বিপন্ন মিয়ানমারের সাংবাদিকতা: সরকারের রোহিঙ্গা নীতি না মানলেই লাঞ্ছনা-হত্যার হুমকি

পার্বত্যনিউজ ডেস্ক:

রোহিঙ্গা সংকট নিয়ে প্রতিবেদন তৈরির ক্ষেত্রে মিয়ানমার সরকারের কঠোর সেন্সরশিপ আর লাঞ্ছনার শিকার হচ্ছেন দেশটির সাংবাদিকরা। এমনকি সরকারি নির্দেশ অমান্য করলে হত্যার হুমকিও দেওয়া হচ্ছে। কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরা’র অনুসন্ধানে বেরিয়ে এসেছে এমন তথ্য।

অনুসন্ধানী সংবাদমাধ্যম রাখাইন ইনভেস্টিগেটিভ এজেন্সি’র সম্পাদক ২৮ বছরের মিন মিন। ইয়াঙ্গুনের একটি ক্যাফেতে বসে রাখাইনে নিজের বাড়িতে বোমা হামলার সময়কার ছবিগুলো দেখছিলেন তিনি। তার ভাষায়, এটা একটা ঝুঁকিপূর্ণ কাজ। রাখাইন রাজ্যের প্রকৃত সত্য অনুসন্ধান করতে গেলে আমার জীবন বিপন্ন হতে পারে।

মিন মিন আল জাজিরা’কে বলেন, গতবছর রোহিঙ্গা সংকট নিয়ে প্রতিবেদন তৈরির সময় তিনি লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত হন। মিয়ানমারে চলমান মুসলিমবিরোধী সহিংসতার মুখে তার সম্পাদিত মাসিক ম্যাগাজিনটি সংখ্যালঘু এ জনগোষ্ঠীর মানুষদের নিয়ে লেখা কমিয়ে দিয়েছে। তিনি বলেন, ‘আমাদের নীরব থাকতে হবে। সচরাচর আমরা এসব সংবাদ সংগ্রহ করি না। কারণ আমাদের খুব সতর্ক থাকতে হয়।

মিয়ানমারের রোহিঙ্গা অধ্যুষিত রাখাইন রাজ্যে এমনিতেই সংবাদমাধ্যমের প্রবেশাধিকারে দেশটির সরকারের নিষেধাজ্ঞা রয়েছে। এক্ষেত্রে নিরাপত্তার অজুহাত দেখানো হলেও দৃশ্যত এর মাধ্যমে ওই অঞ্চলের প্রকৃত ঘটনা আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমের কাছ থেকে আড়াল রাখতে চায় কর্তৃপক্ষ। এরপরও আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমগুলোর অনুসন্ধানে যা বেরিয়ে এসেছে সেটাকে ‘ভুয়া খবর’ বলে অস্বীকার করতে চাইছে অং সান সু চি’র ডি ফ্যাক্টো সরকার।

মিয়ানমারের একজন মানবাধিকার কর্মী মং জারনি। আল জাজিরা’কে তিনি বলেন, গণহত্যার অংশ হিসেবে যেসব ঘটনা সংঘটনের জোরালো তথ্যপ্রমাণ রয়েছে সেগুলোও তারা অস্বীকার করে। শত শত নারীদের ওপর সংঘটিত অপরাধও তারা স্বীকার করতে রাজি নয়। ক্ষমতাসীন দলের নেত্রী অং সান সু চি এসব অপরাধযজ্ঞকে ভুয়া খবর, ভুয়া ধর্ষণ হিসেবে আখ্যায়িত করেন। তার অফিসিয়াল ফেসবুক পেজে ‘ভুয়া ধর্ষণ’-এর মতো শব্দ ব্যবহার করা হয়।

ছয়জন বার্মিজ সাংবাদিকের সঙ্গে কথা হয় আল জাজিরা’র। তারা জানান, রাখাইনের বাস্তব চিত্র তুলে আনার চেষ্টা করা সংবাদিকদের শুধু হয়রানি নয়; এমনকি হত্যার হুমকিও দেওয়া হয়। স্থানীয় সাংবাদিকরা বলছেন, এ ধরনের সেন্সরশিপ তাদের পেশাদারিত্বকে ক্ষতিগ্রস্ত করছে।

এই বাধা বা সেন্সরশিপ শুধু রাষ্ট্রীয়ভাবেই নয়। উগ্র বৌদ্ধ জাতীয়তাবাদীদের হাতেও সাংবাদিকদের নিগৃহীত হওয়ার নজির রয়েছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একজন সাংবাদিক বলেন, ‘সংবাদমাধ্যমে প্রকাশের জন্য একটা প্রতিবেদন লিখতে গেলে আপনার নিজেকে আবদ্ধ, বাধাপ্রাপ্ত ও আটকেপড়া মনে হবে। এই ভয় সবসময়ই আপনার মধ্যে কাজ করবে যে, লোকজনের কাছে এর প্রতিক্রিয়া কেমন হবে? তারা কি আবারও আমাকে অনলাইনে গালি দিয়ে বেড়াবে? এমন ঘটনাগুলো সরাসরি সাংবাদিকদের কাজকে প্রভাবিত করে।

 

সূত্র: বাংলা ট্রিবিউন

Print Friendly, PDF & Email
Facebook Comment

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আরও পড়ুন