রাঙামাটিতে পর্যটকদের ভীড়, অব্যবস্থাপনায় ক্ষোভ


নিজস্ব প্রতিনিধি:

বসন্তের শুরতে রাঙামাটি পর্যটকদের পদভারে মুখরিত হয়ে উঠেছে। শহরের চারদিক এখন পর্যটকদের ভীড়। খাবার হোটেল থেকে শুরু করে আবাসিক বোডিংগুলো এখন ব্যস্ত সময় পাড় করছে। কোথাও দম ফেলার ফুসরত নেই।

আবাসিক বোডিংগুলো আগে বুকিং হয়ে যাওয়ায় অনেক পর্যটক অগ্রীম হোটেল বুকিং না দিয়ে  রাঙামাটিতে আসায় চরম বিপাকে পড়েছে। তাই অনেক পর্যটককে হোটেলের বারান্দায় সময় কাটাতে দেখা গেছে।

রাঙামাটির পর্যটন স্পটগুলোর মধ্যে উল্লেখযোগ্য রাঙামাটির সিম্বল খ্যাত ঝুলন্ত সেতু, ৩০৫পদাতিক ডিভিশনের অধীন আরণ্যক রিসোর্ট, পুলিশ পলওয়েল পার্ক, ডিসি বাংলো, বঙ্গবন্ধুর ভাস্কর্য এলাকা, সুবলং ঝর্ণা, টুকটুক ইকো ভিলেজ এলাকাগুলোতে পর্যটকদের উপচেপড়া ভীড় লেগে আছে। জমজমাট ব্যবসা করছে খাবারের হোটেলগুলো।

ঢাকা থেকে বেড়াতে আসা পর্যটক ব্যবসায়ী সামসুল কাদেরী জানান, ব্যবসার কাজে সময় পাই না, তাই কয়েকদিন বন্ধ পেয়ে বউ-বাচ্চা নিয়ে পাহাড়-হ্রদের শহর রাঙামাটিতে ঘুরতে চলে এসেছি।

সিরাজগঞ্জ থেকে আসা পর্যটক মো. মানজুরুল আলম শেখ জানান, রাঙামাটিতে পাঁচদিনের ট্যুরে এসেছি। গত দু’দিন ঝুলন্ত সেতু, বৌদ্ধ মন্দির, রাজবাড়ি এবং কাপ্তাই হ্রদে ঘুরেছি।

এখানকার অব্যবস্থাপনা নিয়ে তিনি বলেন, পর্যটন স্পটগুলোতে টয়লেটের সমস্যা, ময়লা আবর্জনা এবং যথাযথ নিরাপত্তার অভাব রয়েছে।

চট্টগ্রাম থেকে স্টাডি ট্যুরে আসা মোস্তফা রেজা জানান, আমরা ১০০জনের একটি দল রাঙামাটিতে ঘুরতে এসেছি। এখানকার প্রাকৃতিক পরিবেশ আমাদের মুগ্ধ করলেও কিছু সমস্যার কারণে পর্যটকরা এখানে আসতে চাই না।

তিনি বলেন, ভূমি ধসের কারণে রাঙামটিতে অনেক পর্যটন স্পট ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। কিন্তু সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাগুলো সংস্কার না করার কারণে অনেক পর্যটক বিপদে পড়তে পারে বলে তিনি জানান।

বগুড়া থেকে বেড়াতে আসা রিতু জাহান জানান, শহরের কোলাহল থেকে কিছুটা রেহাই পেতে তিনদিনের ছুটিতে স্বামীকে নিয়ে রাঙামাটিতে বেড়াতে এসেছি। খুব ভাল লাগছে হ্রদ পাহাড়ের শহর। তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, স্থানীয় সিএনজি ভাড়াটা শহরের চাইতে অধিক নিচ্ছে।

এদিকে ঝুলন্ত সেতুটিকে আশ্রয় করে ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠী সম্প্রদায়ের কিছু নারী জীবিকা নির্বাহের তাগিদে স্থানীয়দের হাতে তৈরি  বিভিন্ন  ডিজাইনের ব্যাগ এবং আচারের পসরা নিয়ে জমজমাট ব্যবসা করছে।

এদের মধ্যে মিতালী চাকমা জানান, আমি গত কয়েকদিন গড়ে ৮-১০হাজার টাকা পণ্য বিক্রি করেছি। বেচাকেনা খুব ভাল হয়েছে। স্থানীয়দের হাতে তৈরি চোখ ধাঁধানো বিভিন্ন ডিজাইনের ব্যাগ আকারের ভিত্তিতে বড়গুলো ডিজাইন ভেদে ৫০০-৪০০টাকা এবং ছোটগুলো ৩০০-২৫০টাকায় বিক্রি করা হচ্ছে বলে তিনি জানান।

আরেক হস্ত সামগ্রী বিক্রেতা রত্না চাকমা বলেন, পরিবারের উপর নির্ভর না করে নিজের পায়ে দাঁড়াতে স্বাধীন ভাবে নিজে ব্যবসা করছি। প্রতিদিন গড়ে ৩০০০-৪০০০হাজার টাকার পণ্য বিক্রি করছি। মদৃ হাসি দিয়ে তিনি আরও বলেন, ব্যবসা খুব ভাল ভাবে করতে পারছি।

রাঙামাটি পর্যটন হলিডে কমপ্লেক্সের নির্বাহী কর্মকর্তা সূর্যসেন ত্রিপুরা  জানান, ভূমি ধসের পর থেকে জেলার পর্যটন খাত একেবারে ভেঙে পড়েছে। শীতে পর্যটকদের সমাগম আগেরবার তুলনায় অনেক কম। তবে বসন্তের শুরুতে গত কয়েকদিন পর্যটকদের আনাগোনা বেড়েছে। প্রতিদিন ১৫০০০-২০০০হাজার পর্যটকের সমাগম ঘটছে পর্যটন কমপ্লেক্সে। বিক্রি ভাল হচ্ছে বলে তিনি জানান।

পর্যটন হলিডে কমপ্লেক্সের এ নির্বাহী কর্মকর্তা আরও জানান, ভূমি ধসের কারণে পর্যটন কমপ্লেক্সের অনেক ক্ষতি হয়েছে। সংস্কারসহ নানা সমস্যা দূরীকরণে  ঊর্ধ্বতন মহলকে অবগত করা হয়েছে বলে তিনি জানান।

ঝুলন্ত সেতুটি বছরের অর্ধেক সময় কাপ্তাই হ্রদে ডুবে থাকার বিষয়ে জানান, সেতুটি বর্তমানে হ্রদ থেকে যে উচ্চতায় অবস্থান করছে তার থেকে সেতুটির উচ্চতা  বাড়ানো সম্ভব নয়। পানি উন্নয়ন বোর্ডের সাথে কথা বলে তৎকালীন সময়ে সেতুটি নির্মাণ করা হয়েছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *