১২ বছরেও মেরামত হয়নি চকরিয়া সরকারি হাসপাতালের এক্সরে মেশিন


চকরিয়া প্রতিনিধি:

কক্সবাজারের চকরিয়া উপজেলার ৫০ শয্যা বিশিষ্ট সরকারি হাসপাতালের চিকিৎসা-সেবার উপর নির্ভরশীল ১৮টি ইউনিয়ন ও একটি পৌরসভার অন্তত পাঁচ লাখ জনসাধারণ।

যোগাযোগ ব্যবস্থার অগ্রগতির কারণে এ হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে আসেন পাশের উপজেলা পেকুয়া, মহেশখালী, কুতুবদিয়া ও বান্দরবানের লামা এবং আলীকদমের হাজারো মানুষ। চিকিৎসাখাতে অতীব গুরুত্বপূর্ণ চকরিয়া উপজেলা হাসপাতালে সেবা নিশ্চিত করতে গিয়ে কর্তব্যরত চিকিৎসকরা রীতিমত হিমশিম খাচ্ছেন বলে অভিযোগ রয়েছে।

অবশ্য হাসপাতালে ৩২জন চিকিৎসকের পদ থাকলেও কর্মরত রয়েছেন মাত্র ১১জন চিকিৎসক। অভিযোগ উঠেছে, ১১ জনের মধ্যে বর্তমানে অন্তত পাঁচজন চিকিৎসক মাস শেষে সরকারি বেতন-ভাতা হাসপাতাল থেকে গ্রহণ করলেও তাঁরা দায়িত্ব পালনের ক্ষেত্রে চরম পুকুরচুরির আশ্রয় নিয়েছেন। অভিযুক্ত পাঁচজন চিকিৎসক চট্টগ্রাম ও কক্সবাজারের বিভিন্ন প্রাইভেট হাসপাতালে চেম্বারে বসে রোগী দেখে সুফল ভোগ করছেন। পক্ষান্তরে তাঁরা চকরিয়া উপজেলা হাসপাতালে নিয়মিত উপস্থিতি ও রোগীদের সেবা নিশ্চিতের ক্ষেত্রে প্রক্সি দিচ্ছেন। ঘটনাটি অনেকদিন ধরেই ঘটছে। এসব অভিযোগ স্থানীয় সচেতন মহলের।

চকরিয়া সরকারি হাসপাতালে কর্মরত পাঁচজন চিকিৎসকদের দায়িত্ব পালনে অবহেলার পাশাপাশি রোগীদের কল্যাণে সরকারের ৫০ লক্ষাধিক টাকা বরাদ্দে বসানো নতুন এক্সরে মেশিনটি বিকল হয়ে পড়ে আছে প্রায় ১২বছর আগে। বিষয়টি নিয়ে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ দফায় দফায় মন্ত্রণালয়ে চিঠি পাঠালেও কোনো সুফল মেলেনি। ফলে ১৮টি ইউনিয়ন ও একটি পৌরসভা নিয়ে গঠিত বিশাল উপজেলার হাজার হাজার সেবাগ্রহীতা চরম দুর্ভোগের শিকার হচ্ছেন।

চকরিয়া সরকারি হাসপাতাল সূত্র জানায়, স্বাস্থ্য অধিদপ্তর ২০০০ সালের ৭ নভেম্বর হাসপাতালে ৩শ এমএম এর একটি এক্সরে মেশিন সরবরাহ করে। এটি সচল করা হয় ২০০২ সালের ২২ আগস্ট। কয়েক বছর ঠিকটাক মতো চলার পর ২০০৫ সালের ৬ মে এক্সরে মেশিনে যান্ত্রিক ত্রুটি দেখা দেয়। পরে সেটি আর সচল করা সম্ভব হয়ে উঠেনি।

এদিকে ২০১২ সালে এই এক্সরে মেশিনটির টেকনিশিয়ান মো. মোশারফ হোসেন অন্যত্র বদলি হয়ে চলে গেলে তখন থেকেই শূন্য অবস্থায় আছে সেই পদটিও।

চকরিয়া উপজেলা দূর্নীতি প্রতিরোধ কমিটির (দূপ্রক) সভাপতি মোহাম্মদ নোমান বলেন, ‘সরকারি হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে গেলে সংশ্লিষ্ট রোগীর রোগ নিরূপন করতে চিকিৎসকেরা এক্সরে করাতে বলেন। কিন্তু হাসপাতালের এক্সরে মেশিনটি অচল থাকার কারণে সেবা গ্রহীতাদের বাধ্য হয়ে বাইরের ডায়াগনস্টিক সেন্টারে দৌঁড়াতে হয়।

তিনি অভিযোগ তুলেছেন, প্রাইভেট ডায়াগনস্টিক সেন্টারে রোগ নিরূপনের পরীক্ষা-নিরীক্ষা করতে গিয়ে উল্টো অতিরিক্ত টাকা গুনতে গুনতে সেবা গ্রহীতারা ফতুর হচ্ছেন। আবার সময় মতো রির্পোটও হাতে পান না রোগীরা।

চকরিয়া সরকারি হাসপাতালের আবাসিক চিকিৎসা কর্মকর্তা (আরএমও) শোভন দত্ত বলেন, ‘৫০ লক্ষাধিক টাকায় কেনা ৩০০ এমএম এর এই বিকল এক্সরে মেশিনটি মেরামত করতে ২১ লাখের বেশি টাকা দরকার। হাসপাতালে এক্সরে মেশিন সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠান সিমেন্স কোম্পানির প্রতিনিধিদল ২০০৮ সালে সরেজমিনে পরিদর্শন করে মেরামতের জন্য এ খরচের তালিকা দেন।

তিনি বলেন, বিষয়টি নিয়ে ইতোপূর্বে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ দফায় দফায় মন্ত্রণালয়ে চিঠি পাঠালেও কোনো সুফল আসেনি। ফলে চিকিৎসাসেবা গ্রহনকারীদের বাইরে গিয়ে এক্সরে করতে হচ্ছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *