রামগড়ে বারি লাউ-৪ চাষে সফলতা


রামগড় প্রতিনিধি:

বাংলাদেশ কৃষি ইনস্টিটিউটের(বারি) নতুন উদ্ভাবিত শীত ও গ্রীষ্ম  দুই মৌসুমে উৎপাদিত বারি লাউ-৪ চাষাবাদে সফল হয়েছেন রামগড়ের কৃষক আনোয়ার হোসেন। রামগড় পাহাড়াঞ্চল কৃষি গবেষণা কেন্দ্রের তত্ত্ববধানে তিনি পরীক্ষামূলকভাবে নতুন জাতের এ লাউ চাষ করেন। শীতকালীন এ সবজি গ্রীষ্মকালে চাষাবাদ করে তার সফলতায় এলাকার কৃষকদের মাঝে বেশ উৎসাহ সৃষ্টি করেছে।

সোমবার(১৯মার্চ) রামগড় পৌর এলাকার চিনছড়ি পাড়ায় কৃষক আনোয়ার হোসেনের বারি লাউ-৪ এর ক্ষেত পরিদর্শন করেছেন খাগড়াছড়ি জেলা কৃষি সম্প্রসরণ অধিদপ্তরের উপ পরিচালক মো. আবুল কাশেম, রামগড় কৃষি গবেষণা কেন্দ্রের প্রধান বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ড. জুলফিকার আলী ফিরোজ, উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো নাসির উদ্দিন চৌধুরি ও বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা মো. সেলিম। কৃষি গবেষক ও কর্মকর্তারা নতুন জাতের এ লাউয়ের ফলন, রোগ ব্যাধি ইত্যাদি বিষয় সম্পর্কে কৃষকের কাছ থেকে অবহিত হন। ক্ষেত সংলগ্ন জমিতে অনুষ্ঠিত সমাবেশে নতুন জাতের লাউ চাষ কৃষকদের অবহিত করা হয়।

সফল চাষী আনোয়ার হোসেন জানান, বারি লাউ-৪ ক্ষেতে তেমন কোন রোগ বালাই হয়নি। চারা রোপনের ৭০-৮০ দিনের মধ্যে ফল সংগ্রহ করেছেন। প্রতিটি গাছে ১০-১২টি লাউ ধরে। প্রতিটি লাউ গড়ে আড়াই কেজি ওজন হয়েছে। বাজারে বিক্রি করেছেন একটি ৪০-৫০ টাকা দরে। ফল ছাড়া শাকও বিক্রি করছেন। গ্রীষ্মকালে এ লাউ আবাদ করে তিনি বেশ লাভবান হয়েছেন।  ২০ শতাংশ জমিতে প্রায় ৫ টন লাউয়ের ফলন পাওয়ার আশা তার। অসময়ের এ লাউ চাষে তার সফলতা  দেখে এলাকার কৃষকরা বেশ উৎসাহিত হয়েছেন।

তিনি বলেন, বীজ উ্ৎপাদন করে এলাকার কৃষকদের মাঝে বিনামূল্যে বিতরণ করবেন। রামগড় পাহাড়াঞ্চল কৃষি গবেষণা কেন্দ্রের প্রধান বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ড. জুলফিকার আলী ফিরোজ বলেন, গ্রীষ্মকালেও যাতে মানুষ এ সবজিটি খেতে পারে সেজন্যই বারি লাউয়ের এ নতুন জাতটি উদ্ভাবন করেছে। জাতটি তাপ সহনশীল হওয়ায় গ্রীষ্মকালেও চাষাবাদ করা যায়। ফলে আকারও বড় হয় এবং ফলনও প্রচুর হয়। জাতটির রোগ প্রতিরোধের ক্ষমতাও অধিক। রামগড়ে পরীক্ষামূলকভাবে নতুন জাতের এ লাউ আবাদ করে ভাল ফলন পাওয়ায় তারাও বেশ খুশি বলে জানান তিনি।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *