শুধু মানবিক কারণে রোহিঙ্গাদের আশ্রয় দেয়া হচ্ছে- প্রধানমন্ত্রী


জাতীয় ডেস্ক:
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, ‘আমাদের জন্য বড় ধরনের বোঝা’ হয়ে দেখা দিলেও সম্পূর্ণ মানবিক কারণে মিয়ানমার থেকে পালিয়ে আসা রোহিঙ্গা শরণার্থীদের বাংলাদেশ আশ্রয় দিচ্ছে।
বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে তার সরকারি বাসভবন গণভবনে তুরস্কের সফররত ফার্স্ট লেডি এমিনি এরদোগান ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী মেভলুৎ কাভুসোগলু’র সাক্ষাৎকালে তিনি বলেন, আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে অবশ্যই এ দায়িত্ব গ্রহণ করতে হবে।
প্রধানমন্ত্রীর প্রেস সচিব ইহ্সানুল করিম বাসসকে জানান, শরণার্থীদের জন্য বাংলাদেশ সরকারের মানবিক কার্যক্রম সম্পর্কে প্রধানমন্ত্রী তুর্কি ফার্স্ট লেডিকে অবহিত করেছেন। শেখ হাসিনা বলেন, তার সরকার শরণার্থীদের শনাক্ত করার উদ্যোগ গ্রহণ করেছে, যাতে শরণার্থীদের ছদ্মাবরণে কোনো সন্ত্রাসী বাংলাদেশে প্রবেশ করতে না পারে, সরকার তা নিশ্চিত করতে চায়।
প্রধানমন্ত্রীর প্রেস সচিব জানান, শেখ হাসিনা সব ধরনের সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে তার সরকারের দৃঢ় অবস্থানের কথা পুনর্ব্যক্ত করে বলেন, ‘আমরা কোনো দেশের বিরুদ্ধে কোনো বিদ্রোহী অথবা সন্ত্রাসী কার্যক্রমে আমাদের ভূমি ব্যবহার করতে দেব না।’
এমিনি এরদোগান মিয়ানমারের শরণার্থীদের প্রতি বাংলাদেশের মানবিক আচরণের প্রশংসা করেন এবং এ ইস্যুতে বিশ্ব জনমত সৃষ্টির জন্য ইস্তাম্বুলের উদ্যোগের কথা প্রধানমন্ত্রীকে জানান।
তিনি বলেন, তুরস্ক এ নির্যাতনের বিরুদ্ধে বিশ্ব জনমত তৈরির চেষ্টা করছে। কারণ এ সংকট নিরসনে সারা বিশ্বের দায়িত্ব রয়েছে।
তুরস্ক এ ইস্যুটি কাজাখস্তানে অনুষ্ঠেয় ১৩তম ওআইসি শীর্ষ সম্মেলনেও উপস্থাপন করবে। তার দেশ বিপুলসংখ্যক শরণার্থীর আশ্রয় দেয়ার সমস্যা অনুধাবন করতে পারে।
এমিনি এরদোগান বৃহস্পতিবার বিকালে কক্সবাজারের উখিয়া উপজেলার কুতুপালং রোহিঙ্গা ক্যাম্পে তার শরণার্থী পরিদর্শনের অভিজ্ঞতা বিনিময়কালে বলেন, এই শরণার্থীদের জরুরি স্বাস্থ্যসেবা প্রয়োজন।
এ সময় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা নির্বাচিত সরকারের বিরুদ্ধে অভ্যুত্থান প্রচেষ্টা জনগণের সমর্থন নিয়ে সফলভাবে মোকাবেলার জন্য তুর্কি সরকারের প্রশংসা করে বলেন, জনগণের ক্ষমতাই সর্বোচ্চ।
শেখ হাসিনা কতিপয় বিপথগামী সেনা কর্মকর্তা কর্তৃক জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের হত্যাকাণ্ডের কথা উল্লেখ করে বলেন, এ ঘৃণ্য ঘটনার পর বাংলাদেশকে ১৯টি অভ্যুত্থান প্রচেষ্টা প্রত্যক্ষ করতে হয়েছে।
এ সময় পররাষ্ট্রমন্ত্রী আবুল হাসান মাহমুদ আলী, প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা ড. গওহর রিজভী, পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী মো. শাহরিয়ার আলম, ঢাকায় তুরস্কের রাষ্ট্রদূত ডেভরিম ওজতুর্ক ও প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব ড. কামাল আবদুল নাসের চৌধুরী উপস্থিত ছিলেন।
মিয়ানমারের দমন প্রক্রিয়া বাংলাদেশের জন্য সমস্যার সৃষ্টি করছে
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা মিয়ানমারের পশ্চিমাঞ্চলীয় রাখাইন রাজ্যে সশস্ত্র বিদ্রোহ তৎপরতার তীব্র নিন্দা জানিয়ে বলেছেন, নেপিডোর এ দমন প্রক্রিয়া প্রতিবেশী বাংলাদেশের জন্য সমস্যার সৃষ্টি করছে। বাংলাদেশ ইতিপূর্বে মিয়ানমারে (রাখাইন রাজ্য) সংঘটিত হামলা (পুলিশ চেকপোস্টে হামলা সম্পর্কিত খবর) কখনও সমর্থন করে না।
আঞ্চলিক জোট বিমসটেকের বিদায়ী মহাসচিব সুমিথ নাকানদালা বৃহস্পতিবার প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে তার কার্যালয়ে সাক্ষাৎ করতে গেলে শেখ হাসিনা এ কথা বলেন। মিয়ানমারসহ দক্ষিণ ও দক্ষিণপ-পূর্ব এশিয়ার দেশগুলোর সমন্বয়ে গড়ে উঠেছে দ্য বে অব বেঙ্গল ইনিশিয়েটিভ ফর মাল্টি-সেক্টরাল টেকনিক্যাল অ্যান্ড ইকোনমিক কো-অপারেশন (বিমসটেক)। বৈঠক শেষে প্রধানমন্ত্রীর প্রেস সচিব ইহ্সানুল করিম সাংবাদিকদের ব্রিফ করেন।
প্রেস সচিব বলেন, প্রধানমন্ত্রী সন্ত্রাসবাদের প্রশ্নে এটাকে সমসাময়িক বৈশ্বিক সমস্যা হিসেবে উল্লেখ করে বলেছেন, এ ভয়াবহতার বিরুদ্ধে সব দেশকে একসঙ্গে কাজ করতে হবে। প্রধানমন্ত্রীর আন্তর্জাতিক বিষয়ক উপদেষ্টা গওহর রিজভী ও প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের সিনিয়র সচিব সুরাইয়া বেগম বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *