নাইক্ষ্যংছড়িতে নিখোঁজ বিজিবি সদস্যের খোঁজ মেলেনি


Bandarban

বান্দরবান সংবাদদাতা:

বান্দরবানের নাইক্ষ্যংছড়ি সীমান্তের দোছড়ি ইউনিয়নের পানছড়ি ক্যাম্পের বিজিবি সদস্য নায়েক সুবেদার মিজানুর রহমানের খোঁজ মেলেনি।

বুধবার সকালে নাইক্ষ্যংছড়ি-মিয়ানমার সীমান্তের ৫২ নং পিলারের কাছে ৩১ বিজিবি’র একটি টহল দলের উপর মিয়ানমার সীমান্তরক্ষী বাহিনীর গুলিবর্ষনের ঘটনা ঘটে। ঘটনার পর থেকেই নিখোঁজ হন মিজানুর রহমান। তার বাড়ি কুমিল্লার দেবিদ্বার উপজেলার মোহনপুর ইউনিয়নের ভেলানগর গ্রামে।

নাইক্ষ্যংছড়ি ৩১ বিজিবি’র ব্যাটালিয়ন অধিনায়ক লেঃ কর্নেল শফিকুর রহমান জানান, সীমান্তের উত্তেজনাপূর্ণ পরিস্থিতি ও নিখোঁজ বিজিবি সদস্যের সন্ধানের বিষয় নিয়ে বৃহস্পতিবার দুপুরে পতাকা বৈঠকের আহ্বান জানানো হয়েছে মিয়ানমার সীমান্তরক্ষী বাহিনীকে। তবে এখনো পর্যন্ত তারা এ আহ্বানে সাঁড়া দেয়নি।

বিজিবি কর্তৃপক্ষ জানায়, ঘটনার পর থেকে বিজিবি সদস্য নায়েক মিজানের ব্যবহৃত এলএমজি রাইফেল ও ১২০ রাউন্ড গুলি খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না। তাকে মিয়ানমারে নিয়ে যাওয়া হয়েছে বলে দাবী বিজিবির।

নাইক্ষ্যংছড়ি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা রফিকুল ইসলাম জানান, বিজিবি সদস্য নিখোঁজের খবর পেয়েছি। কিন্তু এ বিষয়ে বিজিবি কর্তৃপক্ষ থানায় কোন তথ্য বা অভিযোগ জানায়নি।

এদিকে বিজিবি টহল দলের উপর গুলিবর্ষণের ঘটনায় নাইক্ষ্যংছড়ি সীমান্তে নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে। সীমান্তে বিজিবির সদস্য সংখ্যা বাড়ানো হয়েছে এবং টহল জোরদার করা হয়েছে।

বৃহস্পতিবার সকাল থেকে বিজিবির কক্সবাজারের সেক্টর কমান্ডার কর্নেল ফরিদসহ বিজিবির ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা সীমান্তের পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনার জন্য সর্বাত্মক প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন।

উল্লেখ্য, গত ২ মাস ধরে বান্দরবানের নাইক্ষ্যংছড়ি সীমান্তে উভয় দেশের সীমান্তরক্ষী বাহিনীর মধ্যে উত্তেজনা বিরাজ করছে। গত ২১ মে সীমান্তের পরিস্থিতি নিয়ে বিজিবি ও মায়ানমার সীমান্তরক্ষী বাহিনীর পতাকা বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। উভয় দেশের সীমান্তে সৌহার্দ্যপূর্ণ সম্পর্ক বজায় রাখার ব্যাপারে বৈঠকে সিদ্ধান্ত হলেও এক সপ্তাহ পরই সীমান্তে গুলিবর্ষণ ও বিজিবি সদস্য নিখোঁজের ঘটনা ঘটে।