্ত্রাসীরা অটোরিক্সার চাবি কেড়ে নিযে চালক ফজলুর রহমান(২৩)কে ধারালো দা দিয়ে কোপাতে চায়। এ সময় সে দৌঁড়ে পালিযে প্রাণ বাঁচায়। সন্ত্রাসীরা অটোরিক্সাটি রাস্তার পাশের জঙ্গলের ভিতরে নিয়ে ব্যাপকভাবে ভাংচুর করে। পরে অটোরিক্সা চালক সমবায় সমিতির নেতারা ইউপিডিএফের সন্ত্রাসীদের সাথে যোগাযোগ করে অটোরিক্সাটি উদ্ধার করেন।

এরকম আরো অনেক ঘটনা আছে। তবে সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য ঘটনাটি ঘটেছিল ৩০ জুন ২০১৭ তারিখে। সেদিন রামগড় উপজেলার বাঙালি অধ্যুষিত কালাডেবা নামক স্থানে ইউপিডিএফ প্রসীত গ্রুপের কতিপয় সশস্ত্র সন্ত্রাসীরা সদলবলে উপস্থিত হয়ে বাঙালিদের নিকট চাঁদা দাবী করে। এ ঘটনা জানার সাথে সাথে স্থানীয় এবং পার্শ্ববর্তী গ্রামের বাঙালিরা সমবেত হয়ে সে সব সশস্ত্র সন্ত্রাসীদের ধাওয়া করে। ধাওয়া খেয়ে সন্ত্রাসীরা পার্শ্ববর্তী মারমা উপজাতি অধ্যুষিত সোনাইআগা এলাকা দিয়ে চন্দ্র কারবারীপাড়া (ত্রিপুরা উপজাতি অধ্যুষিত) এলাকায় পালিয়ে যায় এবং পলায়নকালে কয়েক রাউন্ড গুলি ছোঁড়ে।

এ সময় স্থানীয় সাধারণ উপজাতিরাও সন্ত্রাসীদের ধাওয়া করতে বাঙালিদের সাথে যোগ দেয়। সন্ত্রাসীদের ধাওয়া করার সময় স্থানীয় জনসাধারণের মধ্যে কিছুটা আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। এই ঘটনার কিছুদিন পূর্বেও ইউপিডিএফ প্রসীত গ্রুপের সন্ত্রাসীরা উক্ত এলাকার বাঙালিদের নিকট চাঁদা দাবী করে এবং চাঁদা না দিলে এলাকা ছাড়া করবে এবং বাঙালি মেয়েদেরকে অপহরণ করে ধর্ষণ করবে বলেও হুমকি প্রদান করে বলে স্থানীয়দের নিকট হতে জানা যায়।

ঘটনার মীমাংসা করার জন্য গত ১ জুলাই ২০১৭ তারিখ ১১ ঘটিকায় সোনাইআগা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সামনে স্থানীয় উপজাতি ও বাঙালি গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গের সমন্বয়ে একটি বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। উক্ত বৈঠকে স্থানীয় এলাকাবাসী সবাই জানান যে, ইউপিডিএফ প্রসীত গ্রুপের একদল সন্ত্রাসী দীর্ঘদিন ধরে এলাকার ব্যবসায়ী, কৃষক সবার কাছ থেকে চাঁদাবাজি করছে। তাদের অত্যাচারে গ্রামবাসিদের মধ্যে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়। বৈঠকে বহিরাগত সন্ত্রাসীদের বিরুদ্ধে সম্মিলিতভাবে গণপ্রতিরোধ গড়ে তোলার ব্যাপারে সকলে মতামত ব্যক্ত করেন। বৈঠকে উপস্থিত সকল জনপ্রতিনিধি ও পাহাড়ি-বাঙালি নেতৃবৃন্দ বলেন, গুজবের মাধ্যমে এলাকার শান্তি-সম্প্রীতি নষ্ট হয়, হিংসা ও হানাহানির মত বড় ধরনের ঘটনার সৃষ্টি হয়।

এ প্রসংগে রামগড় ইউনিয়নের ৪ নং ওয়ার্ড মেম্বার ক্যাওরি মারমা বলেন, পাহাড়ি- বাঙালি সবাই মিলেই সন্ত্রাসীদের ধাওয়া করা হয়েছে। এখানে কেউ কোন পাহাড়ির বাড়িঘরে হামলার ঘটনা ঘটেনি। সোনাইআগার স্থানীয় বয়োঃবৃদ্ধ বাসিন্দা ক্যয়প্রু মারমা বলেন, সন্ত্রাসীদের ধাওয়া করতে আমার ছেলে এবং ভাতিজিও যায়। এই সময় তিনি সোনাইআগা এলাকার পাহাড়ি-বাঙালি বাসিন্দাদের নিরাপত্তার জন্য একটি বিজিবি ক্যাম্প স্থাপনের দাবীও জানান।

কিন্তু, উপরোক্ত ঘটনাকে ইস্যু করে পাহাড়িদের বাড়িঘরে হামলা, লুটপাট ও অগ্নিসংযোগের মিথ্যা, বানোয়াট ও কাল্পনিক তথ্য দিয়ে সন্ত্রাসীদের পক্ষাবলম্বনপূর্বক সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যম ফেসবুকে বিভিন্ন ব্যক্তি কর্তৃক অপপ্রচার চালানো হয়।

উদাহরস্বরূপঃ পাহাড়ীদের প্রতি সহানুভুতিশীল সুপ্রীম কোর্টের আইনজীবী ইমতিয়াজ মাহমুদ তার ফেসবুক আইডিতে লিখেন যে,  “একটু আগে মাত্র খবর পেয়েছি খাগড়াছড়ি জেলার রামগড় উপজেলার ১ নং সদর ইউনিয়নের ৪ নং ওয়ার্ডের অন্তর্গত সৌনায়া গা ও ব্রত চন্দ্র কারবারী পাড়াতে পার্শ্ববর্তী কালাডেবা নামক এলাকা থেকে শতাধিক সেটেলার সংঘবদ্ধভাবে হামলা চালাচ্ছে। এই গ্রামগুলিতে ত্রিপুরা আদিবাসীদের বাস। রাত এগারটার দিকে সৌনায়া গা গ্রামটি সম্পূর্ণ ধ্বংস করে লুটপাট চালানো হয়েছে এবং এগারটার দিকে ব্রত চন্দ্র কারবারী গ্রামটিতে চলছিল নির্বিচার হামলা, মারধর আর লুটপাট। সেটেলারদের সাথে এইসব হামলায় স্থানীয় চৌচালা বিজিবি ক্যাম্প থেকে বিজিবি সদস্যরাও অংশ নিচ্ছে বলে অভিযোগ করেছে স্থানীয়রা। গ্রামের ত্রিপুরা আদিবাসী মানুষজন প্রাণভয়ে পালাচ্ছে বাড়িঘর ছেড়ে”।

এছাড়াও চাকমা সার্কেল চিফের স্ত্রী রাণী য়েন য়েন, Ajal Dewan, Mikel Changma Jummo, Thuikyaw Ching, CHT-jummaland, Chittagong Hill Tracts International Network for Human Rights নামক ফেসবুক আইডি ও পেজ থেকেও এ সংক্রান্ত বিষয়ে অপপ্রচার চালানো হয়।

সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যম ব্যবহারপূর্বক এ ধরণের উস্কানীমূলক অপপ্রচার পার্বত্য চট্টগ্রামে বিরাজমান সাম্প্রদায়িক সম্প্রতিকে বিনষ্ট করে যে কোন সময় সাম্প্রদায়িক দাঙ্গায় রূপ নিতে পারে এবং নিয়ে থাকে। পাহাড়ী সন্ত্রাসীদের চাঁদাবাজি ও অন্যান্য সন্ত্রাসী কার্যকলাপকে সম্পূর্ণরূপে আড়াল করার লক্ষ্যে এ ধরণের অপপ্রচার চালানো হয়ে থাকে। বাংলাদেশ সুপ্রীম কোর্টের একজন আইনজীবী হওয়া সত্ত্বেও ইমতিয়াজ মাহমুদ কর্তৃক মিথ্যা ও উস্কানীমূলক লেখনী হতে প্রমাণ হয় যে, তিনি নির্দিষ্ট কোন স্বার্থান্বেষী মহলের স্বার্থ রক্ষা করছেন। ইতোপূর্বেও তিনি পার্বত্য চট্রগ্রামের বিভিন্ন বিষয় নিয়ে ও মিথ্যা ও উস্কানীমূলক লেখা প্রকাশ করেছিলেন। তার এই মিথ্যা ও উস্কানীমূলক লেখনীর জন্য তার বিরুদ্ধে মামলা হয়।

তবে আশার কথা হল রামগড়ের উপজাতি-বাঙালি সকল জনসাধরণই এখন সন্ত্রাসীদের বিরুদ্ধে সোচ্চার। তাইতো, ২৯ এপ্রিল ২০১৮ তারিখে, রামগড়ে চাঁদাবাজির সময় প্রবীর ত্রিপুরা(২২) নামক ইউপিডিএফ(প্রসীত) গ্রুপের এক চাঁদাবাজকে হাতেনাতে ধরে গণধোলাই দিয়ে বিজিবি’র কাছে সোপর্দ করে স্থানীয় জনসাধারণ। পাশাপাশি পুলিশ ও বিজিবির সদস্যরা নিয়মিতভাবে অভিযান চালিয়ে এই সব সশস্ত্র সন্ত্রাসীদের গ্রেফতার করছে।

উদাহরণস্বরূপঃ ১৪ জানুয়ারী ২০১৮ তারিখে, সুজন চাকমা(২৮) ও আব্বাই মারমা(৩৩) নামক ইউপিডিএফ(প্রসীত) গ্রুপের দুই চাঁদাবাজকে অস্ত্র ও গোলাবারুদসহ আটক করে বিজিবি সদস্যরা।
২৫ জানুয়ারী ২০১৮ তারিখে চাঁদাবাজি করার সময় পাত্র চাকমা নামক ইউপিডিএফ’র এক সন্ত্রাসীকে অস্ত্রসহ আটক করে বিজিবি সদস্যরা।

পুলিশ, বিজিবি আর স্থানীয় প্রশাসনের এমন তৎপরতার কারণে ইউপিডিএফ প্রসীত গ্রুপের সশস্ত্র কার্যক্রম বাঁধার সম্মুখীন হচ্ছে। সে জন্য তারা নিয়মিতভাবে এইসব বাহিনী এবং প্রশাসনের বিরুদ্ধে অপপ্রচার চালিয়ে যাচ্ছে। যার সর্বশেষ উদাহরণ হল গত ১২ সেপ্টেম্বর রামগড় উপজেলায় সদর ইউনিয়নে ৬নং ওয়ার্ড নাঙ্গল আদামে ইউপিডিএফ প্রসীত গ্রুপ কর্তৃক অবৈধভাবে ভূমি দখল করতে না পেরে নিরাপত্তাবাহিনীর বিরুদ্ধে মিথ্যাচার।

♦ লেখক- রাঙামাটি থেকে

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *