সড়ক ও সামাজিক বনায়নের গাছ কেটে লুটের মহোৎসব


chakaria-picture-22-10-2016

চকরিয়া প্রতিনিধি :
কক্সবাজারের চকরিয়ায় প্রকাশ্য দিবালোকে সড়ক বনায়ন ও সামাজিক বনায়নের গাছ কেটে লুটের মহোৎসব চলছে। বনবিভাগের নির্লিপ্তার সুযোগে স্থানীয় প্রভাবশালী আওয়ামীলীগ নেতার ছত্রছায়ায় পাচারকারী চক্রের সদস্যরা বর্তমানে প্রায় প্রতিদিনই কেটে নিয়ে যাচ্ছে চিরিঙ্গা-মগনামা সড়কের বরইতলী নতুন রাস্তা থেকে পহঁরচাদা মাদরাসা পর্যন্ত এলাকার সড়ক বনায়নের মূল্যবান গাছ। এতেকরে বনায়নের অংশিদার উপকারভোগী সদস্যদের মাঝে চরম ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। একই সাথে গাছ লুটের কারণে বর্তমানে শোভাবর্ধন হারাতে চলছে সড়কটি এমন অভিযোগ স্থানীয় পরিবেশ সচেতন মহলের।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ২০১০-১১ অর্থবছরে চট্টগ্রাম দক্ষিণ বনবিভাগের অধীন পেকুয়ার বারবাকিয়া রেঞ্জের চকরিয়া উপজেলার পহঁরচাদা বনবিট ১০ কিলোমিটার সড়কে বনায়ন করে তা স্থানীয় ৫০জন উপকারভোগীর মাঝে বরাদ্দ দেন। সেইসময় সড়কের দুই পাশে রোপন করা হয় আকাশমনি, অর্জুন, রেনট্রি, চাম্পাফুল, বট ও বাবলাসহ হরেক প্রজাতির গাছের চারা।

সড়ক বনায়নের অংশিদার স্থানীয় একাধিক উপকারভোগী জানান, বনবিভাগের পক্ষ থেকে চারা রোপনের পর তাদের হাতে বনায়নের দলিল হস্তান্তর করা হয়েছে। এরপর থেকে তাঁরা বনায়নের গাছ গুলো রক্ষনাবেক্ষনে কায়িক প্ররিশ্রম করে আসছেন। উপকারভোগীরা জানান, বর্তমানে ৬ বছরের ব্যবধানে তাদের বনায়নের বেশির ভাগ বেশিরভাগ গাছ বড় হয়েছে। কিন্তু বিগত কয়েকমাস ধরে স্থানীয় এক প্রভাবশালী আওয়ামীলীগ নেতার ছত্রছায়ায় পাচারকারী চক্রের সদস্যরা অনেকটা প্রকাশ্য দিবালোকে সড়কের গাছ কেটে লুটে নিয়ে যাচ্ছে।

স্থানীয় সড়ক ও সামাজিক বনায়নের অংশিদাররা অভিযোগ করেছেন, বনবিভাগের অসহযোগিতার কারনে সুযোগ নিয়ে স্থানীয় দা বাহীনির প্রধান মহিউদ্দিন প্রকাশ কানা মহিউদ্দিন ও তার সহযোগিরা সড়ক বনায়নের পাশাপাশি পহরচাঁদা বনবিটের অধীন সামাজিক বনায়নের গাছ কেটে লুটের মহোৎসবে মেতে উঠেছে। বর্তমানে তাঁরা বনায়নের গাছ লুটের পাশাপাশি পাহাড় দখল করছে। একই সাথে দা বাহীনির সদস্যরা বনবিভাগের পাহাড় দখল করে তা ছোট ছোট ঘর তৈরি করে প্লট আকারে বিক্রি করছে। এতেকরে হাতিয়ে নিচ্ছে ঘরপ্রতি একলাখ থেকে দুই লাখ টাকা।

বনায়নের অংশিদার উপকারভোগী ও স্থানীয় লোকজনের দাবি, সড়ক বনায়ন ও সামাজিক বনায়নের গাছ লুটের মাধ্যমে বিক্রি এবং পাহাড় দখল করে প্লট আকারে বিক্রি করে হাতিয়ে নেয়া সিংহ ভাগ টাকা যাচ্ছে আওয়ামীলীগের স্থানীয় ওই নেতার পকেটে। এ অবস্থার কারনে প্রকাশ্য দিবালোকে গাছ কাটা ও পাহাড় দখলের মহোৎসব অব্যাহত থাকলেও উপকারভোগী লোকজন জীবন-মৃত্যুর ভয়ে এসবের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করার সাহস পাচ্ছেনা। এব্যাপারে তাঁরা বনবিভাগের উর্ধবতন কর্মকর্তাদের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।
জানতে চাইলে চট্টগ্রাম দক্ষিন বনবিভাগের পেকুয়ার বারবাকিয়া রেঞ্জের কর্তব্যরত রেঞ্জ কর্মকর্তা উত্তর কুমার পাল বলেন, চকরিয়া উপজেলার পহঁরচাদা বনবিটের অধীন সড়ক বনায়নের গাছ নিধনের ঘটনায় ইতোমধ্যে সাতটি মামলা দায়ের করা হয়েছে জড়িত চোরদের বিরুদ্ধে। একই সাথে সামাজিক বনায়নের গাছ লুট ও বনভুমি দখলের ঘটনায় অন্তত ১৯টি মামলা রুজু করেছে বনবিভাগ। এরপর থেকে সড়ক ও সামাজিক বনায়নের গাছ কাটা এবং পাহাড় দখল অনেকটা বন্ধ হয়ে গেছে। তিনি বলেন, নতুন করে সড়কের কয়েকটি গাছ কেটে লুটের ঘটনা ঘটেছে। এতে কাঁরা জড়িত তা সনাক্ত করতে স্থানীয় বনবিটের কর্মকর্তাকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যানের কাছ থেকে জড়িত চোরদের পরিচয় নিশ্চিতের জন্য সহযোগিতা চাওয়া হয়েছে। নাম গুলো সনাক্ত হলেই তাদের বিরুদ্ধে নতুন মামলা দেওয়া হবে।

রেঞ্জ কর্মকর্তা আরো বলেন, গাছ লুট ও বনভূমি দখলের ঘটনায় জড়িতরা বেশিরভাগই স্থানীয়ভাবে প্রভাবশালী, আবার আওয়ামীলীগ নেতাদের ছত্রছায়ায় থাকে। এমন ঘটনাও আছে বনায়নের উপকারভোগীরা নিজেরটি অক্ষত রেখে অন্যজনের বাগানের গাছ কেটে লুটে বিক্রি করে। পরে তাঁরা সব দোষ বনবিভাগের ওপর তুলে দেয়।

চট্টগ্রাম দক্ষিন বনবিভাগের বিভাগীয় বনকর্মকর্তা (ডিএফও) রফিকুল ইসলাম চৌধুরী বলেন, সড়ক ও সামাজিক বনায়নের গাছ লুট ও বনভূমি দখলে জড়িতদের কোনভাবে ছাড় দেওয়া হবে না। ইতোমধ্যে যাঁরা দখল ও লুণ্ঠনে জড়িত ছিল তাদের বিরুদ্ধে মামলা দেওয়া হয়েছে। তিনি বলেন, নতুন করে এ ধরণের ঘটনা ঘটে থাকলে এব্যাপারে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়ার জন্য বারবাকিয়া রেঞ্জ কর্মকর্তাকে এখনই নির্দেশ দেওয়া হচ্ছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *