মিয়ানমার সীমান্তে সন্ত্রাসী হামলায় ৯ বিজিপি ৮ হামলাকারী নিহত: ৬৪ আগ্নেয়াস্ত্র ১০ হাজার গুলি লুট


two-arrested

নিজস্ব প্রতিনিধি:

বাংলাদেশের সীমান্তবর্তী মিয়ানমারের মংডু এলাকার ট্যানাইসুট, কাউয়ারবিল ও নাকফুরায় তিনটি বিজিপি ক্যাম্পে অস্ত্র লুট ও পুলিশ সদস্য নিহতের ঘটনায় বাংলাদেশ-মিয়ানমার নৌ চলাচল ট্রানজিট বন্ধ রয়েছে এবং সীমান্ত এলাকায় বিজিবির টহল জোরদার করা হয়েছে। এতে করে মিয়ানমারের ঘটনায় টেকনাফ সীমান্ত এলাকায় তেমন কোন প্রভাব পড়েনি।

মিয়ানমারের আরাকান রাজ্যের বাংলাদেশ-মিয়ানমার বর্ডার সংলগ্ন মংডু ও রাথেডং শহরের বর্ডার গার্ড পুলিশের(বিজিপি) তিনটি পোস্টে হামলার ঘটনায় পুলিশ ২ সন্দেহভাজন বাঙালীকে আটক করেছে।

রবিবার রাত ১.৩০ থেকে ৪.৩০ মিনিটে সংঘটিত এই হামলায় মিয়ানমার পুলিশের ৯ সদস্য ও ৮ হামলাকারী নিহত হয়েছে, ৫ বিজিপি সদস্য আহত এবং ২ হামলাকারীকে গ্রেফতার করা হয়েছে। প্রায় ২৫০ হামলাকারী এ হামলায় অংশ নিয়েছিল। এদের মধ্যে ২৪০ জন হামলাকারী ৬৪ টি আগ্নেয়াস্ত্র ও ১০ হাজার গুলি লুট করে নদী পথে পালিয়ে যায় বলে মিয়ানমারের সরকারী সূত্র স্বীকার করেছে।

আরাকান রাজ্য সরকারের সচিব ইউ টিন মং শোয়ে বলেন, ধৃতরা এ ঘটনায় তাদের সম্পৃক্ততার কথা স্বীকার করেছে এবং তিন মাস ধরে স্থানীয়দের সহায়তায় এ হামলার পরিকল্পনা করা হয়েছে।

পুলিশ এ ঘটনায় রোহিঙ্গা ও স্থানীয় মুসলিমদের দায়ী করলেও রাজ্য সরকারের সচিব ইউ টিন মং জানান, হামলাকারী কারা তা এখনো সনাক্ত করা সম্ভব হয়নি। এমনকি রোহিঙ্গাদের জড়িত থাকার ব্যাপারেও নির্ভরযোগ্য কোনো তথ্য পাওয়া যায় নি।

এ ঘটনায় বাংলাদেশে-মিয়ানমার সীমান্ত গেইট ও শতাধিক স্কুল বন্ধ করে দেয়া হয় এবং স্থানীয়ভাবে কারফিউ জারী করা হয়।

স্থানীয়ভাবে নিরাপত্তা বাহিনীর টহল বাড়ানো হয়েছে এবং মিয়ানমার নৌবাহিনীকে সতর্ক রাখা হয়েছে যাতে কোনো অপরাধী পালিয়ে না যেতে পারে।

এ প্রসঙ্গে টেকনাফস্থ বিজিবি ২ ব্যাটালিয়ন অধিনায়ক লে. কর্ণেল আবুজার আল জাহিদ মিয়ানমারের ঘটনা প্রসঙ্গে সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, মংডুস্থ কাউয়ারবিল বিজিপি সদর দফতর থেকে বিজিবিকে অনুরোধ করে  জানানোর পর থেকে হামলাকারীরা যাতে বাংলাদেশে অনুপ্রবেশ করতে না পারে সে ব্যাপারে বিজিবির সহায়তা কামনা করা হয়েছে।

তাদের অনুরোধের প্রেক্ষিতে সীমান্ত এলাকায় বিজিবির টহল জোরদার করা হয়েছে। সীমান্ত এলাকায় নজরদারীতে রাখা হয়েছে। সেই সাথে বাংলাদেশ থেকে কোন  ট্রানজিট বোট মিয়ানমার যায়নি এবং মিয়ানমার থেকে কোন ট্রানজিট পাস নিয়ে বাংলাদেশে আসেনি।  এছাড়া যে কোন ধরনের অনাকাঙ্খিত ঘটনা এড়াতে নাফ নদীতে জেলেদের মৎস্য শিকারের উপর মৌখিক নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়েছে বলেও জানান তিনি।

টেকনাফ স্থল বন্দরের অভিবাসন কর্মকর্তা (ভারপ্রাপ্ত দায়িত্ব) আনোয়ার হোসেন জানান, রবিবার মিয়ানমার হতে কোন অভিবাসন যাত্রী বাংলাদেশে আসেনি এবং বাংলাদেশ হতে মিয়ানমারে কোন যাত্রী গমন করেনি। এছাড়া টেকনাফ পৌরসভার চৌধুরী পাড়া ট্রানজিট জেটি দিয়ে প্রতিদিন পারাপার করা উভয় দেশের লোকের একদিনের যাতায়াত বন্ধ ছিল।

টেকনাফ স্থল বন্দর কাস্টমস কর্মকর্তা আব্দুল মন্নান জানান, মিয়ানমারের পন্যবাহী কোন ট্রলার স্থল বন্দরে  প্রবেশ করেনি।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *