আদিবাসী বিতর্কে নাগরিক সমাজের অবস্থান


বাংলাদেশে আদিবাসী বিতর্ক- ৫

মাহবুব মিঠু

মাহবুব মিঠু:

বেশ আগে আন্তর্জাতিক আদিবাসী দিবস উপলক্ষে আরটিভি সুন্দর একটা টকশোর আয়োজন করেছিল। গোলাম মোর্তজার সঞ্চালনায় অতিথি হিসেবে ছিলেন জেনারেল (অবঃ) ইব্রাহীম এবং চাকমা রাজা দেবাশীষ রায়।আদিবাসী স্বীকৃতি পেলে এর পরিণাম কি কি হতে পারে ঐ অনুষ্ঠানে জনাব ইব্রাহীম সেগুলো খুব সুন্দরভাবে ব্যাখ্যা করেন। তিনি বলেন, ২০০৭ সালে প্রণীত জাতিসংঘের ডিক্লারেশন ৩, ৪ এবং ১৮ ধারা মোতাবেক, স্বীকৃতি পাওয়া আদিবাসীদের চাহিদা অনুযায়ী তাদেরকে স্বায়ত্বশাসন দিতে রাষ্ট্র বাধ্য থাকবে। পাহাড়ীদের অনুমতি ছাড়া কেউ সেখানে বাস করতে পারবে না এবং তাদের অনুমতি ও সম্মতি ছাড়া ঐ এলাকায় রাষ্ট্র কোন রকমের সামরিক তৎপরতা চালাতে পারবে না।

জনাব ইব্রাহীমের দেয়া তথ্য খণ্ডাতে পারেননি রাজা দেবাশীষ রায়। এমনিতে পাহাড়ে অশান্তি সৃষ্টি করে রেখেছে একটা গোষ্ঠী। বাংলাদেশ থেকে পৃথক হওয়া তাদের লক্ষ্য। এই পরিস্থিতিতে আদিবাসী স্বীকৃতি নিয়ে স্বায়ত্বশাসনের দাবী জোরালো হলে সরকার আন্তর্জাতিক চাপের মধ্যে পড়বে। দেবাশীষ রায় কৌশলে জনাব ইব্রাহীমের স্বায়ত্বশাসনের প্রসঙ্গ এড়িয়ে গিয়ে এটাকে ইউনিয়ন পরিষদের স্বশাসনের সাথে গুলিয়ে বিষয়টাকে হালকা করে দেখানোর চেষ্টা করেছেন।

জনাব ইব্রাহীম আরো বলেন, রাজা দেবাশীষ রায় একটা আদিবাসী ফোরামের সদস্য এবং এই ফোরাম জাতিসংঘের মাধ্যমে শর্ত দিয়েছে, আগামীতে বাংলাদেশের সেনাবাহিনী বিশ্বের কোন দেশে শান্তি মিশনে গেলে পাহাড়ীদের কাছ থেকে জেনে নিতে হবে যে, সেনাবাহিনী সেখানে কোন মানবাধিকার লংঘন করে নাই। ’মানবাধিকার লংঘন’ ক্ষেত্র বিশেষে একটা আপেক্ষিক শব্দ। পাহাড়ী সশস্ত্র গোষ্ঠীর বিরুদ্ধে সেনাবাহিনীর অভিযানকে সংজ্ঞায়িত করা হলে সেটাও হবে বিচ্ছিন্নতাবাদীদের ভাষায় মানবাধিকার লংঘন। এই দাবী প্রতিষ্ঠা করতে পারলে পাহাড়ের সহিংসতাকে থামানো যাবে না। আমরা জানি, পাহাড়ীদের একটা অংশ রাঙ্গামাটিকে রাজধানী করে জুম্মল্যান্ড করার স্বপ্ন দেখছেন।

ড. জাফর ইকবাল ২০১১ সালের আগষ্ট মাসে ’প্রথম আলোতে’ ‘কারও মনে দুখ দিয়ো না…’ নামে একটা কলাম লেখেন। তিনি বিভিন্ন বিষয়ে কথা বলেন, যার মধ্যে একটা ছিল ‘আদিবাসী’ ইস্যু। স্বভাবসুলভ ভঙ্গীমায় যুক্তি কম, আবেগ নির্ভর এবং অনেকগুলো ভুল তথ্যে ভরা ছিল লেখাটি। তিনি এই কলামে লিখেছেন, “মাত্র অল্প কয়দিন আগে আমাদের বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি পরীক্ষা হয়েছে—প্রথমবারের মতো আমরা মুক্তিযোদ্ধার সন্তান, প্রতিবন্ধী কোটার সঙ্গে সঙ্গে আদিবাসী কোটায় ছাত্রছাত্রী ভর্তি করেছি।” এরপরেই তিনি লেখেন, ”দেশে যদি আদিবাসী নেই, তাহলে আদিবাসী কোটায় আমরা কাদের ভর্তি করেছি?” জাফর সাহেবে যাকে ‘আদিবাসী কোটা’ বলেছেন, আদতে ওটা হবে ‘উপজাতি কোটা’। ওনার মতো একজন শিক্ষাবিদ কি ভুল করে লিখলেন নাকি না জেনে লিখলেন? Indigenous কথার অর্থ খুঁজতে ডিকশনারী ঘাঁটতে গিয়ে ওনার পছন্দ মতো অর্থ খুঁজে না পেয়ে মর্মাহত হয়েছেন।

জনাব প্রশান্ত ত্রিপুরা, ১৯৯৩ সালে আন্তর্জাতিক আদিবর্ষ উদযাপন উপলক্ষে “আন্তর্জাতিক আদিবাসী বর্ষ এবং বাংলাদেশের আদিবাসী জনগণ” শীর্ষক একটা নিবন্ধ লেখেন। নিবন্ধের শুরুতে অস্পষ্ট বিবরণের মাধ্যমে একটা যুক্তি দাঁড় করানোর চেষ্টা করেছেন। তিনি লিখেছেন, “কিছু শিল্পোন্নত দেশ Indigenous জনগোষ্ঠীর ধারণা এবং তাদের বিশেষ অধিকারের প্রশ্নকে রাষ্ট্রীয়ভাবে স্বীকৃতি দিলেও অন্য অনেক দেশে অনুরূপ কোন উদ্যোগ নেই।” তিনি পরিস্কার করে বলেননি যে, ‘কিছু শিল্পোন্নত দেশ’ অর্থাৎ অষ্ট্রেলিয়া, নিউজিল্যান্ড এবং আমেরিকার মতো আরো কিছু দেশে যেখানে এই স্বীকৃতি দেয়া হয়েছে সেখানে Indigenous-রা হলো Native, অর্থাৎ তারা ঐ ভূখণ্ডের আদি বাসিন্দা। ইউরোপিয়ানরা সাম্রাজ্য বিস্তারের জন্য নতুন নতুন ভূমি দখল করে ’বহিরাগত’ হিসেবে এসব অঞ্চলে গেঁড়ে বসে। এই সত্যটুকু পরিস্কারভাবে না লিখলে পাঠকের মনে বিভ্রান্তি সৃষ্টি হবে। Indigenous হিসেবে রাষ্ট্রের স্বীকৃতি না পাওয়ায় তিনি  আক্ষেপ করে লিখেছেন, ”কিন্তু একজন গারো, সাঁওতাল বা ম্রোর কাছে এই সরকারী ব্যাখ্যা তার অস্তিত্বকে অস্বীকার করারই নামান্তর।” আদিবাসী স্বীকৃতির অভাবে কিভাবে তাদের অস্তিত্ব সংকটে পড়ল তার ব্যাখ্যা নেই। শেখ মুজিবের ’বাঙালী’ করার ঘোষণা বাস্তবে তাদের অস্তিত্বের জন্য হুমকী হলেও রাজনৈতিক কারণে হয়তো তিনি এই সঠিক স্থানে আঘাত করতে সাহস পাননি।

জনাব ত্রিপুরার লেখায় আদিবাসী কথাটার অর্থ কি এবং বাংলাদেশে উপজাতি হিসেবে পরিচিত গোষ্ঠীগুলোকে আদৌ আদিবাসী বলা যায় কিনা প্রশ্নগুলো পরিস্কারভাবে করলেও উত্তরগুলো পরিস্কার নয়। সময়ের ’আপেক্ষিকতাকে’ ঢাল হিসেবে নিয়ে উনি এ অঞ্চলে পাহাড়ী নাকি বাঙালীরা আগে বসতি গড়ে সেই গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্নকে এড়িয়ে গেছেন। তিনি লিখেছেন, “অর্থাৎ স্থান ও কালের সীমানা কিভাবে বেঁধে দেওয়া হচ্ছে, তার উপরই নির্ভর করছে কোন প্রেক্ষিতে কাদের আমরা Indigenous বলতে পারি। আমরা যদি সুদূর প্রাগৈতিহাসিক অতীতে চলে যাই তাহলে Indigenous কথাটি অর্থহীন হয়ে দাঁড়ায়।”

বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে আদিবাসী বিতর্ক বিষয়ক স্থান তো নির্দিষ্ট। এবং ‘সময়’ সম্পর্কিত ধারণাও পরিস্কার। অর্থাৎ নির্দিষ্ট ভূখন্ডে আদিবাসীর দাবীদার যারা তারা কি ওখানে সংখ্যাগুরুর আগে এসেছিল নাকি পরে! বাঙালীদের আগমন আগে ঘটে থাকলে তারা ঐ অঞ্চলে পরে আসা অন্য জনগোষ্ঠীর ভূমির উপর অতিরিক্ত দাবীকে মেনে নেবে কেন? এভাবে বিভিন্নজনে আদিবাসী স্বীকৃতিকে পাকা করার জন্য বারবার অষ্ট্রেলিয়া, আমেরিকা এবং কানাডাকে টেনে আনলেও সেখানে স্বীকৃতি পাওয়া Indigenous-দের সাথে আমাদের এখানকার দাবীদারদের বৈশিষ্ট্যগত পার্থক্যকে তুলে ধরছেন না। সেটা পরিস্কার করলে তাদের দাবীটাই অসাড় হয়ে যায়। মানুষকে এতো সহজে তাদের দাবীর দিকে টেনে আনা যাবে না। মূলতঃ বাঙলাদেশে যারা আদিবাসী স্বীকৃতির জন্য লড়ছেন, তাদের কাছে ‘আবেগ’ এবং ‘পরদেশের’ উদাহরণ ছাড়া শক্ত কোন যুক্তি নেই।

একটা পর্যায়ে তিনি অত্যন্ত সুকৌশলে জাতিসংঘের আদিবাসী সংক্রান্ত দিক নির্দেশনা বা ধারণার একটা নিজস্ব সম্প্রসারিত ব্যাখ্যা দাঁড় করানোর চেষ্টা করেছেন যেখানে শব্দটির মূল দ্যোতনা ‘আদি’কেই অস্বীকার করা হয়েছে। ”কোন দেশে বিভিন্ন জনগোষ্ঠীর মধ্যে কাদের পূর্ব পুরুষেরা প্রথমে সেখানে বসতী গেড়েছিল, এ প্রশ্ন গৌণ, মূলত: পৃথিবীর বিভিন্ন দেশে তথাকথিত সভ্যতার বিকাশের শিকার tribal, primitive প্রভৃতি ঔপনেবিশিক আখ্যায় ভূষিত জনগোষ্ঠীদের সবাই Indigenous অভিধার বৈধ দাবীদার”।

সভ্যতার একই আক্রমণের শিকারতো আজ বিভিন্ন ধর্মীয় গোষ্ঠীও! তাহলে তারাও কি সেই একই দাবী করে বসবে? কিম্বা মায়ানমারের রোহিঙ্গারা? বরঞ্চ তার এই সম্প্রসারিত ব্যাখ্যার সূত্র ধরে এই জনগোষ্ঠীকে ‘প্রান্তিক জনগোষ্ঠী’ বলাই শ্রেয়। ‘বাংলাদেশী’ পরিচয় নির্ধারণেও তার কিছুটা আপত্তি আছে। তার ভাষায় এটা ‘আদিবাসীদের’ কথা ভেবে করা হয়নি। যে দেশটার নাম বাংলাদেশ, তার নাগরিকরা বাঙলাদেশী হবে না তো কি হবে? ভারতীয় নাগরিকদের ভারতীয়, পাকিস্তানীদের পাকিস্তানী বলা গেলে বাংলাদেশের নাগরিকরা তো বাংলাদেশীই হবে! পরোক্ষভাবে উনি কি দেশের নামটা পরিবর্তনের কথা বলছেন?  এথনিক পরিচয়ে জাতীয়তা এবং রাজনৈতিক সম্পর্কের মধ্যে গড়ে ওঠা জাতীয়তাবাদ বা ন্যাশনালিটির পার্থক্য নিশ্চয়ই উনি অনেকের চেয়ে ভাল বুঝেন। এভাবে ‘বাংলাদেশী’ পরিচয় নিয়ে সংশয়ে থাকার অর্থ প্রচ্ছন্নভাবে বিচ্ছিন্নতাবাদকেই ইঙ্গিত দেয়।

কিছু কিছু বাঙালীর এবং আরো বৃহত্তর পরিচয়ে বাংলাদেশীদের (কিছু কিছু) ’আবেগ’ সহজিয়া বা স্বাভাবিক নয়। এটা একধরনের ইমোশনাল ব্লাকমেইল।’ এদের আবেগ কোন ঘটনার কারণে স্বাভাবিকভাবে আসে না। কোন বিষয়কে নিজের অনুকূলে আনার জন্য এই বিশেষ ধরনের ’আবেগ’ উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে সৃষ্টি করা হয়। কেবলমাত্র মুক্তিযুদ্ধের পক্ষে আবেগ সৃষ্টি করে শাহবাগে লাখ লাখ মানুষ জড়ো করা গোষ্ঠী পরিশেষে কোটি কোটি টাকার মালিক হবার গল্প বাতাসে ওড়ে। একইভাবে আবেগের কৌশলী ব্যবহারের মাধ্যমে একটা গোষ্ঠী ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীকে ‘আদিবাসী’ স্বীকৃতি দিতে চায়।

শ্রদ্ধেয় আতাউস সামাদ তার এক লেখায় বিবিসির সাংবাদিক থাকাকালীন সময়ের কিছু অভিজ্ঞতা বর্ণনা করেন। সেই আশির দশকে যখন শান্তিবাহিনীর বিচ্ছিন্নতাবাদী আন্দোলন তুঙ্গে, সে সময় থাইল্যান্ড বা জাপানে বৌদ্ধ সম্মেলন হলে এই সশস্ত্র বিচ্ছিন্নতাবাদী আন্দোলনের সমর্থনে উদ্বেগ প্রকাশ করে যে বিবৃতি দেয়া হতো, মাঝে মাঝেই সেখানে লেখা থাকত ‘ওই এলাকায় বৌদ্ধদের উপরে অত্যাচার চলছে’। এভাবে বিচ্ছিন্নতাবাদী আন্দোলনের সমর্থনে একটা জনমত সৃষ্টিতে দেশের বাইরের একটা গোষ্ঠী বেশ সোচ্চার ছিল। এখন এর পরিধি অনেক বেড়েছে। দেশের ভিতরে তথাকথিত কিছু মানবাধিকার সংগঠন এবং কিছু ব্যাক্তি ‘আদিবাসী’ বিতর্ককে উস্কে দিচ্ছেন।

জনাব আতাউস সামাদ সন্দেহ প্রকাশ করে বলেন, ঐ এলাকার এতো হই হট্টগোলের প্রধান উদ্দেশ্য সম্ভবত সেখানে বসতী স্থাপনকারী বাঙালীদের ফিরে যেতে বাধ্য করা। তিনি দেখিয়েছেন ২০১০ সালের ফ্রেব্রুয়ারীতে উভয় সম্প্রদায়ের মধ্যে ঘটা গোলযোগকে কেন্দ্র করে যেটা হয়ে গেল সেখানে দেখা গেছে প্রশাসন শুধুমাত্র ক্ষতিগ্রস্ত পাহাড়ীদের মধ্যে ত্রাণ বিতরণ করে। অসহায় ক্ষতিগ্রস্ত বাঙালী নারী পুরুষ শিশু রাস্তার দু’পাশে সারিবদ্ধভাবে দাড়িঁয়ে থাকলেও তাদেরকে কোন ত্রাণ দেয়া হয়নি। বাঘাইহাটে বাঙালীদের যে ঘরবাড়ী পুড়িয়ে দেয়া হয়েছিল সেগুলো তখনো পর্যন্ত পাহাড়ীদের দখলে ছিল(বর্তমানের খবর জানা নেই আমার)। একই সূত্র থেকে জানা যায়, এক পাহাড়ীর কাছ থেকে বাঙালী জমি কিনলে তা তার দখলে না দিয়ে কোন এক এনজিওকে দিয়ে দেয়া হয়। শুরু হয় উত্তেজনা।

পাহাড়ের উত্তেজনার পিছনে এক তরফাভাবে বসতি স্থাপনকারী বাঙালী- বাংলাদেশীদের দোষ চাপানো সব সময় ঠিক নয়। এটাকে ন্যায়ের পক্ষে অবস্থান বলে না। কিছু কিছু পত্রিকা তাদের বিভিন্ন লেখায় সরকারী অবস্থান থেকে সরে গিয়ে ‘আদিবাসী’ শব্দটা ব্যবহার করে ধৃষ্টতার পরিচয় দিচ্ছে। এ রকমের একটা স্পর্শকাতর বিষয়ে রাষ্ট্রিয় সিদ্ধান্তের বাইরে তাদের নিজস্ব অবস্থান রাষ্ট্রিয় অবমাননা কিনা ভেবে দেখা জরুরী।

অনেকের মতো্ আমিও মনে করি, আদিবাসী স্বীকৃতির সাথে সাথেই সরকারের উপর আন্তর্জাতিকভাবে কিছু দায়িত্ব এবং বাধ্যবাধকতা চলে আসবে। প্রথমত: ভূমির উপরে অধিকারের বলে সেখানকার বাঙালী খেদাও আন্দোলন শুরু হবে। সেনা ক্যাম্প সরিয়ে নেয়ার দাবী উঠবে। বিভিন্ন দাবী দাওয়ার নামে পাহাড়ীদের একটা অংশ আন্দোলনের নামে যে বিচ্ছিন্নতার আন্দোলন শুরু করছে সেটা জোরদার করতে পারবে। আদিবাসী স্বীকৃতির সাথে সাথেই তাদের উপরে জাতিসংঘের একটা সরাসরি পর্যবেক্ষণ থাকবে এবং তারা তদারকি করার সুযোগ পাবে। এ সব ক্ষেত্রে জাতিসংঘের মতো পশ্চিমা লেজুড়বৃত্তিক সংগঠনগুলো যেটা করে সেটা হলো: শক্তিশালী রাষ্ট্রগুলোর জন্য এক নিয়ম আর আমাদের মতো দুর্বলদের জন্য আরেক নিয়ম। বিচ্ছিন্নতাবাদী আন্দোলন দমন করতে সামরিক পদক্ষেপ নিলে তখন তারা সরাসরি জাতিসংঘের প্রত্যক্ষ এবং পরোক্ষ মদদে ‘আদিবাসী’ বাঁচাও সুর তুলে সরকারের সাথে বিচ্ছিন্নতার দেনদরবার করার সুযোগ পাবে। দেশ রক্ষা করার জন্য জীবনবাজী রেখে পাহাড়ী অঞ্চলে মোতায়েনকৃত সৈন্যরা পরিচিত হবেন আগ্রাসী বাহিনী হিসেবে। বিচ্ছিন্নতাবাদীরা হবেন মুক্তিযোদ্ধা।

চলবে….

রেফারেন্স

 

এই লেখার আগের পর্বগুলো পড়ুন এখান থেকে

  1. আদিবাসী বিতর্ক ১ ও ২
  2. আদিবাসী সংজ্ঞায়নে অস্পষ্টতা রয়েছে
  3. দিবাসীর সংজ্ঞার আলোকে বাঙলাদেশে আদিবাসী কারা?