রোহিঙ্গা সঙ্কট সমাধানে বিশ্ব সম্প্রদায়কে এগিয়ে আসার আহ্বান স্পিকারের


পার্বত্যনিউজ ডেস্ক:

রোহিঙ্গা সঙ্কটের টেকসই সমাধানে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে এগিয়ে আসার জন্য আহ্বান জানিয়েছেন জাতীয় সংসদের স্পিকার শিরীন শারমিন চৌধুরী। তিনি বলেন, অতি দ্রুত সমস্যাটির সমাধান হওয়া প্রয়োজন।

রবিবার ঢাকায় দুই দিনের মানবাধিকার কনফারেন্সের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে স্পিকার এসব কথা বলেন।

আন্তর্জাতিক মানবাধিকার দিবস উপলক্ষে বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে ‘প্রমোটিং ইকুয়ালিটি, জাস্টিস অ্যান্ড হিউম্যান ডিগনিটি’ শীর্ষক এই কনফারেন্সের উদ্বোধন করা হয়েছে।

অনুষ্ঠানে স্পিকার শিরীন শারমিন চৌধুরী বলেন, টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা (এসডিজি) বাস্তবায়ন করতে হলে সমতা ও দারিদ্র্য বিমোচন খুবই গুরুত্বপূর্ণ। এজন্য বাংলাদেশের সংবিধানে মানবাধিকার নিশ্চিত করা হয়েছে।

তিনি আরো বলেন, বাংলাদেশ সরকার বিভিন্ন কার্যক্রমের মাধ্যমে মানবাধিকার বাস্তবায়নে কাজ করে যাচ্ছে। এ ছাড়া কর্মসংস্থান, দক্ষতা, জেন্ডার, নারীকে উন্নয়নের কেন্দ্রবিন্দুতে রাখা—এই বিষয়গুলোতে গুরুত্ব দিতে হবে। এটার জন্য সমতা ও ইতিবাচক পদক্ষেপ নিতে হবে। নজর দিতে হবে তরুণ প্রজন্মের দিকে।

অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার আন্তর্জাতিক সম্পর্কবিষয়ক উপদেষ্টা গওহর রিজভীও রোহিঙ্গা সঙ্কট সমাধানে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে এগিয়ে আসার আহ্বান জানান।

জাতীয় মানবাধিকার কমিশনের চেয়ারম্যান কাজী রিয়াজুল হক বলেন, বাংলাদেশে মানবাধিকারের ক্ষেত্রে বিভিন্ন অগ্রগতি আছে। তবে নারী ও শিশু নির্যাতন, নিরাপত্তা হেফাজতে নির্যাতন ও গুমের মতো ঘটনা ঘটছে।

বিষয়টি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে তিনি বলেন, সরকার যাতে এসব বিষয়ে মনোযোগ দেয়, তার জন্য আমি সরকারের প্রতি আহ্বান জানাচ্ছি।

এই কনফারেন্স ভারত, ইন্দোনেশিয়া, মালয়েশিয়া ও ফিলিপাইনের মানবাধিকার-সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা অংশ নিচ্ছেন।

আজ বিশ্ব মানবাধিকার দিবস
আজ ১০ ডিসেম্বর। বিশ্ব মানবাধিকার দিবস। জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদ কর্তৃক ১৯৪৮ সাল থেকে ১০ ডিসেম্বর দিবসটি উদযাপন করা হয়। বিশ্বের অন্যান্য দেশের ন্যায় বাংলাদেশেও আজ বিশ্ব মানবাধিকার দিবস পালন করা হচ্ছে নানা আয়োজনে।

আর্ন্তজাতিক মানবাধিকার দিবস উপলক্ষে সরকারি-বেসরকারি বিভিন্ন সংগঠন নানা কর্মসূচি হাতে নিয়েছে। দিবসটি উপলক্ষে রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ এবং প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা পৃথক বাণী দিয়েছেন।

রাষ্ট্রপতি তার বাণীতে বলেছেন, সরকার দারিদ্র্য বিমোচন, জনগণের জীবনমান উন্নয়নসহ মানবাধিকার রক্ষায় দেশ ও দেশের বাইরে নিরলস প্রয়াস চালিয়ে যাচ্ছে। বাংলাদেশ সম্প্রতি মিয়ানমার থেকে জোরপূর্বক বাস্তুচ্যুত বিপুল রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীকে মানবিক কারণে আশ্রয় দিয়ে মানবাধিকার রক্ষায় এক অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে। মানবতার এ অনন্য নিদর্শন স্থাপনের জন্য প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে ‘মাদার অব হিউম্যানিটি’ উপাধি প্রদান করা হয়েছে।

তিনি বলেন, মানুষের মৌলিক অধিকার প্রতিষ্ঠা ও সমুন্নত রাখার দায়িত্ব রাষ্ট্রের পাশাপাশি সব প্রতিষ্ঠান ও ব্যক্তির। দেশের সকল নাগরিকের বিশেষ করে শিশু ও নারীর মানবাধিকার রক্ষায় সরকারি-বেসরকারি সংস্থার পাশাপাশি সর্বস্তরের জনগণকে এগিয়ে আসার আহ্বান জানান রাষ্ট্রপতি।

 

সূত্র: আরটিএন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *