রাঙামাটিতে সাবেক স্বামীর-স্বজনদের হামলায় স্ত্রীসহ আহত ২


নিজস্ব প্রতিনিধি, রাঙামাটি:

বিবাহিত স্ত্রীকে ডিভোর্সের পর তার আরও দুই বোনের সাথে অসামাজিক কার্যকলাপের প্রস্তাব দিয়ে রাজি না হওয়ায় হামলা চালিয়ে দুই নারীকে আহত করার অভিযোগ উঠেছে রাঙামাটি জেলা পরিষদের এক কর্মচারি ইউনুছ ও তার সহযোগীদের বিরুদ্ধে।

হামলায় শারীরিকভাবে আহত রেজিয়া ও তার ভাগনি বর্তমানে রাঙামাটি সদর হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আছে। ন্যায় বিচারের প্রত্যাশায় আহত রেজিয়া রাঙামাটি কোতয়ালী থানায় লিখিত এজাহার দিয়েছে বলে জানিয়েছেন তিনি।

রাঙামাটি কোতয়ালী থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) লিমন বোস এজাহার প্রাপ্তির সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, আমরা ঘটনাটি তদন্ত করে সত্যতা পেলে পরবর্তীতে মামলা হিসেবে গ্রহণ করবো। এই লক্ষ্যে আমরা কোতয়ালী থানার এসআই আনোয়ারকে বিষয়টি খতিয়ে দেখার দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।

ঘটনার শিকার রেজিয়া বেগম এজাহারে উল্লেখ করেন, বিগত ৯৬ সালে বিয়ে হওয়ার পর বিভিন্ন সময় মানসিক নির্যাতন করতো  স্বামী রাঙামাটি জেলা পরিষদের কর্মচারি মো. ইউনুছ। ২০১৮ সালের ৮ই মার্চ নির্যাতনের এক পর্যায়ে তার সাথে  ডিভোর্স হয়ে যায়।

এরপর ইউনুছ তার ছোট দুই বোনের সাথে অনৈতিক কাজের প্রস্তাব দেয়। এতে তার বোনরা রাজি না হওয়ায় তিনিসহ তার বোনদের বিরুদ্ধে নানা ধরনের কুৎসা রটনার পাশাপাশি নানাভাবে হেনস্তা করে। এক পর্যায়ে শুক্রবার(৩১ আগস্ট) সন্ধ্যায় মো. ইউনুছ (৪২), (পিতা মো. আব্দুল হামিদ) তার সঙ্গী জাহিদুল আলম নাছিম (২৮)পিতা জাকির হোসেন, রেজিয়া বেগম (৪৫) স্বামী জাকির ড্রাইভার , তানিয়া আক্তার (২৫) পিতা জাকির ড্রাইভার, ফাহিমা হোসাইন তন্নি (১৮) পিতা জাকির ড্রাইভার,  সেনোয়ারা বেগম (৫০) স্বামী অলি আহম্মদ , অলি আহম্মদ (৫৫) পিতা অজ্ঞাত, পারুল আক্তার (৪৫) পিতা মৃত হানিফ ড্রাইভার , জাকির ড্রাইভার (৫০) পিতা অজ্ঞাত, অজ্ঞাত আরও ৫-৬জন, সর্ব সাং-আমানতবাগ, কলেজ গেইট, থানা-কোতয়ালী এবং মো. ইউনুছ হাওলাদার (৩০) পিতা আলম হাওলাদার, সাং-বুড়িঘাট, থানা-নানিয়ারচর, জেলা-রাঙামাটি।

তার বাড়িতে এসে তাকে এবং তার বোনের মেয়েকে জোরপূর্বক খারাপ কাজ করাবে বলে হুমকি দেয়। এসময় তাতে বালতি ভর্তি পানিতে জোর করে মাথা চোবাই এবং তার ছোট বোনের মেয়েকে উক্ত বিবাদীগণ মাটিতে ফেলে এলোপাতাড়ি কিল ঘুষি লাথি এবং দেয়ালের সাথে মাথা বাড়ি দিয়ে মাথায় গুরুতর জখম করে।

তখন একপর্যায়ে তার ছোট বোনের মেয়ের চিৎকার শুনে এলাকাবাসী  ঘরে আসলে বিবাদীগণ ঘরের পিছনের দরজা দিয়ে পালিয়ে যায় এবং এলাকাবাসি তাকে এবং তার ছোট বোনের মেয়েকে রাঙামাটি সদর হাসপাতালে ভর্তি করে।

রেজিয়া জানান, বর্তমানে ইউনুছ ও তার সঙ্গীরা তার পরিবারের সকল সদস্যদের প্রান নাশের হুমকি দিচ্ছে।

এদিকে ঘটনা সম্পর্কে জানতে ইউনুছের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান, এসব আমার বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র। আর আমি ঘটনার সময় ঘটনাস্থলে উপস্থিত ছিলাম। খবর পেয়ে সেখানে গেছি। এর আগে ঘরের ভেতরে কি হয়েছে সেটা আমি জানি না।

এদিকে উপরোক্ত এজাহারে উল্লেখিত পারুল আক্তার ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, পাওনা টাকা চাইতে গিয়ে উভয়পক্ষের মধ্যে সামান্য ধস্তাধস্তির ঘটনা ঘটেছে। সেখানে আমাকেও ডেকে নিয়ে গেছে। কিন্তু আমি উভয়পক্ষকে নিবৃত করার চেষ্টা করেছি।

রাঙামাটি সদর হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রেজিয়া ও তার ভাগ্নী জানান, তাদের পাশে দাঁড়ানোর মতো কেউ না থাকায় ইউনুছ জেলা পরিষদের ক্ষমতা দেখিয়ে বারংবার তাদের সাথে অমানবিক আচরণ করলেও তারা ন্যায় বিচার পাচ্ছে না।

রেজিয়া আরও জানান, আমার ভাগ্নীর অবস্থা ভালো নয়, মারধরের পর তার বুকের ব্যথা বেড়ে গিয়ে মাঝে মাঝে নিঃশ্বাস আটকে যাচ্ছে। বেশ কয়েকবার অক্সিজেন লাগানোও হয়।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *