মিঠুন চাকমা ইউপিডিএফ প্রসীত দলের অন্ত:কলহে নিহত হয়েছেন- ইউপিডিএফ গণতান্ত্রিক


প্রেস বিজ্ঞপ্তি:

ইউপিডিএফ সংগঠক মিথুন চাকমা হত্যার সাথে ইউপিডিএফ গণতান্ত্রিক পার্টি কোনোভাবেই জড়িত নয়। শুক্রবার ইউপিডিএফ গণতান্ত্রিক পার্টির মিডিয়া সমন্বয়ক মিটন চাকমা গণমাধ্যমে পাঠানো এক বিবৃতিতে এ দাবী করেছেন। বিবৃতিতে দাবী করা হয়েছে,  মিঠুন চাকমা ইউপিডিএফ প্রসীত দলের অন্ত:কলহে নিহত হয়েছেন।

বিবৃতিতে বলা হয়েছে, “ইউপিডিএফ (প্রসীত) দলের নেতা মিঠুন চাকমা নিহত হওয়ার ব্যাপারে ইউপিডিএফ (প্রসীত পন্থীর) নেতা/কর্মী এবং সমর্থকরা সম্পূর্ন আবেগী ভাষায় বস্তুনিস্ত, তথ্য-উপাত্ত ছাড়ায় তাদের মনগড়া মন্তব্য, বক্তব্য, ফেইসবুকসহ বিভিন্ন মিডিয়ায় প্রচার করে নতুন ইউপিডিএফ (গণতান্ত্রিক) পার্টির উপর দায় চাপিয়ে দেওয়ার চেষ্টা চালাচ্ছে।

তাদের এই দায় চাপিয়ে দেওয়ার বিরুদ্ধে আমাদের জরুরী বক্তব্য এই, আপনারা জানেন গত ১৫ নভেম্বর-২০১৭ তারিখে ইউপিডিএফ (গণতান্ত্রিক) পার্টি সাংবাদিক সম্মেলনের মাধ্যমে যারা আত্মপ্রকাশ করে ছিলাম, আমরা সবাই ইউপিডিএফ প্রসীত দলে সম্পৃক্ত ছিলাম। মতাদর্শ মিল না হওয়ার কারণে জুম্ম জাতীয় স্বার্থে এবং সচেতন জুম্ম জনগনের পরামর্শে ও অনুপ্রেরণায় নতুন ইউপিডিএফ (গণতান্ত্রিক) পার্টি আত্মপ্রকাশ করা হয়েছে।

কাজেই এই মহান পার্টি হানাহানি, মারামারি, প্রতিহিংসার রাজনীতি বিশ্বাস করেনা বিধায় ইউপিডিএফ (প্রসীত) দলের নেতা মিঠুন চাকমা নিহত হওয়ার ব্যাপারে তাৎক্ষণিকভাবে কোনো প্রতিক্রিয়া বা মন্তব্য না করে আমাদের পার্টি ৭২ ঘন্টা পর্যন্ত নিবিড় পর্যবেক্ষণে ছিলাম। পর্যবেক্ষণে থেকে যেটা পাওয়া গেল মিঠুন চাকমা ইউপিডিএফ প্রসীত দলের অন্ত:কলহে নিহত হয়েছেন। এতে নতুন ইউপিডিএফ (গনতান্ত্রিক) পার্টি কোন মতে জড়িত নয়। কারণ, আমরা যতটুকু জানি মিঠুন চাকমা একজন কট্টরবাদী, উদীয়মান নেতা ছিলেন।

ইউপিডিএফ প্রসীত দলের কোন নেতাকে সমালোচনা থেকে বাদ দেননা এবং কি দলের সভাপতি প্রসীত বিকাশ খীসাকেও না। তিনি খুবই স্পষ্টবাদী এবং বাস্তববাদী নেতা হিসেবে কর্মীদের কাছে পরিচিত ছিলেন। আমাদের পার্টি ৩ নভেম্বর-২০১৭ তারিখে পার্বত্যবাসীর উদ্দেশে প্রসীত পন্থীর ইউপিডিএফ এর ব্যাপক দুর্নীতি অনিয়ম বিষয়ে যে খোলা চিঠি লিখেছিলাম, সেই খোলা চিঠির ৯ পৃষ্ঠায় ২নং লাইনে মিঠুন চাকমার যোগ্যতার কথা কিঞ্চিত উল্লেখ করেছিলাম।

নিহত মিঠুন চাকমাসহ প্রসীত পন্থীর অনেক নেতা কর্মীর মামলা রয়েছে। তন্মধ্যে উল্লেখ যোগ্য মামলা রয়েছে মিঠুন চাকমা, প্রদীপন খীসা ও সচিব চাকমাদের এবং সচিব চাকমারা কয়েকবার পুলিশ ও সেনাবাহিনীর হাতে ধরাও পরেন। দীর্ঘ কয়েক বছর জেল খাটার পর সচিব চাকমারা জামিনে বেরিয়ে আসলেও মামলায় নিয়মিত হাজিরা না দেওয়ার কারণে সচিব চাকমারা আবার ওয়ারেন্টভুক্ত আসামী হয়ে যান। তারা কোন মামলায় হাজিরা দেন না।

কিন্তু ২০১৩ সালে মিঠুন চাকমাকে পাহাড়ী ছাত্র পরিষদ থেকে ইউপিডিএফ এর উন্নীত করে, ডাইরেক্ট বাঘাইছড়ি সাজাই এলাকায় পোষ্ট পরিচালকের দায়িত্ব দিয়ে পাঠানো হয়। এতে পঞ্চম শ্রেণীর পাশ কাঞ্চন চাকমা (জুয়েল) মানতে না পেরে পরিচালক মিঠুন চাকমার উপর নানা ষড়যন্ত্র শুরু করেন। যার কারণে মিঠুন চাকমা ইউপিডিএফ -র কাজ করবেন না ঘোষণা দিয়ে তার নিজ বাড়িতে চলে আসেন। তাকে আবার ছলে-বলে, কৌশলে ইউপিডিএফ -এ ফিরিয়ে নেওয়ার জন্য সচিব চাকমারা আপ্রাণ চেষ্টা করেন।

তাতে ব্যর্থ হয়ে খুবই সুকৌশলে মিঠুন চাকমাকে সচিব চাকমারা সেনাবাহিনীর হাতে ধরিয়ে দেন। সেনা বাহিনীরা মিঠুন চাকমাকে ধরে জেল হাজতে দিলেও তিনি খুবই অল্প সময়ের মধ্যে জেল থেকে সাড়া পেয়ে থাকেন। এতে আবার সচিব চাকমাদের সন্দেহ হয় মিঠুন চাকমা নিশ্চয় অতি গোপনে সরকারের কাছে চুক্তি করে জেল থেকে বেড়িয়ে আসলেন কিনা?

আমরা যখন ২০১৭ সালে ১৫ নভেম্বর তারিখে সাংবাদিক সম্মেলনের মাধ্যমে নতুন ইউপিডিএফ (গণতান্ত্রিক) পার্টির ঘোষণা করলাম প্রসীত পন্থী ইউপিডিএফ তাৎক্ষণিক ভাবে খাগড়াছড়ির স্বর্নিভর এলাকায় এর বিরুদ্ধে প্রতিবাদ মিছিল করেছিলেন এবং ১৬ নভেম্বর ২০১৭ তারিখে সড়ক অবরোধ করলেন। এরপর ইউপিডিএফ (গণতান্ত্রিক) পার্টির বিরুদ্ধে পাহাড়ী ছাত্র পরিষদ, যুব ফোরামকে ক্ষেপিয়ে তোলার জন্য সচিব চাকমা, মিঠুন চাকমাকে ফোন করে বলেছিলেন ইউপিডিএফ (গনতান্ত্রিক) পার্টির বিরুদ্ধে পাহাড়ী ছাত্র পরিষদ, যুব ফোরামকে সংগঠিত করে খাগড়াছড়ি ধর্মপুর এলাকায় এসে বক্তব্য দিয়ে যাওয়ার জন্য।

কিন্তু সে দিন সচিব চাকমার কথায় মিঠনু চাকমা অপরাগতা প্রকাশ করেছিলেন এবং নতুন ইউপিডিএফ (গণতান্ত্রিক) পার্টির পক্ষে যায় এমন দু-একটি কথাও সচিব চাকমাকে মিঠুন চাকমা বলেছিলেন। এতে সচিব চাকমা মিঠুন চাকমার উপর ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠেন। এরপর থেকে মিঠুন চাকমাকে ইউপিডিএফ (গণতান্ত্রিক) পক্ষে মনে করেই মিঠুন চাকমাকে হত্যার সুযোগ খোঁজেন সচিব চাকমা।

কারণ, সচিব চাকমা একজন ক্ষমাহীন, আদর্শহীন ও প্রতিশোধপরায়ণ নেতা হিসেবে সকল কর্মীদের কাছে পরিচিত। আমাদের ইউপিডিএফ (গণতান্ত্রিক) পার্টির কার্যক্রমের মেয়াদ এখনো দুই মাসের অধিক হতে চলেছে। এই স্বল্প সময়ের মধ্যে এমন শক্তি অর্জন হয়নি যে, দিন-দুপুরে এভাবে মিঠুন চাকমাকে হত্যা করা যাবে। ইউপিডিএফ (গণতান্ত্রিক) পার্টিকে অংকুরে বিনষ্ট করার জন্য ইউপিডিএফ প্রসীত পন্থীর নেতারা এমন ন্যাক্কারজনক ঘটনা ঘটাচ্ছে। এমন কি, নিজের দলের নেতা কর্মীদের হত্যা করতেও দ্বিধাবোধ করছেন না।

ইউপিডিএফ (গণতান্ত্রিক) পার্টি মিঠুন চাকমার নিহত হওয়ার ঘটনায় কোনোমতে জড়িত নয় এবং মিঠুন চাকমার হত্যাকারী যেই হোক না কেন, তাকে চিহ্নিত ও গ্রেপ্তার করে শাস্তি প্রদান করা হোক ইউপিডিএফ (গনতান্ত্রিক) পার্টি দাবি জানাচ্ছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *