নাইক্ষ্যংছড়ির বাংলাদেশ-মিয়ানমার সীমান্তে চরম উত্তেজনা : মিয়ানমারের বিপুল সংখ্যক সেনা মোতায়েন, গুলিবর্ষণ


Bandarban

মেহেদী হাসান পলাশ:

নাইক্ষ্যংছড়ির বাংলাদেশ-মিয়ানমার সীমান্তের ৫০-৫২ নম্বর পিলার এলাকার বিপরীতে প্রায় যুদ্ধাবস্থায় সৈন্য সমাবেশ করেছে মিয়ানমার সেনাবাহিনী। স্থানীয় সূত্রগুলো নিশ্চিত করেছে মিয়ানমারের সীমান্ত রক্ষীবাহিনী বর্ডার গার্ড পুলিশের(বিজিপি) পাশাপাশি দুই হাজারেরও অধিক সেনা সদস্য মোতায়েন করেছে সেদেশের সেনাবাহিনী। অন্যদিকে উদ্ভুত পরিস্থিতি মোকাবেলা ও সীমান্তের নিরাপত্তা রক্ষায় বাংলাদেশও অতিরিক্ত সংখ্যক বিজিবি সদস্য ও কিছু সেনাসদস্য মোতাযেন করেছে বলে বিশ্বস্ত সূত্রে জানা গেছে। সীমান্তে টহলও বৃদ্ধি করা হয়েছে।

 

এদিকে গতকাল মিয়ানমার সীমান্তরক্ষী বাহিনীর আক্রমণের সময় নিখোঁজ হয়ে যাওয়া নবগঠিত পাইনছড়ি বিজিবি’র নায়েক মিজানুর রহমানের এখনো খোঁজ পাওয়া যায়নি। তবে বিজিবি’র ধারণা বিজিপি’র আক্রমণে আহতা হওযার পর তাকে বিজিপি সদস্যরা তাকে মিয়ানমারের অভ্যন্তরে টেনে নিয়ে গেছে। তাঁকে ফিরে পেতে এবং উদ্ভুত পরিস্থিতির সমাধানে ২৮ মে বিকাল ৪.০০ ঘটিকায় বাংলাদেশের সীমান্তরক্ষী বাহিনী বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) ’র নাইক্ষ্যংছড়ি ৩১ বর্ডার গার্ড ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লে . কর্ণেল সফিকুর রহমান মিয়ানমার সীমান্ত রক্ষীবাহিনী বর্ডার গার্ড পুলিশ( বিজিপি) মংডু ২নং সেক্টরের কমান্ডার থিংকোকো বরাবরে পতাকা বৈঠকের জন্য পত্র প্রেরণ করে। কিন্তু এ পত্রের কোনো উত্তর দেয় নি মিয়ানমার কর্তৃপক্ষ।

এদিকে গতকাল ২৯ মে সকাল ১১.০০ ঘটিকায় নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলার দোছড়ি সীমান্তের ৫০নং পিলারের নিকটবর্তী বাহিরমাঠ এলাকায় বাংলাদেশ ও মিয়ানমারের সীমান্তরক্ষী বাহিনীর সেক্টর কমান্ডার পর্যায়ে পতাকা বৈঠকের জন্য সকল প্রকার আয়োজন সম্পন্ন করে। আয়োজন সম্পন্নের পরও মিয়ানমারের বর্ডার গার্ড পুলিশ (বিজিপি) পতাকা বৈঠকে আসেনি। মিয়ানমারের উত্তরের আশায় সকাল ৯.০০ ঘটিকা থেকে রাত ৮.০০ ঘটিকা পর্যন্ত ঘটনাস্থলে অবস্থান করেছে বর্ডার গার্ড ব্যাটালিয়ন (বিজিবি)’র কক্সবাজারের সেক্টর কমান্ডার কর্ণেল খন্দকার ফরিদ হাসান, নাইক্ষ্যংছড়ি ৩১বর্ডার গার্ড ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লে. কর্ণেল সফিকুর রহমান, উপ-পরিচালক (এডি) মোশারফ হোসেনসহ বিজিবি ও সেনাবাহিনীর উচ্চ পর্যায়ের কর্মকর্তাবৃন্দ।

বিজিবির নাইক্ষ্যংছড়ি ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল সফিকুর রহমান এ তথ্য স্বীকার করে  জানান, সীমান্তের উদ্ধুত পরিস্থিতি নিয়ে পতাকা বৈঠকের আহবান করা হয়েছে। কমান্ডার পর্যায়ে বৈঠকের জন্য পাইনছড়ি এলাকায় বিজিবি তাবু টাঙ্গানো হলেও মিয়ানমার সীমান্তরক্ষী বিজিবি বৈঠকের সাড়া দেয়নি।

এদিকে সীমান্তের একাধিক সূত্র জানিয়েছে, মিয়ানমার সীমান্ত রক্ষী বাহিনী বিজিবি’র নায়েক মিজানুর রহমানকে টেনে মিয়ানমারের ভেতরে নিয়ে গিয়ে তার শরীরে আগ্নেয়াস্ত্র ঠেকিয়ে আরো কয়েক রাউন্ড গুলি করে। এরপর তার দেহ মংডু হাসপাতালে হস্তান্তর করে। সীমান্ত ব্যবসায়ীরা জানায়, মিয়ামমানের স্থানীয় গণমাধ্যমগুলোতে বিজিবির নায়েককে আরএসও বা রোহিঙ্গা সলিডারিটি অর্গানাইজেশনের সদস্য বলে প্রচার করা হয়েছে। গতকাল এ বিষয়ে বিজিপি কর্তৃপক্ষের একটি সংবাদ সম্মেলন করার কথা থাকলেও অজ্ঞাত কারণে তা স্থগিত করে তারা। তবে স্থানীয় নিরাপত্তা সূত্রগুলো এ খবর শুনেছেন বললেও নিশ্চিত করতে পারেননি বলে জানায়।

এদিকে গতকালও মিয়ানমার সীমান্ত রক্ষীবাহিনী দুই দফায় বিজিবির অবস্থান লক্ষ্য করে গুলী বর্ষণ করেছে। গতকাল ২৯ মে বৃহস্পতিবারও নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলার দৌছড়ি ইউনিয়নের সীমান্তের ৫০নং পিলারের নিকটবর্তী বাহিরমাঠ এলাকার বিপরীতে মায়ানমার সীমান্তরক্ষী বাহিনীর বিজিপি’র ক্যাম্প থেকে বাংলাদেশের বিজিবির সদস্যদের লক্ষ্য করে ৭০-৮০ রাউন্ড গুলি বর্ষণ করে। বর্তমানে মায়ানমারের ওই ক্যাম্পে ৫ শতাধিক মায়ানমার সীমান্তরক্ষী বর্ডার গার্ড পুলিশ (বিজিপি) অবস্থান করছে । সেই সাথে বিপুল সংখ্যক সেনাসদস্যও রয়েছে বলে জানা গেছে।

অন্যদিকে গতকাল রাত আনুমানিক ৮ ঘটিকার দিকে মিয়ানমার সীমান্ত রক্ষীবাহিনী পুণরায় বাংলাদেশ সীমান্তের অভ্যন্তরে গুলি বর্ষণ করে। প্রায় ২০ মিনিট ধরে তারা গুলি বর্ষণ করে। গোলাগুলীর পর বাংলাদেশ সীমান্তের অভ্যন্তরে দুইটি ডেডবডি পড়ে থাকতে দেখা গেছে বলে এলাকাবাসী জানিয়েছে। স্থানীয়রা তাদের আরএসও সদস্য বলে জানিয়েছে। তবে ঘটনাস্থল অত্যন্ত দূর্গম পাহাড়ী অঞ্চল হওয়ায় রাতের অন্ধকারে সেখানে অভিযান চালানো সম্ভব হয়নি বলে মৃতের পরিচয় সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়া যায়নি। তবে নিরাপত্তা সূত্রগুলো গুলিবষর্ণের বিষয়টি স্বীকার করলেও অনুসন্ধান ছাড়া মৃতের বিষয়টি নিশ্চিত করতে পারেনি। আজ দিনের আলোয় অনুসন্ধান শেষে তারা মৃত্যু বিষয়ে যে কোনো তথ্য দিতে পারবেন বলে নিশ্চিত করেছেন।

কেন এই উত্তেজনা

প্রায় এক যুগ পর আবারো বাংলাদেশ মিয়ানমার সীমান্তে উত্তেজনা দেখা দিল। খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, মিয়ানমার সরকার কর্তৃক নিজ দেশের মুসলমানদের উপর নজিরবিহীন নিপীড়ন চালানোর প্রতিবাদে আরাকানের মুসলমানদের কিছু সদস্য মুসলমানদের অস্তিত্ব রক্ষায় স্বাধীনতার জন্য সংগ্রাম করছে। তাদের একটি সশস্ত্র গ্রুপের নাম রোহিঙ্গা সলিডারিটি অর্গানাইজেশন। নাইক্ষ্যংছড়ি সীমান্তের বাসিন্দাদের সূত্রে জানা গেছে, চলতি মাসে একাধিকবার মিয়ানমার সেনাবাহিনীর সাথে আরএসও সদস্যদের বন্দুক যুদ্ধের ঘটনা ঘটে। গত ১৩ মে বাইশফাড়ী সীমান্তের ৩৮ ও ৩৭ নং পিলারের কাছে মুরুইঙ্গার ঝিড়ি এলাকায় সকালে কিছুক্ষণ পরপর গোলাগুলির শব্দ শোনা যায়। এতে ওই এলাকার লোকজনদের মধ্যে আতংক ছড়িয়ে পড়ে। স্থানীয় পাড়া প্রধান (কারবারী) ক্যহ্লাচিং জানান, সকাল ৭টার দিকে বেশ গোলাগুলি হয়েছে। তারা শুনেছেন মিয়ানমারের সীমান্তরক্ষী বাহিনীর সাথে সে দেশের দের মধ্যে ব্যাপক সংঘর্ষ শুরু হয়। এছাড়াও আশারতলি ও বাশিফাঁড়ি এলাকায়ও সংঘর্ষ হয় বলে জানা যায়।

মিয়ানমারের সূত্রগুলো এ ঘটনায় ৪ সেনাসদস্য নিহত হওয়ার তথ্য স্বীকার করলেও স্থানীয় সীমান্ত ব্যবসায়ীরা জানিয়েছে, এ ঘটনায় কমপক্ষে ১০-১২ জন মিয়ানমার সেনা সদস্য নিহত হয়। ফলে তারা উদ্বিগ্ন হয়ে পড়ে। তারা এ ঘটনার জন্য বাংলাদেশকে দায়ী করে। তারা মনে করে আরএসও সদস্যরা বাংলাদেশের অভ্যন্তরে আশ্রয়, পৃষ্ঠপোষকতা ও প্রশিক্ষণ পাচ্ছে। যদিও বাংলাদেশ কঠোরভাবে এই অভিযোগ অস্বীকার করে আসছে সবসময়।

এদিকে সীমান্তে এ ধরণের তৎপরতা দমন নিয়ে গত ২২ মে  বুধবার বান্দরবানের নাইক্ষ্যংছড়ির লেম্বুছড়ি সীমান্তে বাংলাদেশের সীমান্ত রক্ষা বাহিনী বিজিবি ও মায়ানমারের সীমান্ত রক্ষী বাহিনীর বিজিপির (বর্ডার গার্ড পুলিশ) মধ্যে পতাকা বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। লেম্বুছড়ি সীমান্তের ৫০নং পিলারের কাছে বাংলাদেশের অভ্যন্তরে বাহির মাঠ এলাকায় এই বৈঠকটি অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠকে বাংলাদেশের বিজিবির পক্ষে নেতৃত্ব দেন কক্সবাজারের বিজিবির সেক্টর কমান্ডার কর্নেল খন্দকার ফরিদ হোসেন। মায়ানমারের সীমান্ত রক্ষী বাহিনী বিজিপির পক্ষে নেতৃত্ব দেন মংডু সেক্টরের সেক্টর কমান্ডার কর্নেল টিং কোকো। বৈঠকে নাইক্ষ্যংছড়ি কক্সবাজার ও টেকনাফের ব্যাটালিয়ন কমান্ডারগণসহ বিজিবি ও বিজিপির স্থানীয় উর্ধতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

বৈঠকে বান্দরবানের নাইক্ষ্যংছড়ি সীমান্তের বিভিন্ন স্থানে সন্ত্রাসী বাহিনীর তৎপরতা ও মায়ানমারের সীমান্ত রক্ষীবাহিনীর সাথে সংঘর্ষের বিষয়ে আলোচনা হয়েছে। মায়ানমারের বিজিপির পক্ষ হতে বৈঠকে জানানো হয়, সন্ত্রাসীরা বাংলাদেশের ভূখন্ড ব্যবহার করে তাদের উপর হামলা করছে। সন্ত্রাসীদের কোনভাবেই যাতে সীমান্ত এলাকা ব্যবহারের প্রশ্রয় দেয়া না হয় তার জন্য বিজিবির কর্মকর্তাদের সতর্ক থাকার জন্য অনুরোধ করে মায়ানমারের বিজিপির কর্মকর্তা। তারা জানায়, এর পর থেকে কোন ঘটনা ঘটলে তারা বিজিবি’র সাথে সম্পর্ক রাখবে না।

২২ মে অনুষ্ঠিত এই পতাকা বৈঠকের পর থেকেই মিয়ানমার সরকার তার দেশের সীমান্তে বিজিপি’র সদস্যের সংখ্যা বৃদ্ধি করে আক্রমণাত্মক অবস্থান নিতে থাকে। তাদের এ অবস্থানের বিপরীতে বাংলাদেশও সীমান্তে টহল জোরদার করে। দেশীয় একটি গোযেন্দা সংস্থাও বিজিবিকে তাদের উপর মিয়ানমার বাহিনীর অতর্কিত হামলা হতে পারে বলে আগাম তথ্য দিয়েছিল বলে বিশ্বস্ত সূত্র জানিয়েছে। এরই প্রেক্ষিতে গত ২৮ মে  বুধবার সকাল ৯.০০ ঘটিকায় নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলার দূর্গম দৌছড়ি ইউনিয়নের মায়ানমার সীমান্তবর্তী পাইনছড়ি এলাকায় (বর্ডার গার্ড পুলিশ) বিজিবি বিওপি ক্যাম্পের কাছাকাছি স্থানে এসে মায়ানমার সীমান্তরক্ষী বাহিনী (বর্ডার গার্ড পুলিশ) বিজিপি শতাধিক রাউন্ড গুলিবর্ষণ করে । বিজিপি বাংলাদেশ সীমান্তের অভ্যন্তরে প্রবেশ করে আগে থেকে এমবুশ করে ছিল।

নাইক্ষ্যংছড়ি ৩১ বিজিবির আওতাধীন দোছড়ি বর্ডার অবজারবেশন পোস্টের (বিওপি) সৈনিকরা ৫২নং সীমান্ত পিলার এলাকায় বুধবার সকাল ৯টার দিকে নায়েক সুবেদার জমির উদ্দিন এর নেতৃত্বে ২০ জন সৈনিক নিয়মিত টহল দেয়াকালে বিনা উষ্কানিতে মিয়ানমারের ওপার থেকে উপর্যপুরী গুলি ছোঁড়া শুরু করে বিজিপি। প্রায় ৪৫ মিনিট পর্যন্ত এই গুলি বর্ষণ চলে বলে জানা যায় । এছাড়া মায়ানমার সীমান্তের ৫২ পিলারেও এ ঘটনা ঘটে ।

তবে স্থানীয় একটি সূত্র জানিয়েছে, ৫২ পিলার এলাকায় বিজিপি নয় মিয়ানমার সেনা অবস্থান রয়েছে। তাই এ হামলা বিজিপি নয় মিয়ানমার সেনাবাহিনী দ্বারা সংঘটিত হয়েছে। তাদের সাথে ৯৬৯ নামের একটি বৌদ্ধ মৌলবাদী জঙ্গী গোষ্ঠী মিলিত হয়ে বিজিবির উপর আক্রমণ চালায়। আকষ্মিক হামলার মুখে টহলরত বিজিবি দল আত্মরক্ষার অবস্থান নিতে ব্যর্থ হয়ে ছত্রভঙ্গ হয়ে যায়। এসময় দুই বিজিবি সদস্য নিখোঁজ হয়। পরে ঘটনাস্থলে তল্লাসি চালিয়ে বিজিবি সদস্যরা নিখোঁজ একজন, অস্ত্র উদ্ধার করলেও পাইনছড়ি বিওপি’র নায়েক মিজানুর রহমান এলএমজি ও ১২০ রাউন্ড গুলিসহ ঘটনাস্থল থেকে নিখোঁজ হয়ে যান । নিখোঁজ মিজান কুমিল্লা জেলার দেবীদ্বার উপজেলার মোহনপুর ইউনিয়নের ভেলা নগর এলাকার বাসিন্দা।

 এ বিষয়ে ৩১ বর্ডার গার্ড ব্যাটালিয়নের উপ-পরিচালক (এডি) মোশারফ হোসেন বলেন, বিজিবি’র পাইনছড়ি বিওপি’র দায়িত্বরত সীমান্তের টহল দলের উপর মায়ানমার বর্ডার গার্ড পুলিশ অতর্কিত গুলি চালায় । ১০০-১৩০ রাউন্ড পর্যন্ত গুলি চালায় । এর পর পাইনছড়ি বিওপি’র নায়েক মিজানুর রহমান নিখোঁজ হয়ে যান। 

এদিকে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশের (বিজিবি) নায়েক মো. মিজানুর রহমানকে আটক ও সীমান্তে নির্বিচারে গুলিবর্ষণের প্রতিবাদে ঢাকায় নিযুক্ত মিয়ানমারের রাষ্ট্রদূত মিউ মিন্ট থানকে বৃহস্পতিবার দুপুরে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে তলব করা হয়েছে। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সন্ধ্যায় এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানায়। বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সচিব (দ্বিপক্ষীয়) মুস্তাফা কামাল মিয়ানমারের রাষ্ট্রদূতকে তাঁর দপ্তরে ডেকে পাঠান। তিনি অবিলম্বে বিজিবির নায়েক মো. মিজানুর রহমানের মুক্তির দাবি জানান। এ ব্যাপারে বাংলাদেশের পক্ষ থেকে তিনি মিয়ানমারের রাষ্ট্রদূতের কাছে একটি চিঠি হস্তান্তর করেন। বাংলাদেশের পক্ষ থেকে আগামী দিনে এ ধরনের তৎপরতা রোধে বিস্তারিত তদন্তের দাবি জানানো হয়েছে। মিয়ানমারের রাষ্ট্রদূত মিউ মিন্ট থান এ সময় সচিবকে আশ্বস্ত করেছেন, বাংলাদেশের উদ্বেগের বিষয়টি মিয়ানমারের যথাযথ কর্তৃপক্ষকে জানানো হবে। মিয়ানমার থেকে জবাব পাওয়ার পর তিনি বাংলাদেশের কর্তৃপক্ষকে তা জানাবেন।

এলাকাবাসী জানিয়েছে, চলমান অবস্থায় তারা চরম আতঙ্কে দিন কাটাচ্ছেন। বাংলাদেশ জিরো লাইন বরাবর কারফিউ জারী করেছে। উদ্ভুত পরিস্থিতি সমাধানের জন্য আলীকদম রিজিয়ন থেকে ৪০ জন সেনা ও ৩১ এবং ৫০ বিজিবি থেকে বাড়তি বিজিবি সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে সীমান্ত এলাকায়। সীমান্তে প্রচণ্ড উত্তেজনা বিরাজ করছে।

 

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *