১০ মাস কমিটি শূন্য কুতুবদিয়া উপজেলা ছাত্রলীগের


ছাত্রলীগ

কুতুবদিয়া প্রতিনিধি:

কক্সবাজারের কুতুবদিয়া উপজেলা ছাত্রলীগের কমিটি নেই ১০ মাস ধরে। ফলে জাতীয় কর্মসূচিসহ সাংগঠনিক কার্যক্রম স্থবির হয়ে পড়েছে। এক প্রকার হতাশায় দিন কাটছে স্থানীয় ছাত্রলীগের নেতা কর্মীদের। জেলা ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি নুরুল আজিম কনক ও সাধারণ সম্পাদক এম.এ মন্জুর কর্তৃক অনুমোদন দেয়া ৪১ সদস্য বিশিষ্ট কুতুবদিয়া উপজেলা ছাত্রলীগের আহ্বায়ক কমিটি দীর্ঘ ৬ বছরেও পূর্ণাঙ্গ কমিটি গঠন করতে পারেনি।

২০১০ সালের ২৩ মে উপজেলা ছাত্র লীগের আহ্বায়ক কমিটি অনুমোদন দেয়া হয়েছিল। এ আহ্বায়ক কমিটির সাংগঠনিক তৎপরতা কার্যক্রম ভালভাবে চলে আসলেও দীর্ঘ ৬ বছরে পুর্ণাঙ্গ কমিটি গঠনে ব্যর্থ হওয়ায় বর্তমান নব নির্বাচিত জেলা কমিটি উপজেলা কমিটি গঠনে বার বার তাগিদ দেন। তবে দলীয় কিছু গ্রুপিং ও অন্তঃকলহে কমিটি গঠনে সামর্থ হয়নি আহ্বায়ক কমিটি। যে কারণে জেলা ছাত্র লীগের সিদ্ধান্ত অনুযায়ি সভাপতি ইশতিয়াক আহমেদ জয় ও সাধারণ সম্পাদক ইমরুল হাসান রাশেদ স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তির মাধমে গত বছর (২০১৫) ১৪ সেপ্টেম্বর কুতুবদিয়া উপজেলা ছাত্র লীগের আহ্বায়ক কমিটি বিলুপ্ত ঘোষণা করেন।

অপর দিকে দু‘টি ইউনিয়নে ছাত্র লীগের কমিটি গঠিত হলেও বাকিগুলোর অবস্থা হ-য-ব-র-ল। উপজেলার সিনিয়র নেতারা পদ হারা হয়ে অলস দিন কাটাচ্ছে। কেউবা অবস্থা বুঝে যুব লীগে দায়িত্ব নিচ্ছেন। সাবেক নেতাদের কেউ বলছেন মূল দল তাদেরকে মূল্যায়ন করছেনা কিংবা প্রয়োজন বোধ করছেনা। যে কারণে শক্তিশালী ছাত্র লীগের কর্মতৎপরতা এখন স্থবির বলে স্বীকার করেন একাধিক সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক। উপজেলাা কমিটি গঠনের লক্ষ্যে সভাপতি সাধারণ সম্পাদক সহ বিভিন্ন পদ প্রাপ্তির আশা নিয়ে প্রায় অর্ধশত নেতার বায়োডাটা জেলা নেতৃবৃন্দের কাছে জমা হয়েছে বলে একজন ছাত্রনেতা জানান।

বড়ঘোপ ইউনিয়ন ছাত্রলীগের সভাপতি শাখাওয়াত হোছাইন বলেন, উপজেলা কমিটি না থাকায় মূলত: নেতৃত্ব শূন্য হয়ে পড়েছে কুতুবদিয়া। উপজেলা কমিটি হলে ইউনিয়ন কমিটিগুলো শক্তিশালী করা ছাড়াও উপজেলা কমিটিকে সাংগঠনিক কর্মসূচিতে সহযোগীতা করা যায়।তিনি মাঠের প্রকৃত ছাত্রদের নিয়ে উপজেলা কমিটি আশা করছেন বলে জানান।

উপজেলা ছাত্রলীগের সাবেক সদস্য এসকেএস রণি বলেন, ১০ মাস যাবৎ কমিটি না থাকায় ছাত্রলীগের কার্যক্রম নেই । বরং ভেতরে ধীরে ধীরে অন্তঃগ্রুপিং এর দানা দেখা দিচ্ছে বলে তিনি মনে করেন। তবে উত্তর জোনের ৩টি ইউনিয়ন নেতা-কমীদের একতা রাখার চেষ্টা করে যাচ্ছেন। জেলা নেতৃবৃন্দকে দ্রুত কমিটি গঠনে কার্যকরি ভূমিকা রাখারও আহ্বান জানান তিনি।

ছাত্রলীগের সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক (বর্তমানে বড়ঘোপ ইউনিয়ন যুবলীগের আহ্বায়ক) আরিফুল ইসলাম বলেন, কমিটি না থাকায় ছাত্রলীগের কার্যক্রম বন্ধ এটা ঠিক নয়। তবে স্থবির হয়ে আছে সেটা ঠিক। বঙ্গবন্ধুর লড়াকু সৈনিকদের কাজে থাকতে হবে। সেজন্য দ্রুত কমিটি প্রয়োজন বলে তিনি মনে করেন।

দীর্ঘ ১০ মাস ছাত্র লীগের কমিটি না থাকায় সাংগঠনিক কার্যক্রম ব্যহত হওয়ার কথা জানিয়ে সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক মো. শাহেদ কুতুবী বলেন, উপজেলা কমিটি প্রদানে জেলা নেতৃবৃন্দের সম্পূর্ণ এখতিয়ার। তবে যাদের ছাত্রত্ব আছে এব মাঠের অভিজ্ঞ কর্মী তাদের হাতেই জেলা নেতৃবৃন্দ উপজেলা ছাত্র লীগের নেতৃত্ব তুলে দেবেন এমনটি আশা করেন তিনি।

উপজেলা ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি বেলাল হোসেন বলেন, আহ্বায়ক কমিটি বিলুপ্তির পর ঝিমিয়ে পড়েছে দ্বীপের ছাত্রলীগের তৎপরতা। যোগ্য নেতার অভাবে প্রায় নেতৃত্বশূন্য অবস্থা বিরাজ করছে বলে তিনি মনে করেন।

উপজেলা ছাত্রলীগের সাবেক আহ্বায়ক সেলিম উদ্দিন লিটন বলেন, নানা কারণে উপজেলা ছাত্রলীগের কমিটি গঠন করা সম্ভব হয়নি। তবে আহ্বায়ক কমিটির কার্যক্রম বেশ চাঙা ছিল। এটি বিলুপ্তি ঘোষনার পর সাংগঠনিক দায়মুক্তি অবস্থা বিরাজ করছে। কার্যক্রম নেই, মূলদলও ছাত্রলীগকে সহযোগীতায় ডাকছেনা। স্থানীয় নেতৃবৃন্দ গ্রুপে গ্রুপে জেলা নেতৃবন্দের সাথে সাক্ষাতে ব্যস্ত থাকলেও উপজেলায় তারা কর্মহীন। ফলে দ্রুত কমিটি হওয়া প্রয়োজন। জেলা ছাত্রলীগের যোগ্য নেতৃবৃন্দ ইচ্ছে করলেই ত্যাগী ও প্রকৃত ছাত্রনেতাদের সমন্বয়ে সবার গ্রহণযোগ্য একটি কমিটি দিতে পারেন। তিনি এমনটিই আশা করেন জেলা নেতৃবৃন্দের কাছে। তবে আগামী এক সপ্তাহের মধ্যে উপজেলা কমিটি হতে পারে বলেও তিনি মন্তব্য করেন।

image_pdfimage_print

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *