শোক শ্রদ্ধা ও শপথে পালিত হলো ভূষণছড়া গণহত্যা দিবস


926vvvvvvvvvvvvvvvvvvv

পার্বত্য চট্টগ্রামের সকল গণহত্যার বিচার ও ভূমি কমিশন আইনের খসড়া সংশোধন বাতিলের দাবি

আলমগীর মানিক, রাঙামাটি: 
ভূষণছড়াসহ পার্বত্য চট্টগ্রামের সকল গণহত্যার বিচার ও পার্বত্য ভূমি কমিশন আইনের খসড়া সংশোধন আইন বাতিলের দাবী জানানোর মধ্যদিয়ে রাঙামাটির বরকলে পালন করা হয়েছে ভূষণছড়া গনহত্যা দিবস। শুক্রবার এ দিবসটি উপলক্ষে বরকলের ভুষনছড়ায় শহীদদের গণকবর জিয়ারত, দোয়া মাহফিল, শোকসভা ও তবারোক বিতরণ কর্মসুচি পালন করা হয়। পার্বত্য যুব ফ্রন্টের উদ্যোগে আয়োজিত এসব কর্মসুচিতে হাজারো মানুষ অংশগ্রহণ করে।

সকাল ১১টায় ভূষণছড়া ফারুক-ই- আযম মাদ্রাসা প্রাঙ্গনে শহীদদের গণকবর জিয়ারতের মধ্যদিয়ে কর্মসুচির সূচনা হয়। এসময় বৃষ্টি উপেক্ষা করে গণকবরের পাশে হাজারো শোকার্ত ও স্বজন হারানো মানুষ ভীড় জমায়। কান্নায় ভেঙ্গে পড়েন অনেকে। আবারো দাবী উঠে গণহত্যার বিচার চাই।

এরপর অনষ্ঠিত হয় শোক সভা। পার্বত্য যুব ফ্রন্ট বরকল উপজেলা কমিটির আহবায়ক খলিলুর রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত শোক সভায় প্রধান অতিথি ছিলেন যুব ফ্রন্ট কেন্দ্রীয় কমিটির সমন্বয়ক আরাফাত সবুজ। অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন পার্বত্য যুব ফ্রন্টের সাধারণ সম্পাদক মোঃ শাহজাহান, ফারুক-ই-আযম মাদ্রাসার প্রিন্সিপাল আব্দুল্লাহ আল হেলালী, বরকল উপজেলা যবলীগের সভাপতি মোঃ মামুন।

শোকসভায় বক্তারা ভয়াবহ হত্যাযজ্ঞের স্মৃত চারণ করে বলেন, ভুষণছড়ার লোমহর্ষক বর্বর গণহত্যা শুধু পার্বত্য চট্টগ্রাম নয় দেশের জন্য একটি কলঙ্কজনক ঘটনা। সেই কালো রাতে শান্তিবাহিনী পাখির মতো নিরাপরাধ মানুষ হত্যা করেছে অথচ সরকার এবং বিশ্বের মানবাধিকার সংগঠনগুলো একটু দুঃখ প্রকাশ করেনি। একটি স্বাধীন দেশে এতোগুলো মানুষ নির্বিচারে হত্যার পরও এর বিচার না হওয়া বিশ্বের ইতিহাসের কোথাও নেই।

বক্তারা বলেন, বর্তমান সরকার যুদ্ধাপরাধ ও মানবতাবিরোধী অপরাধের বিচার কার্যক্রম শুরু করেছে কিন্তু দুঃখজনক হলো একটি স্বাধীন দেশের ৩০ হাজার বাঙ্গালী হত্যার বিচারের ব্যাপারে সরকার কোন উদ্যোগ নেয়নি। সন্তু লারমার মতো যারা নির্বিচারে মানুষ হত্যা করে দেশের স্বাধীনতার উপর কলঙ্ক লেপন করেছে সরকার তাদের ক্ষমতা দিয়ে পতাকা দিয়ে পুরস্কৃত করেছে। একটি স্বাধীন দেশের জন্য এর চাইতে লজ্জাজনক আর কি হতে পারে।

বক্তারা শুধু যুদ্ধাপরাধ বা মানবতা বিরোধী অপরাধ নয় পার্বত্য চট্টগ্রামের সকল গণ হত্যার বিচার কার্যক্রম শুরু করার দাবী জানিয়ে সন্তু লারমাকে আঞ্চলিক পরিষদ থেকে অপসারন করে বিচারের আওতায় আনার আহবান জানান।

বক্তারা অভিযোগ করে বলেন, সন্ত লারমা সরকারী সুযোগ সুবিধা ভোগ করে দেশ বিরোধী ও সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডে লিপ্ত রয়েছে। প্রতি নিয়ত পার্বত্য চট্টগ্রাম সম্পর্কে বিদেশে অপপ্রচার চালিয়ে দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্বকে হুমকির মুখে ঠেলে দিচ্ছে। জেএসএস ও ইউপিডিএফ নামধারী কয়েকটি সন্ত্রাসী সংগঠন পার্বত্য চট্টগ্রামের নিরীহ বাঙ্গালী-পাহাড়ি মানুষকে হত্যা ও বেপোরোয়া চাঁদাবাজি চালিয়ে পার্বত্য চট্টগ্রামকে অস্থিতিশীল করে তুলেছে। বক্তারা এসব সন্ত্রাসী কার্যক্রম প্রতিরোধ ও অবৈধ অস্ত্র উদ্ধারের দাবী জানানোর পাশাপাশি অভিযোগ করে বলেন, পার্বত্যাঞ্চলে অহরহ খুন, অপহরণ, চাদাঁবাজি ও বন্দুক যুদ্ধের মতো ঘটনা ঘটতে থাকলেও সেদিকে নজর না দিয়ে কিছু সুবিধাবাদি নেতার প্ররোচনায় বর্তমান সরকার বিতর্কিত ভূমি কমিশন আইনের খসড়া সংশোধন বাস্তবায়নে উঠে পড়ে লেগেছে। সরকারের মেয়াদ শেষোক্ত সময়ে উক্ত বির্তকিত আইন বাস্তবায়ন মহাজোট সরকারের নির্বাচনী মূলা ছাড়া আর কিছু নয় উল্লেখ করে সরকারের এহেন কর্মকান্ডের জবাব আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনে পার্বত্যবাসি দিবে বলেও বক্তারা হুশিয়ারী উচ্চারণ করেন।

উল্লেখ্য, ৩১মে পার্বত্য চট্টগ্রামের ইতিহাসে একটি ভয়ংকর কালো দিন। ১৯৮৪ সালের ৩১ মে ভোর ৪টা থেকে সকাল ৮.৩০ টা পর্যন্ত রাঙামাটির বরকল উপজেলার প্রত্যন্ত এলাকা ভুষণছড়া গ্রামে প্রায় ১৪ শতাধিক নিরীহ নারী, পুরুষ ও শিশুকে নির্মমভাবে হত্যা করে তৎকালীন উপজাতীয় বিচ্ছিন্নতাবাদি সংগঠন “শান্তিবাহিনী”। এটি ছিল পার্বত্য চট্টগ্রামের অসংখ্য হত্যাকান্ডের মধ্যে সর্ববৃহৎ গণহত্যা। স্বজন হারানো মানুষ হত্যাকান্ডের বিচার চেয়ে এখনো চোখের জলে বুক ভাসায়।কিন্তু এতো বড় হত্যাকাণ্ডে থানায় একটি মামলা হয়নি। ফলে হত্যাকান্ডের দুই যুগের অধিক সময় অতিবাহিত হলেও বিচার না পাওয়ায় হতাশায় নিমজ্জিত বিচারপ্রার্থীরা। হত্যাকারীদের গাড়ীতে জাতীয় পতাকা উড়েছে। কিন্তু  শহীদ পরিবারগুলোর পূণর্বাসনের সরকারী কোনো উদ্যোগ নেয়া হয়নি। উপার্জনক্ষমকে হারিয়ে পরিবারগুলো আজো অসহায়।নিভৃতে কাঁদছে বিচারের বানী।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *