সাজেকে প্রথমবারের মত নদীতে ফুল ভাসানোর মধ্য দিয়ে বৈসাবি উৎসব


b (1) (1) copy

সাজেক প্রতিনিধি:

১৯০টিরও বেশি গ্রাম ৬০৭ বর্গমাইল এলাকা জুড়ে সাজেকে প্রথমবারের মত ব্যাপক উৎসাহ উদ্দীপনার মধ্য দিয়ে বুধবার ভোরে কাচালং নদীতে ফুল ভাসানোর মধ্য দিয়ে শুরু হয়েছে পাহাড়ি জনগোষ্ঠীর ঐতিহ্যবাহী প্রধান সামাজিক ও প্রাণের উৎসব ‘বৈসাবি’।

ফুল বিঝুকে কেন্দ্র করে নদীর পাড়গুলো হাজারো তরুণ-তরুণীর মিলন মেলায় পরিণত হয়। নদীতে ফুল ভাসোনোর পর শিশু কিশোর, তুরুণ-তরুণী বৃদ্ধরাসহ গ্রাম থেকে গ্রামে ৩-৪কিলো হেঁটে র‌্যালি করেছে প্রতিটি গ্রামের লোকজন।

কোন বাঁধা বিপত্তি ছাড়া সাজেকের পাহাড়ি জনগোষ্ঠী এ প্রথম উন্মুক্ত ভাবে আনুষ্ঠানিক উৎসবের মধ্য দিয়ে ঐতিহ্যবাহী প্রধান সামাজিক ও প্রাণের উৎসব ‘বৈসাবি’ পালন করছে।

অদৃশ্য শক্তির প্রভাবে অতীতে শান্তি-সম্প্রীতি-সংস্কৃতি প্রিয় এ জনগোষ্ঠী ইচ্ছা থাকা সত্বেও পালন করতে পারেনি তাদের এ প্রানের উৎসব বৈসাবি। নিরাপত্তাবাহিনীর তৎপরতায় অদৃশ্য শক্তি এবার বাঁধা সৃষ্টি করতে পারেনি বলেই এ উৎসবের আমেজ প্রতিটি গ্রামে ছড়িয়ে নব জীবনের উন্মাদনা সৃষ্টি হয়েছে বলেও মনে করছেন স্থানীয়রা।

পাহাড়ি সম্প্রদায়ের তরুণ-তরুণী, ছোট ছোট ছেলে-মেয়েরা ফুল তুলে গঙ্গা দেবীর উদ্দেশ্যে নদী-খালে ভাসিয়ে পুরাতন বছরের গ্লানি মুছে নতুন বছরের শুভ কামনায় নিজেদের পবিত্রতা কামনা করে।

বৈসাবি উৎসবকে আরও আনন্দ মুখর করতে প্রতিটি গ্রামে বিভিন্ন ধরনের খেলাধুলাসহ সাংস্কৃতিক ও পুরষ্কার বিতরণী অনুষ্ঠানেরও আয়োজন করা হয়েছে।

ফুল বিজু, মূলবিজু ও বিচিকাতাল নামে নিজস্ব বৈশিষ্ট্যতায় এ উৎসবে আনন্দের আমেজ ছড়ায়। ত্রিপুরা ভাষায় এ উৎসবকে বৈসু, মারমা ভাষায় সাংগ্রাই এবং চাকমা ভাষায় বিজু বলা হয়। ত্রিপুরা, মারমা ও চাকমা এ তিন সম্প্রদায়ের উৎসবের নাম একত্র করে বৈসাবি শব্দটির উৎপত্তি।

b (2) (2) copy

ত্রিপুরা ও চাকমা সম্প্রদায় বুধবার ফুল বিজু পালন করছে। রাতে উড়বে হাজারো ফানুস বাতি। আগামীকাল বৃহস্পতিবার মূল বিঝু আর পহেলা বৈশাখ বা গজ্জাপয্যা পালন করবে। ঐদিন ঘরে ঘরে চলবে অতিথি আপ্যায়ন। ত্রিপুরা সম্প্রদায় হারিবৈসু, বিযুমা, বিচিকাতাল। শুক্রবার মারমা সম্প্রদায় সাংগ্রাই উৎসবে ঐতিহ্যবাহী জলকেলি বা পানি খেলা হওয়ার কথা থাকলেও সাজেকে মারমা সম্প্রদায়ের লোকজন না থাকায় সাংগ্রাই উৎসবটি এখানে পালন হচ্ছেনা।

পাশাপাশি তঞ্চঙ্গ্যা, বম, খিয়াং, লুসাই, পাংখোয়া, ম্রো, খুমি, আসাম, চাক ও রাখাইনসহ ১৩টি ক্ষুদ্র নৃ-জনগোষ্ঠী তাদের ভাষা-সংস্কুতি ও অবস্থানকে বৈচিত্রময় করে তুলতে প্রতি বছর চৈত্রের শেষ দিন থেকে ‘বৈসাবি’ উৎসব পালন করে থাকে।

এবিষয়ে সাজেক ইউপি চেয়ারম্যান নেলশন চাকমা বলেন, এবারই প্রথম সাজেকের জনগণ এতো উৎসব মুখর পরিবেশে বৈসাবি উৎসব পালন করছে। ঐতিহ্য ও সংস্কৃতি অনুষ্ঠান উন্মুক্ত ভাবে পালনের ফলেই একজন আরেকজনের প্রতি ভাতৃত্ব ও মূল্যবোধ সৃষ্টি করে, আর নতুন বছর সকলের জন্য মঙ্গল বয়ে আনুক এ কামনাই করি।

নিরাপত্তাবাহিনী সূত্র জানায়, সাজেকে সকল সম্প্রদায়ের জনগোষ্ঠী বৈসাবি উসৎব  যেন নির্বিঘ্নে সম্পন্ন করতে পারে তার জন্য সমগ্র সাজেক জুড়ে যৌথ বাহীনির তিন স্তরের নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে, কোথাও কোন রকম বিশৃঙ্খলা করার চেষ্টা করলে বা কেউ বাঁধা দিলে সাথে সাথে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে অবহিত করতে স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের বলা হয়েছে বলেও জানায় সূত্রটি।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *