রাসায়নিক জঙ্গী হামলা রুখতে রাঙামাটির হাসপাতাল কেন্দ্রগুলোতে রেড এলার্ট


নিজস্ব প্রতিনিধি, রাঙামাটি:

রাঙামাটির হাসপাতাল ও স্বাস্থ্য কেন্দ্রগুলোতে জঙ্গীদের রাসায়নিক হামলার শঙ্কায় সর্বোচ্চ সতর্কবস্থা জারী করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর।

রোববার (৯ সেপ্টেম্বর) এমন তথ্য নিশ্চিত করেছে ডেপুটি সিভিল সার্জন ডা: নীহার রঞ্জন নন্দী।সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, বাংলাদেশে প্রথমবারের মতো জঙ্গিদের রাসায়নিক হামলার আশঙ্কা করে বিভিন্ন পর্যায়ের গোয়েন্দা সূত্রগুলো থেকে সরকারকে সতর্ক করে দেওয়ার পর সারাদেশেই মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল, জেনারেল হাসপাতাল ও বিশেষায়িত স্বাস্থ্য কেন্দ্রগুলোকে এই সতর্কীকরণ পত্র জারি করে স্বাস্থ্য বিভাগ। এর পরিপ্রেক্ষিতে সারাদেশের ন্যায় রাঙামাটি স্বাস্থ্য অধিদপ্তর জেলার হাসপাতাল ও স্থানীয় স্বাস্থ্য কেন্দ্রগুলোতে সতর্কাবস্থা জারী করেছে।

চলতি সপ্তাহে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর থেকে এই ধরনের পত্র পেয়ে পত্রের প্রেক্ষিতে জেলার মেডিকেল কলেজ, হাসপাতাল এবং স্বাস্থ্য কেন্দ্রগুলোতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের নির্দেশ প্রদান করা হয়েছে বলে জানান ডেপুটি সিভিল সার্জন ডা. নীহার রঞ্জন নন্দী।

তিনি বলেন, আমরা এই ধরনের পত্রটি হাতে পাওয়ার পরপরই আমাদের সকল স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ও সংশ্লিষ্ট সকলের সাথে আমরা কথা বলে আমাদের হাসপাতাল ও স্বাস্থ্য কেন্দ্রগুলোকে প্রয়োজনীয় প্রস্তুতিমুলক ব্যবস্থা নিয়ে রাখতে বলেছি।

স্বাস্থ্য বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, সরকারের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জননিরাপত্তা বিভাগের পক্ষ থেকে ৩মে ৪৪.০০.০০০০.০৭৫.০৪.০০৯.১৬-৪০৪ সংখ্যক পত্রের মাধ্যমে সারাদেশে সম্ভাব্য জঙ্গি রাসায়নিক হামলার আশঙ্কার কথা জানিয়ে সতর্কতা, হামলার ক্ষেত্রে হতাহত ব্যক্তিদের উদ্ধার, প্রাথমিক চিকিৎসা প্রদান এবং বিশেষায়িত চিকিৎসা প্রদানের জন্য প্রয়োজনীয় সক্ষমতা অর্জন এবং প্রস্তুতি গ্রহণ করতে হবে বলেও উক্ত প্রতিবেদনে সুপারিশ তুলে ধরে এ ব্যাপারে জরুরি ভিত্তিতে প্রয়োজনীয় প্রস্তুতিমূলক কার্যক্রম গ্রহণ করতে নির্দেশক্রমে অনুরোধ করা হয়।

এরই আলোকে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়াধীন স্বাস্থ্য বিভাগ, সরকারি স্বাস্থ্য ব্যবস্থাপনা-১ বাংলাদেশ সচিবালয় থেকে মন্ত্রণালয়ের উপসচিব রেহানা ইয়াছমিন কর্তৃক স্বাক্ষরিত স্মারক নং-স্বাপকম/বিবিধ-৩৯/২০০৫/৫৭১ এর মাধ্যমে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহা পরিচালককে পত্র দিয়ে এই বিষয়ে সম্ভাব্য জঙ্গি হামলার পরিকল্পনা সংক্রান্ত প্রতিবেদনের সুপারিশের আলোকে কার্যক্রম গ্রহণের জন্য বলা হয়।

এই বিষয়টি অবগত হওয়ার পর স্বাস্থ্য অধিদপ্তর থেকে ২৬ আগস্ট স্বারক নং-স্বাঃঅধিঃ/হাঃসাঃম্যাঃ/২০১৮-১৯/৩০৩ মূলে বাংলাদেশে সম্ভাব্য জঙ্গী রাসায়নিক হামলায় হতাহত ব্যক্তিদের চিকিৎসা ব্যবস্থাপনা প্রসঙ্গে প্রেরিত পত্রে সারাদেশের বিশেষায়িত হাসপাতাল ও মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পরিচালক এবং জেলা সদর হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক-কাম-সিভিল সার্জনকে নিম্ন লিখিত পদক্ষেপ নিতে বলা হয়।

উল্লেখিত বিষয়গুলো হলো-রাসায়নিক হামলায় হতাহত ব্যক্তিদের চিকিৎসার জন্য প্রতিটি হাসপাতালে একটি বিশেষ চিকিৎসা ব্যবস্থাপনা টিম গঠন করা, প্রয়োজনীয় চিকিৎসা-সরঞ্জাম-ঔষধ সীমিত আকারে মজুদ রাখা।, এ্যাম্বুলেন্স সচল রাখাসহ, ওটি কমপ্লেক্স-এ বিদ্যুৎ এর বিকল্প ব্যবস্থা জেনারেটর) সচল রাখা।
বিশেষ চিকিৎসা ব্যবস্থাপনা টিম এর সকল সদস্যের বিশেষ প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করা ইত্যাদি।

এই পত্র পাওয়ার পর ৩০ আগস্ট স্বারক নং-সি,এস/ রাঙ্গা/ উন্নয়ন/ ২০১৮ইং/ ২১৬৯(১১) এর মাধ্যমে বিষয়টিকে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ উল্লেখ করে রাঙামাটি জেনারেল হাসপাতাল ও জেলার সকল উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তাকে জেলার ভারপ্রাপ্ত সিভিল সার্জন কর্তৃক উপরোক্ত স্বারক পত্রের নির্দেশনা অনুযায়ী প্রয়োজনীয় কার্যক্রম সময়মত বাস্তবায়নের ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য বলা হয়।

রাঙামাটি সদর হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল অফিসার (আরএমও) ডা: শওকত আকবর খান বলেন, উর্দ্ধতন কর্তৃপক্ষের নির্দেশনানুসারে আমরা সর্বোচ্চ প্রস্তুতি নিয়ে রেখেছি। হাসপাতালে প্রয়োজনীয় ঔষধ সরঞ্জামাধির পাশাপাশি একমাত্র এ্যাম্বুলেন্সটিকেও প্রস্তুত রাখা হয়েছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *