রোহিঙ্গা শিবিরে ত্রাণ বিতরণে মাটিরাঙ্গার জনপ্রতিনিধিরা


নিজস্ব প্রতিবেদক, মাটিরাঙ্গা:

মায়ানমারের সামরিক বাহিনীর অমানবিক নির্যাতনে দেশের ভিটে-মাটি ছেড়ে প্রাণ নিয়ে বাংলাদেশে পালিয়ে এসে আশ্রয় নেয়া রোহিঙ্গা শরনার্থীদের মাঝে ত্রাণ বিতরণ করে দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন পার্বত্য খাগড়াছড়ির মাটিরাঙ্গার একদল তরুন জনপ্রতিনিধি।

দুই দফায় পাঁচ জন জনপ্রতিনিধি কক্সবাজারের কুতুপালং, বালুখালী ও পালংখালী রোহিঙ্গা শিবিরে দিশাহীন-আশ্রয়হীন রোহিঙ্গাদের মাঝে ত্রাণ বিতরণ করেছে।

বুধবার (২০ সেপ্টেম্বর) উখিয়ার বালুখালী ও পালংখালী রোহিঙ্গা শিবিরে ত্রাণ হিসেবে নগদ আর্থিক সহায়তা বিতরণ করেন গোমতি ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান মো. ফারুক হোসেন লিটন ও বেলছড়ি ইউনিয় পরিষদ চেয়ারম্যান মো. নজরুল ইসলাম।

রোহিঙ্গা শিবিরে আশ্রয় নেয়া জনগনের জন্য মাটিরাঙ্গার গোমতি ও বেলছড়ির জনগনের জন্য প্রদত্ত সহায়তার অর্ধলক্ষাধিক টাকা ছাড়াও নিজেদের ব্যাক্তিগত তহবিল থেকে ত্রাণ হিসেবে নগদ অর্থ বিতরণ করেন এ দুই তরুন জনপ্রতিনিধি।

একই সময়ে নিজেদের ব্যাক্তিগত তহবিল থেকে দিশাহীন ও দুর্দশাগ্রস্থ রোহিঙ্গাদের মাঝে ত্রাণ সহায়তা প্রদান করেন মাটিরাঙ্গা উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান মো. তাজুল ইসলাম তাজু ও গোমতি ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি মো. মনির হোসেন।

মায়ানমার থেকে আসা রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠির নিরাপত্তা ও স্বাস্থ্যগত উন্নয়নে জরুরী ভিত্তিতে পদক্ষেপ নেয়ার দাবি জানান বেলছড়ি ইউনিয় পরিষদ চেয়ারম্যান মো. নজরুল ইসলাম।
অন্যদিকে ত্রাণ বিতরণ কার্যক্রমে শৃঙ্খলা নিয়ে আসার দাবি জানান গোমতি ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি মো. মনির হোসেন।

সুষ্ঠুভাবে ত্রাণ বিতরণ না হওয়ার কারণে অনেকেই বঞ্চিত হচ্ছে বলে দাবি করেন গোমতি ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান মো. ফারুক হোসেন লিটন।

অপরদিকে রোহিঙ্গা শিবিরে নগদ অর্থ বিতরণ শেষে সন্ধ্যায় লে. কর্ণেল মোহাম্মদ খালিদ আহমেদ পিএসসি‘র হতে গোমতি ও বেলছড়ি ইউনিয়নবাসীর পক্ষে ‘বিজিবির রোহিঙ্গা তহবিলে’ নগদ পঞ্চাশ হাজার টাকা আর্থিক সহায়তা তুলে দেন মাটিরাঙ্গা উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান মো. তাজুল ইসলাম তাজু।

এদিকে তার একদিন আগে মঙ্গলবার খাগড়াছড়ির মাটিরাঙ্গা উপজেলাবাসীর পক্ষে উখিয়ার কুতুপালং, বালুখালী ও পালংখালী রোহিঙ্গা শিবিরে ত্রাণ বিতরণ করেন মাটিরাঙ্গা পৌরসভার ৭নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর ও মাটিরাঙ্গা বাজার কমিটির সভাপতি মো. আবুল হাসেম ভুইয়া এবং মাটিরাঙ্গা পৌরসভার ৬নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর মো. শহীদুল ইসলাম সোহাগসহ এদল তরুন ব্যবসায়ী।

তারা রোহিঙ্গা জনগনের মাঝে নগদ আর্থিক সহায়তা বিতরণ ছাড়াও দিনব্যাপী ত্রাণ সামগ্রী হিসেবে শাড়ী, লুঙ্গি, ছোটদের পোশাক ও ঔষধ বিতরণ করেন। তারা সেখানে রোহিঙ্গা জনগনের নিরাপদ পানিয়জল প্রাপ্তি নিশ্চিত করতে টিউবওয়েল স্থাপন ও স্যানিটেশন সুবিধার জন্য টয়লেট স্থাপন করেন।

মায়ানমারের সামরিক বাহিনীর অমানবিক নির্যাতনে দেশের ভিটে-মাটি ছেড়ে বাংলাদেশের মাটিতে আশ্রয় নেয়া রোহিঙ্গা শরনার্থীদের পাশে মাটিরাঙ্গার মানুষ আগামী দিনেও থাকবে এমনটা জানিয়ে গোমতি ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি মো. মনির হোসেন জানান, খুব শীঘ্রই আরো বড় পরিসরে ত্রাণ পৌছানো হবে বিপর্জস্ত এলাকায়।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *