লক্ষীছড়িতে ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান নির্মাণের নামে  ‘নিরাপত্তা চৌকি’ দখলের পায়তাঁরা


ljkhkl

বিশেষ প্রতিনিধি:

খাগড়াছড়ির লক্ষীছড়িতে ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান নির্মাণের নামে নিরাপত্তা বাহিনীর একটি ‘নিরাপত্তা চৌকি’ দখলের পায়তাঁরা চলছে বলে অভিযোগ উঠেছে। সদর উপজেলার শিলাছড়ি টিলা নামক স্থানে প্রায় সাত একর ভূমির দখল পাকাপোক্ত করতে  স্বার্থাণ্বেষী একটি মহল ইতিমধ্যে ঐ স্থানে ছাপরার মাধ্যমে দোচালা অস্থায়ী ঘর তুলে প্যাগোডার আদল দিয়েছে।

তবে প্রশাসনের হস্তক্ষেপে নির্মাণ কাজ বর্তমানে বন্ধ থাকলে এ প্যাগোডা নির্মাণের সাথে  দেশীয় ও আন্তর্জাতিক অনুদানের  প্রায় ২০ কোটি টাকা হাতিয়ে নেওয়ার কৌশলগত জোর চেষ্টা চালানো হচ্ছে বলে অভিযোগ রয়েছে।

সরেজমিনে তদন্তে দেখা গেছে, লক্ষীছড়ি উপজেলা সদর সংলগ্ন দক্ষিণ-পশ্চিমে লক্ষীছড়ি-বার্মাছড়ি প্রধান সড়কের পাশে পারিপার্শ্বিক এলাকা হতে উচুঁতে ৭ একর জায়গা নিয়ে শিলাছড়ি টিলা অবস্থিত।

নিরাপত্তা বাহিনীর সূত্র জানায়, ১৯৮১ সাল হতে টিলাটি সেনাবাহিনীর শিলাছড়ি ১নং পোষ্ট হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছিল। পার্বত্য চট্টগ্রাম শান্তিচুক্তির পর সেনাবাহিনী পোস্ট ছেড়ে দিলে পুলিশ সদস্যরা এ পোষ্টটি পরিচালনা করতো। পরবর্তীতে ২০০০ সালে এলাকার পরিস্থিতি উন্নত হলে পোষ্টটি হতে নিরাপত্তা বাহিনী সরিয়ে আনা হয়। তবে নিরাপত্তা বাহিনী কেবলমাত্র টহলের মাধ্যমে নিরাপত্তা চৌকিটি দখল চলমান রাখা হয়।

স্থানীয় সূত্র জানায়, ভৌগলিক দিক থেকে লক্ষীছড়ি উপজেলার যোগাযোগ ব্যবস্থা খুবই নাজুক। এ কারণে প্রতিটি নির্বাচনে ভোট কেন্দ্রগুলোতে নির্বাচনী সরঞ্জাম পাঠাতে হলে হেলিকাপ্টার ব্যবহার করতে হয়। এছড়া  কোন জরুরী রোগী বহন, দুর্গম  এলাকায় জরুরী সরকারী-বেসরকারী ত্রাণ প্রেরণ ও উচ্চপদস্থ সরকারী কর্মকর্তা ও গন্যমান্য ব্যক্তিদের  সফরের সময় ব্যবহারের জন্য লক্ষীছড়িতে একটি বেসামরিক হেলিপ্যাড নির্মাণ জরুরী।

lkjl;

লক্ষীছড়ি উপজেলার একমাত্র হেলিপ্যাড (উপজেলা পরিষদ মাঠ) বিভিন্ন স্থাপনার কারনে অনুপযোগী। সে দৃষ্টিকোণ থেকে একটি হেলিপ্যাড নির্মাণে জায়গা নির্ধারণে সম্প্রতি লক্ষীছড়ি জোন কমান্ডার লে, কর্ণেল মো: মিজানুর রহমান মিজান উপজেলার হেলিপ্যাডের জন্য জায়গা খোঁজার উদ্দেশ্যে কারিগরী ও কৌশলগত দিক থেকে উপযুক্ত এই পাহাড়ের চূড়ায় পর্যবেক্ষনের জন্য শিলাছড়ি টিলা পরিদর্শন করে সম্ভাব্যতা যাচাই করেন।

 কিন্তু এর দুদিন পরই একটি মহল এক রাতের মধ্যে শিলাছড়ি টিলায় ছাপরার মাধ্যমে প্যাগোডার আদল দিয়ে কিয়াং ঘর নিমার্ণ করে এবং পর্যবেক্ষণ চৌকি হিসাবে ব্যবহার শুরু করে।

 পরবর্তীতে উপজেলা থানা নির্বাহী অফিসার জাহিদ ইকবাল ও ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা লক্ষীছড়ি থানা মোঃ আরিফ ইকবাল এর হস্তক্ষেপে অবৈধ স্থাপনা নির্মান বন্ধ করা হয়।

নিরাপত্তা বাহিনীর চৌকিতে প্যাগোডা নির্মাণ প্রসঙ্গে দৃষ্টি আকর্ষণ করা হলে লক্ষীছড়ি উপজেলা চেয়ারম্যান সুপার জ্যোতি চাকমা বলেন, এখানে বড় আকারে প্যাগোডা নির্মাণের পরিকল্পা রয়েছে। এ জন্যে ১৯৯৪ সালে বন্দোবস্তি পাওয়ার জন্য আবেদন করা হয়েছিল। যে জায়গাটি ১৯৮১ সাল থেকে সেনাবাহিনী ‘নিরাপত্তা চৌকি’ হিসেবে ব্যবহার করছে, সেখানে ১৯৯৪ সালে কিভাবে আবেদন করলেন এমন প্রশ্ন এড়িয়ে যান সুপার জ্যোতি চাকমা।

লক্ষীছড়ি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা জাহিদ ইকবাল  জানান, প্যাগোডা নির্মাণ কমিটির নেতৃবৃন্দকে ডাকা হয়েছে। তাদের মধ্যে কেউ কেউ নিরাপত্তা বাহিনীর পরিত্যাক্ত সরকারী খাস জমিতে প্যাগোডা নির্মানের বিষয়ে অজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন। তারা জমির মালিকানার বিষয়ে কোন বৈধ কাগজপত্র দেখাতে পারেনি। উপজেলা পরিষদের অফিসে তাদের রক্ষিত নথিপত্র ঘেটেও দেখা গেছে, শিলাছড়ি টিলার জমি সরকারী খাস জমি।

লক্ষীছড়ি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো: আরিফ ইকবাল জানান, সরকারী খাস জমিতে অবৈধ স্থাপনা নির্মাণ বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। প্যাগোডা নির্মাণ কমিটির নেতৃবৃন্দও কাজ বন্ধ রাখার বিষয়ে অঙ্গীকার দিয়েছে। এ বিষয়ে লক্ষীছড়ি থানায় সাধারন ডাইরী নং ২৭৫, তারিখ ০৯-০৪-২০১৭  করা হয়েছে।

পার্বত্য চট্টগ্রামে ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান নির্মাণের নামে সরকারী খাস জমি দখল নতুন কোন ঘটনা নয়। কোথাও কোথাও বন্দোবস্তকৃত জমি জবরদখল করা হয়েছে।

খাগড়াছড়ি জেলা দীঘিনালা উপজেলায় “সোনা মিয়া টিলায়” ৮শ ১২টি বাঙ্গালী পরিবারের ৩শ একর বসত ভূমি দখল করে নির্মাণ করা হয়েছে “ সাধনা বৌদ্ধ বিহার” নামে একটি ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান। সে সাথে “সোনা মিয়া টিলার” নাম রাতারাতি পরিবর্তন করে রাখা হয়েছে “সাধনা” পাহাড় নামে। অথচ এখানে রয়েছে,বাঙ্গালীদের বাপ- দাদার কবরস্থান এবং বাগান-বাগিচা ও রয়েছে“সোনা মিয়া সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়”।

একই কায়দায় জেলার মহালছড়ির কেয়াংঘাটের করল্যাছড়িতে ৩৮৪ বাঙ্গালী পরিবারের ১৫শত ৩৬ একর বৈধ বসত ভূমি দখল করে সারনাথ অরণ্য কুটির, বৌদ্ধ উপসনালয় নামে ১১টি ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান।

ছবির ক্যাপশন
১. প্রথম ছবি কিয়াং ঘর নির্মাণের পরে
২. দ্বিতীয় ছবি কিয়াং ঘর নির্মাণের আগের।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *