মাতারবাড়ির বিদ্যুৎ কেন্দ্রের ধীরগতির জবাব চেয়েছে আইএমইডি


প্রতিনিধি প্রতিনিধি:

মহেশখালীর মাতারবাড়ি কয়লাভিত্তিক তাপ বিদ্যুৎকেন্দ্র’ নির্মাণ প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার দশটি অগ্রাধিকার প্রকল্পের একটি। অথচ গত তিন বছর তিনমাসে প্রকল্পটির আর্থিক অগ্রগতি হয়েছে মাত্র ৪ হাজার ৫৩২ কোটি ১৮ লাখ টাকা, যা মোট ব্যয়ের মাত্র ১৩ শতাংশ।

একে হতাশাব্যঞ্জক বলে উল্লেখ করে কাজের ধীরগতির জবাব চেয়েছে পরিকল্পনা কমিশনের বাস্তবায়ন, পরিবীক্ষণ ও মূল্যায়ন বিভাগের (আইএমইডি) তদন্ত কমিটি। প্রকল্প বাস্তবায়নকারী সংস্থা কোল পাওয়ার জেনারেশন কোম্পানি বাংলাদেশ লিমিটেডকে (সিপিজিসিবিএল) চিঠি দিয়ে আগামী ডিসেম্বরের মধ্যে সঠিক ব্যাখ্যা দিতে বলা হয়েছে।

মাতারবাড়ি বিদ্যুৎকেন্দ্রের ৬০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন ক্ষমতা সম্পন্ন দু’টি ইউনিট থেকে ১ হাজার ২০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদিত হবে। ৩৫ হাজার ৯৮৪ কোটি ৪৬ লাখ টাকা ব্যয়ে প্রকল্পটির চূড়ান্ত অনুমোদন পায় ২০১৪ সালের জুলাই মাসে। ২০২৩ সালের জুন মেয়াদে কাজ সম্পূর্ণ হওয়ার কথা।

আইএমইডি’র প্রধান শেখ নজরুল ইসলাম ও প্রকল্প পরিচালক আবুল হাশেমসহ মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা গত ২৭ সেপ্টেম্বর প্রকল্প এলাকা পরিদর্শন করেন। অক্টোবর মাসে প্রতিবেদন তৈরি করে নভেম্বরের শুরুতে সিপিজিসিবিএল’র কাছে প্রকল্প বাস্তবায়নে ধীরগতির ব্যাখ্যা চেয়েছে বিভাগটি।

এ গতিতে কাজ চললে ২০১৮ সালের মধ্যে প্রথম পাওয়ার প্ল্যান্টের কাজ সম্পন্ন হবে না বলে আশঙ্কা করছে আইএমইডি। তাই প্রকল্পের সমন্বিত অগ্রগতি ও সময় মতো সমাপ্তির লক্ষ্যে সিপিএম (ক্রিটিক্যাল পথ ম্যাথড) প্রণয়ন ও অনুসরণের নির্দেশনা দিয়েছে সিপিজিসিবিএলকে।

আইএমইডি’র সচিব মফিজুল ইসলাম বলেন, ‘সরেজমিন পরিদর্শনে প্রকল্প বাস্তবায়নে অনেক ত্রুটি-বিচ্যুতি দেখেছি। ধীরগতির ব্যাখ্যা চেয়ে সিপিজিসিবিএলকে চিঠি দেওয়ার পাশাপাশি পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ে এসব ত্রুটি-বিচ্যুতিও তুলে ধরেছি’।

সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘আমরা শুধু ধীরগতির কারণগুলো জেনে সংশ্লিষ্টদের দ্রুততম সময়ে প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করতে বলতে পারবো। প্রাপ্ত তথ্য পরিকল্পনামন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামালকে জানাবো। পরে তিনি প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবেন’।

আইএমইডি’র প্রতিবেদনে দেখা গেছে, প্রকল্পটির আওতায় চকরিয়া-মাতারবাড়ি ১৩২ কেভি ট্রান্সমিশন লাইনের নির্মাণ কাজ চলমান।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *