রোজ খান মটরশুটি


পার্বত্যনিউজ ডেস্ক:

শীতের সবজিতে বাজার সয়লাব। আর শীতকালীন সবজির মধ্যে মটরশুটি অন্যতম। খাবারের স্বাদ বাড়াতে অনেকেই সবজি, সালাদ এমনকি পোলাও, মাংসেও এই শস্যদানা ব্যবহার করেন।

সুস্বাদু এই শস্যদানাটির রয়েছে অসাধারণ সব পুষ্টিগুণ। গবেষণায় দেখা গেছে, এক কাপ মটরশুটিতে ১০০’র কম ক্যালরি আছে। কিন্তু প্রচুর পরিমাণে প্রোটিন, আঁশ এবং অনেক ধরনের পুষ্টিসমৃদ্ধ উপাদান রয়েছে। এতে ফ্যাট কম থাকায় এটি ওজন কমাতে সাহায্য করে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, প্রতি ১০০ গ্রাম মটরশুটি থেকে প্রায় ৮০ থেকে ১০০ কিলোক্যালরি শক্তি পাওয়া যায়। কার্বোহাইড্রেট থাকে ১৪ দশমিক ৫ গ্রাম, ফ্যাট ০ দশমিক ৫ গ্রাম, প্রোটিন থাকে ৫ দশমিক ৪ গ্রাম। এছাড়া ক্যালসিয়াম, পটাসিয়াম, ম্যাগনেশিয়াম, আয়রন, ভিটামিন সি, ফলিক অ্যাসিড, বিটাক্যারোটিন, ভিটামিন এ, ফসফরাস, জিংক, ভিটামিন বি কমপ্লেক্স থাকে।

*ত্বকের জন্য মটরশুটি খুব উপকারি। ত্বকের উজ্জ্বলতা বাড়ায়। চোখের দৃষ্টিশক্তি বাড়ায় মটরশুটি।

*রক্তে কোলেস্টরলের মাত্রা কমায় মটরশুটি। শর্করার মাত্রাও কমায় মটরশুটি। এ কারণে ডায়বেটিস রোগীদের জন্যও এটি বেশ উপকারী।

*অ্যান্টি অক্সিডেন্টের ভালো উৎস মটরশুটি। ভালো পরিমাণে তন্তু থাকায় পেট পরিস্কার রাখে ও কোষ্ঠকাঠিন্য রোধ করে।

*মেক্সিকান গবেষকরা বলছেন, কেউ যদি প্রতিদিন ২ মিলিগ্রাম পলিফেলনসমৃদ্ধ খাবার খান তাহলে তার পাকস্থলী ক্যানসারের ঝুঁকি অনেকটাই কমে যায়। এক কাপ মটরশুটিতে অন্তত ১০ মিলিগ্রাম পলিফেলন থাকে। তাই এটি পাকস্থলী ক্যানসারের ঝুঁকি কমাতে দারুণ কার্যকরী।

*মটরশুটিতে প্রচুর পরিমাণে অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট থাকায় এটি বয়স ধরে রাখতে সাহায্য করে, শরীরে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা এবং প্রাণশক্তি বাড়ায়।

*পাশাপাশি ভিটামিন বি১,২,৩,৬ এর উৎস হওয়ায় এটি শরীরের হোমোসাইস্টাইন লেভেল কমায়। ফলে একারণে শরীরে হৃদরোগের ঝুঁকিও কমে। প্রচুর পরিমাণে আঁশ থাকায় মটরশুটি কোষ্ঠকাঠিন্য সারাতে সাহায্য করে।

*এক কাপ মটরশুটিতে প্রচুর পরিমাণে ভিটামিন কে থাকে। যা শরীরে ক্যালসিয়ামের ঘাটতি পূরণে সাহায্য করে। ফলে হাড় মজবুত রাখার ক্ষেত্রেও মটরশুটি বেশ কার্যকরী।

মটরশুটি কাঁচাও খাওয়া যায়। খাওয়ার আগে পানি দিয়ে ভালো করে ধুয়ে নিন। তাহলে এখন থেকে ডায়েটে রাখুন বহুগুণের অধিকারী মটরশুটি।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *