নিজ জাতির মা-বোনেরাও উপজাতীয় আঞ্চলিক সংগঠনের কাছে নিরাপদ নয়


সন্তোষ বড়ুয়া: রাংগামাটি থেকে

পার্বত্য চট্টগ্রামে বর্তমানে চারটি উপজাতি সশস্ত্র গ্রুপ আছে। এরা হলো জেএসএস(সন্তু লারমা) গ্রুপ, জেএসএস(এম এন লারমা) গ্রুপ, ইউপিডিএফ (প্রসীত) গ্রুপ এবং ইউপিডিএফ (গণতান্ত্রিক)। এই উপজাতি গ্রুপগুলো তাদের নিজ জাতির অধিকার আদায়ের সংগ্রামের কথা বলে সশস্ত্র সংগ্রামের পথ বেছে নিয়েছে। মূলতঃ তারা অধিকার আদায়ের নামে পার্বত্য চট্টগ্রামে অস্ত্রবাজি, চাঁদাবাজি, খুন, অপহরণসহ নানা অপকর্ম চালিয়ে যাচ্ছে। তবে তাদের এই কার্যক্রম শুধু সশস্ত্র আন্দোলনের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নেই। তারা ক্রমাগত নারী নির্যাতনের মত জঘন্য অপরাধও ঘটিয়ে যাচ্ছে নিয়মিতভাবে।

উপজাতি এইসব সন্ত্রাসী গ্রুপগুলোর কাছে তাদের নিজ জাতির মেয়েরাও নিরাপদ নয়। বিশেষ করে জেএসএস (সন্তু লারমা) গ্রুপ এবং ইউপিডিএফ (প্রসীত) গ্রুপ পার্বত্য চট্টগ্রামে নারী নির্যাতনের ক্ষেত্রে বেশী সক্রিয়। পাহাড়ীদের সংগঠন ইউপিডিএফ (প্রসীত) গ্রুপ ও জেএসএস (সন্তু লারমা) গ্রুপ মূলতঃ বাম ধারার সংগঠন- যারা সব সময় ব্যক্তি ও বাক স্বাধীনতা এবং মুক্তচিন্তার কথা বলে থাকে। অথচ উপজাতি তরুণীদের ব্যক্তি স্বাধীনতা এখানে একবারেই নেই। পার্বত্য চট্টগ্রামে উপজাতি সশস্ত্র দলগুলো কর্তৃক সংঘটিত হাজারো নারী নির্যাতনের ঘটনার মধ্য থেকে কয়েকটি ঘটনা পাঠকদের জন্য উদাহরণ হিসেবে তুলে ধরছিঃ

ইউপিডিএফ (প্রসীত) গ্রুপের সাথে সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড পরিচালনায় অস্বীকৃতি জানানোর কারণে সন্ত্রাসীরা গত ৪ জুলাই ২০১৭ তারিখে রাঙামাটির নানিয়ারচরের লম্বাছড়ি থেকে মদন চাকমা নামে একজনকে অপহরণ করে নিয়ে যায়। পরে ইউপিডিএফ (প্রসীত) গ্রুপের আস্তানা থেকে কৌশলে মদন চাকমা পালিয়ে যেতে গেলে সন্ত্রাসীরা ক্ষিপ্ত হয়ে মদন চাকমার নিজ বাড়ি থেকে তার স্ত্রী শুবলপুরি চাকমাকে অপহরণ করে নিয়ে যায়। ইউপিডিএফ (প্রসীত) গ্রুপ শুবলপুরি চাকমাকে অপহরণ করে যৌন কাজে ব্যবহারের জন্য আটকে রাখে। পরে মদন চাকমার অভিযোগ ও তথ্যের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে তার স্ত্রীকে উদ্ধার করে নিরাপত্তাবাহিনী। এই ঘটনায় জড়িত থাকায় অমরেশ চাকমা নামে ইউপিডিএফ (প্রসীত) গ্রুপের একজন গ্রেফতার হয়।

২০১৬ সালের ১৮ নভেম্বর রাঙামাটি জেলার নানিয়ারচর উপজেলার নানাপুরণ গ্রামে নিজ বাড়ী থেকে অস্ত্রের মুখে জোসনা চাকমাকে তুলে নিয়ে যায় ইউপিডিএফ (প্রসীত) গ্রুপ সমর্থিত সংগঠন যুব পরিষদ কর্মীরা। গলায় ও পায়ে শিকল পরিয়ে দীর্ঘ ২ মাস নির্যাতন করা হয় তাকে। পরে নিরাপত্তাবাহিনী তাকে উদ্ধার করে। রাঙামাটি প্রেসক্লাবে এক সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করে অপহৃত জোসনা চাকমা ও তার স্বামী অপু চন্দ্র সিংহ এসব নির্যাতনের বর্ণনা দেন। ভালবেসে বাঙালি হিন্দু ছেলে অপু চন্দ্র সিংহকে বিয়ে করার কারণে জোসনা চাকমাকে এই নির্যাতনের শিকার হতে হয়।

ইউপিডিএফ (প্রসীত) গ্রুপের পক্ষে কাজ করতে রাজি না হওয়ায় মিতালী চাকমা নামে রাংগামাটি সরকারী কলেজের ডিগ্রী ৩য় বর্ষের এক কলেজ ছাত্রীকে টানা তিন মাস তাদের আস্তানায় আটকে রেখে শারীরিক অত্যাচার ও ধর্ষণ করে ইউপিডিএফ (প্রসীত) গ্রুপের সদস্যরা। গত ১৭ আগস্ট ২০১৮ তারিখে মিতালী চাকমাকে রাঙামাটি সদরের সাপছড়ি ইউনিয়নের বোধিপুর নিজ বাড়ি থেকে অপহরণ করে নিয়ে যায় ইউপিডিএফ (প্রসীত) গ্রুপের সদস্যরা।  মিতালী চাকমাকে দলে যোগ দেয়ার জন্য চাপ দিলে তিনি রাজী না হওয়ায় তাকে ধর্ষণ করে গর্ভবতী করে মানসিক দৃঢ়তা ভেঙে ফেলার সিদ্ধান্ত নেয় গ্রুপটি। সিদ্ধান্ত মোতাবেক তিন মাস ধরে মেয়েটির উপর নির্যাতন চালায় তারা। অপহৃত মিতালী চাকমাকে প্রায় ২ মাস পরে (১৯ নভেম্বর ২০১৮ তারিখে) উদ্ধার করে যৌথবাহিনী। উদ্ধার হওয়ার পর খাগড়াছড়িতে সাংবাদিক সম্মেলন করে একথা জানায় মেয়েটি।

গত ১ নভেম্বর ২০১৮ তারিখে খাগড়াছড়ি জেলার দীঘিনালা-বাঘাইহাট সড়কের শুকনাছড়ি এলাকা থেকে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিসংখ্যান বিভাগের ৪র্থ বর্ষের ছাত্রী রিমি চাকমাকে অপহরণ করে নিয়ে গিয়েছিলো ইউপিডিএফ (প্রসীত) গ্রুপের সন্ত্রাসীরা। অপহরণের পর এই ঘটনা ছড়িয়ে পড়লে ব্যাপক অভিযানে নামে বাঘাইহাট ও দিঘীনালার সেনাবাহিনীর নেতৃত্বাধীন যৌথবাহিনীর সদস্যরা। এসময় সেনাবাহিনীর ব্যাপক উপস্থিতির কারণে সন্ত্রাসীরা কোণঠাসা হয়ে পড়লে এক পর্যায়ে রাত দশটার দিকে শুকনাছড়িতে স্নেহ কুমার চাকমার বাড়ির কাছে উক্ত শিক্ষার্থী রিমি চাকমাকে ছেড়ে দিতে বাধ্য হয় ইউপিডিএফ (প্রসীত) গ্রুপের সন্ত্রাসীরা।

খাগড়াছড়ি জেলার দীঘিনালা উপজেলার ক্ষেত্রলাল ত্রিপুরার মেয়ে দীপা ত্রিপুরাকে গত ১২ এপ্রিল ২০১৫ তারিখে অপহরণ করে আঞ্চলিক রাজনৈতিক দল ইউপিডিএফ (প্রসীত) গ্রুপ সমর্থিত পাহাড়ি ছাত্র পরিষদের (পিসিপি) কর্মীরা। অপহরণের পর একটি জুম ঘরে আটক করে দীপা ত্রিপুরাকে পালাক্রমে গণধর্ষণ করে পিসিপি’র এসব সন্ত্রাসীরা। এসময় পুরো গণ-ধর্ষণের দৃশ্য মোবাইলে ভিডিও করে তারা।

গত ৮ সেপ্টেম্বর ২০১৭ তারিখে মাটিরাংগার বাইল্যাছড়ি এলাকা হতে চলন্ত বাস থেকে স্বামীর সামনে থেকে নয়ন ত্রিপুরা ওরফে ফাতেমা বেগমকে অপহরণ করে নিয়ে যায় ইউপিডিএফ (প্রসীত) গ্রুপের সন্ত্রাসীরা। নয়ন ত্রিপুরার অপরাধ ছিলো সে ভালবেসে বাঙালী ছেলেকে বিয়ে করেছিলো।

গত ৩০ মে ২০১৬ তারিখে, রাঙ্গামাটি জেলার বাঘাইছড়ি থেকে আঞ্চলিক সংগঠণ জেএসএস (সন্তু) গ্রুপ এর হাতে অপহৃত হন অবসর প্রাপ্ত সার্জেন্ট মুকুল চাকমা। যিনি এখনো পর্যন্ত নিখোঁজ। ঘটনার পর বিভিন্ন চড়াই উৎরাই পেরিয়ে থানায় মামলা দায়ের করার পর থেকে স্থানীয় সন্ত্রাসী কর্তৃক নানান রকম হুমকির সম্মুখীন হয়েছে মুকুল চাকমার স্ত্রী এবং কন্যা নমিসা চাকমা। চট্টগ্রাম নাসিরাবাদ মহিলা কলেজের অনার্সের ছাত্রী নমিসা চাকমা নিরাপত্তাহীনতার কারণে পড়ালেখা বন্ধ করে দিতে বাধ্য হয়েছে। নিরাপত্তাহীনতার কারণে এখন তারা সন্ত্রাসীদের হুমকির মুখে নিজ ভিটেমাটি ছেড়ে আত্নগোপনে পালিয়ে বেড়াচ্ছে। তার মা এবং তারা দুই বোন এখন আর পৈতৃক ভিটায় যেতে পারছেন না।

গত ২৯ মে ২০১৬ তারিখে, রাঙ্গামাটি জেলার বিলাইছড়ি উপজেলাতে আঞ্চলিক রাজনৈতিক দল জেএসএস(সন্তু) গ্রুপ সমর্থিত পাহাড়ি ছাত্র পরিষদের (পিসিপি) অর্থ সম্পাদক সুনীতিময় চাকমা এর নেতৃত্বে প্রায় ২০ জনের একটি দল আয়না চাকমা নামক এক কিশোরীকে অপহরণ করে। এরপর গহিন জঙ্গলে নিয়ে আয়না চাকমাকে যৌন নির্যাতন করে তারা।

গত জুন ২০১৩ তারিখে, বাঙালী মুসলিম ছেলেকে বিয়ে করার অপরাধে রাঙামাটির কুতুকছড়িতে চলন্ত অটোরিক্সা থেকে নামিয়ে রিনা ত্রিপুরা নামে এক পাহাড়ি যুবতিকে অপহরণ করে নিয়ে যায় ইউপিডিএফ (প্রসীত) গ্রুপের সন্ত্রাসীরা। যার সন্ধান এখনো পাওয়া যায়নি।  অপহৃত রীনা ত্রিপুরার বাড়ি বান্দরবানের লামা উপজেলার কুমারী পাড়ার ইয়াং ছড়া গ্রামে।

একই ভাবে ২০১৫ সালের মার্চ মাসের দিকে ভালোবেসে এক বাঙ্গালী ছেলেকে বিয়ে করার অপরাধে খাগড়াছড়ি জেলার গুইমারা থানাধীন হাফছড়ির থোয়াই অং মারমা‘র মেয়ে উমাচিং মারমা ও তার পরিবারকে নির্যাতনসহ সে পরিবার থেকে মোটা অঙ্কের চাঁদা আদায় করে ইউপিডিএফ (প্রসীত) গ্রুপের সন্ত্রাসীরা ও স্থানীয় পাহাড়ী জনপ্রতিনিধিবৃন্দ। তারা বাঙালী স্বামীকে ত্যাগ করার জন্য চাপ সৃষ্টি করে মেয়েটির প্রতি। কিন্তু মেয়েটি তা অস্বীকার করায় ঐ সন্ত্রাসীরা উমাচিং মারমাকে বেঁধে একটি কক্ষে আটকে রাখে এবং অমানুষিক নির্যাতন করে বাঙালী স্বামীকে ত্যাগ করতে বলে। কিন্তু মেয়েটি তাতে রাজি না হয়ে সকল অত্যাচার মুখ বুজে সহ্য করতে থাকে। এক পর্যায়ে সুযোগ বুঝে মেয়েটি পালিয়ে ঢাকায় তার স্বামীর কাছে চলে যায়।

উপজাতি এই সকল সংগঠনগুলো তাদের মা-বোনদের শুধু ধর্ষণ আর নির্যাতন করেই ক্ষান্ত হয় না। তাদের সহিংসতার শিকার হতে হয় অবুঝ শিশুদেরকেও। এমনই একটি উদাহরণ হলো মৃত নরোত্তম ত্রিপুরার মেয়ে কৃত্তিকা ত্রিপুরা। গত ২৮ জুলাই ২০১৮ তারিখে খাগড়াছড়ি জেলার দীঘিনালা উপজেলার মেরুং ইউনিয়নের নয়মাইল এলাকায় স্কুলছাত্রীর কৃত্তিকা ত্রিপুরা(১২) কে হত্যা করা হয়। কৃত্তিকা ত্রিপুরা ছিলো নয় মাইল ত্রিপুরা গুচ্ছগ্রাম সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পঞ্চম শ্রেণীর ছাত্রী। ঘটনার পর পুলিশ ও এলাকাবাসী পাশের বাগান থেকে রাত সাড়ে দশটায় নিহতের লাশ উদ্ধার করে। পরবর্তীতে, স্কুলছাত্রী কৃত্তিকা ত্রিপুরাকে বিভৎস হত্যার দায় শিকার করে পুলিশের নিকট জবানবন্দি প্রদান করে এই ঘটনায় আটক জেএসএস এমএন লারমা গ্রুপ সমর্থিত যুব সমিতির নেতা রবেন্দ্র ত্রিপুরা ওরফে শান্ত।

কৃত্তিকা ত্রিপুরা হত্যার আগে নয়মাইল এলাকার মৃত নরোত্তম ত্রিপুরার ঘরে বসেই চাঁদা উত্তোলন করতো শান্ত। কৃত্তিকা ত্রিপুরার মা অনুমতি ত্রিপুরা তাকে বাড়ি থেকে বের করে দেয়ার কারণেই ক্ষুব্ধ হয়ে কৃত্তিকা ত্রিপুরাকে নৃসংশভাবে হত্যা করে এবং ঘটনা ঘটানোর পর কাউকে না জানানোর জন্যে হুমকি প্রদান করা হয়। হত্যার পর নিজেদের দোষ ধামাচাপা দিতেই কয়েক বাঙ্গালী যুবকের নাম জড়িয়ে তাদেরকে ধর্ষণ ও হত্যার জন্য দায়ী করে সভা সমাবেশ করে

জেএসএস,ইউপিডিএফসহ বিভিন্ন উপজাতীয় সংগঠন। রাজধানী ঢাকা ও আন্তর্জাতিক বিভিন্ন মহলে এই ঘটনাকে পার্বত্য বাঙালী বিরোধী সেন্টিমেন্ট তৈরিতে ব্যাপকভাবে প্রচারও করে তারা। এই ঘটনার পর থেকে সমগ্র পার্বত্য চট্টগ্রামে, জাতীয় ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে এমনকি জাতিসংঘের বৈঠকেও ধর্ষণ ও হত্যাকারী হিসাবে বাঙালীদের দায়ী করে বিভিন্ন কর্মসূচী ও অপপ্রচার চালানো হয়।

অনুসন্ধানে দেখা গেছে, পার্বত্য চট্টগ্রামে কোনো নারী নির্যাতনের ঘটনা ঘটলেই প্রত্যক্ষদর্শী না থাকলে উপজাতি এই সব সংগঠনগুলো এবং তাদের সমর্থনপুষ্ট বিভিন্ন সংগঠন যেমন সিএইচটি কমিশন, কাপেং ফাউন্ডেশন এমনকি মানবাধিকার কমিশনও তার দায় বাঙালী ও নিরাপত্তা বাহিনীর উপর চাপিয়ে ব্যাপক অপপ্রচার চালায়। কিন্তু তদন্ত শেষে বহু ক্ষেত্রে দেখা যায় ঐ সকল ধর্ষণ ও হত্যাকাণ্ডে পাহাড়ীরাই জড়িত। কিন্তু যখনই এসকল ঘটনায় পাহাড়ীদর নাম আসে তখন এসকল সংগঠন নীরব হয়ে যায়। কেন তাদের এই দ্বিমূখী আচরণ? ইতিচাকমা, বালাতি ত্রিপুরা, বিশাখা চাকমা, উ প্রু মারমা, সবিতা চাকমাসহ এরকম আরো অসংখ্য হত্যা বা ধর্ষণের উদাহরণ দেয়া যায় যাতে প্রত্যক্ষদর্শীর অভাবে বাঙালীদের দায়ী করে ব্যাপক অপপ্রচার করলেও পরে তদন্তে পাহাড়ীদের নাম আসায় এসকল সংগঠন নীরব হয়ে গিয়েছে।

সরেজমিনে খোঁজ নিয়ে দেখা যায় যে, প্রতি বছরই বিভিন্ন বিদেশী এনজিও কিংবা দাতা সংস্থা যেমন ইউএনডিপি, ইইউ ইত্যাদির সহায়তায় উচ্চ শিক্ষার নামে উপজাতিদেরকে স্কলারশীপ দিয়ে বিদেশে নিয়ে যাওয়া হয়। স্কলারশীপ নিয়ে বিদেশে পড়তে যাওয়া ঐ সমস্ত উপজাতি শিক্ষার্থীরাও বিদেশের মাটিতে বসে পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ে বাংলাদেশ সরকার, নিরাপত্তাবাহিনী এবং পার্বত্য চট্টগ্রামে বসবাসরত বাংগালী জনগোষ্ঠীর নামে ক্রমাগত মিথ্যাচার ও অপপ্রচার করে থাকে। পার্বত্য চট্টগ্রামে সংঘটিত কোন ঘটনা থেকে তারা সুবিধা ও সহমর্মিতা আদায়ের লক্ষ্যে উক্ত ঘটনাকে বিকৃত করে বিশ্ববাসীর সামনে তুলে ধরে। অথচ কোন উপজাতি কর্তৃক কোন উপজাতি খুন, ধর্ষণ, অপহরণ বা নির্যাতনের শিকার হলে তারা সম্পূর্ণ নিশ্চুপ থাকে। ক্ষেত্র বিশেষে ছবি বিকৃতি/এডিট করে নিরাপত্তাবাহিনী কিংবা বাংগালি জনগোষ্ঠীর বিরুদ্ধে মিথ্যা অপপ্রচারও চালিয়ে থাকে তারা।

একইভাবে কোনো পাহাড়ী যখন পাহাড়ী নারী ধর্ষণ, হত্যা, নির্যাতন করে তখন তাদের বিচার দাবী তো দুরে থাক থানায় মামলা করতেও দেয় না পাহাড়ী সংগঠন, তাদের সমাজপতিরা এবং উপজাতি সমর্থনপুষ্ট বিভিন্ন সংগঠনগুলো। অন্যদিকে পার্বত্য চট্টগ্রামে নিরাপত্তা বাহিনী সন্ত্রাস নির্মূলে যখনই কোনো বিশেষ অপারেশন পরিচালনা করে তখনই মিথ্যা নারী ধর্ষণ ইস্যু সৃষ্টি করে অপপ্রচারের মাধ্যমে সেই অপারেশন থামানোর অপচেষ্টা করে পাহাড়ীরা। রাঙামাটির বিলাইছড়িতে দুই মারমা বোনের কল্পিত নির্যাতনের কাহিনী ও বান্দরবানের লামার দুই মারমা বোনের ধর্ষণের মিথ্যা অভিযোগ তার জলন্ত প্রমাণ। তদন্তে যখন প্রমাণ হয় ধর্ষণের অভিযোগ মিথ্যা, তখন পাহাড়ীরা নীরব হয়ে যায়। কিন্তু ততক্ষণে বিব্রতকর পরিস্থিতিতে পড়ে থেমে যায় নিরাপত্তা বাহিনীর বিশেষ অপারেশন। এভাবেই পার্বত্য চট্টগ্রামে পাহাড়ী সন্ত্রাসীরা ধর্ষণ ও নারী নির্যাতনকে তাদের রাজনৈতিক ফায়দা লোটার নিকৃষ্ট হাতিয়ারে পরিণত করেছে।

এরকম আরো অনেক ঘটনা আছে। তবে যে সমস্ত নির্যাতন বা ধর্ষণের ঘটনাগুলো প্রকাশ পায় আমরা শুধু সেগুলোই জানতে পারছি। গহীন পাহাড়ি জংগলে লুকিয়ে থাকা এই সব উপজাতি সশস্ত্র জংগী সংগঠনগুলোর আস্তানায় মিতালি চাকমার মত এরকম আরো কত নিরীহ মেয়েরা নির্যাতনের শিকার হচ্ছে তা আমাদের কাছে অজানা রয়ে যাচ্ছে। নিরাপত্তার অভাবে পাহাড়ী নারীরা বা তার পরিবারের সদস্যরা এ নিয়ে মুখ খুলতেও সাহস করে না।

পার্বত্য এলাকায় অপসংস্কৃতির বেড়াজালে বন্দি উপজাতী সন্ত্রাসীদের ভোগ্য পন্যের শিকার এসব নারী নির্যাতনের কথা কতিপয় মিডিয়া এবং শুশীল সমাজের মুখে প্রতিবাদ বাক্য হিসেবে কোনদিনও শোনা যায় না। অদ্ভুত বিষয় হচ্ছে, পার্বত্য চট্টগ্রামের সশস্ত্র এইসব উপজাতি জঙ্গী সংগঠনগুলোর নারী নির্যাতনের খবর মিডিয়া, মানবাধিকার সংস্থা, সুশীল সমাজ কেন জানি না কৌশলে এড়িয়ে যায়। এ ধরনের ঘটনা মানবাধিকার সংস্থাগুলো তাদের পরিসংখ্যানে তালিকাভূক্ত করে কিনা সে বিষয়েও যথেষ্ট সন্দেহ আছে।

পাহাড়ী তরুণীদের নিজ জাতি-গোষ্ঠীর লোকদের হাতে এরূপ নির্বিচারে গণধর্ষণের শিকার হওয়া নিয়ে একটি গবেষণাধর্মী উপন্যাস বের করেন লেখিকা রোকেয়া লিটা। ‘ডুমুরের ফুল’ নামে আলোড়ন সৃষ্টিকারী এ বইটি বের করলে উপজাতি সংগঠন কর্তৃক তাকে গণধর্ষণ মেরে ফেলার হুমকিও দেয়া হয়।

যেই উপজাতি সংগঠনগুলো নিজ জাতির অধিকার আদায়ের সংগ্রামের কথা বলে নিজ জাতির মেয়েদেরকেই ধর্ষণ, অপহরণ আর নির্যাতন করছে তারা কিসের অধিকার আদায় করতে চায় সেই প্রশ্ন রইলো বিবেকবান সকলের কাছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *