‘ভূমি কমিশন (সংশোধীত) আইনে অনিশ্চয়তার মুখে রাষ্ট্রের সার্বভৌমত্ব ও বাঙালীর ভবিষ্যৎ’


L16

 পার্বত্য নিউজ রিপোর্ট: পার্বত্যাঞ্চল বাঙালিশূন্য করার লক্ষ্যে উপজাতীয় নেতা কর্তৃক পার্বত্য ভূমি কমিশন আইনের ২৩টি ধারা সংশোধনের দাবীর প্রেক্ষিতে গত ৩০ জুলাই ২০১২ আন্তঃমন্ত্রণালয়ের এক সভায় ১৩টি ধারা সংশোধনের সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়। রাষ্ট্রীয় স্বার্থবিরোধী উক্ত সিদ্ধান্তে পার্বত্যাঞ্চলের দুই-তৃতীয়াংশ জনগোষ্ঠীর প্রবল বিরোধীতা সত্বেও গত ২৭ মে ২০১৩ প্রধানমন্ত্রীর সভাপতিত্বে মন্ত্রীপরিষদের এক সভায় পার্বত্য ভূমি কমিশন (সংশোধীত) আইন ২০১৩ খসড়া অনুমোদন করেন।

৩ জুন ২০১৩ উক্ত সংশোধীত আইন মন্ত্রীপরিষদ কর্তৃক চূরান্ত অনুমোদিত হয়। এতে প্রমাণিত হয় পার্বত্যাঞ্চলের দুই-তৃতীয়াংশ জনগোষ্ঠীর বিরোধীতা ও রাষ্ট্রীয় স্বার্থ বিবেচনা না করে বর্তমান সরকার এক পক্ষকে খুশি করতে উক্ত (সংশোধীত) আইন পাশ করতে চাচ্ছে। ফলে রাষ্ট্রের অখন্ডতা ও পার্বত্য বাঙালির ভবিষ্যৎ হুমকির মুখে পড়বে বলে দাবি করে বিবৃতি দিয়েছে পার্বত্য বাঙ্গালী ছাত্র ঐক্য পরিষদ। সংগঠনটির পক্ষ থেকে শনিবার সকালে পাঠানো এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে পার্বত্য ভূমি কমিশন আইনের সংশোধনী সমূহের নিমোক্ত ব্যাখ্যা প্রদান করে তাদের উদ্বেগের কারণ তুলে ধরা হয়।

পার্বত্য ভূমি কমিশন (সংশোধীত) আইন ২০১৩ সমূহ

ধারা ৭ এর (৫)

চেয়ারম্যান উপস্থিত অন্যান্য সদস্যদের সহিত আলোচনার ভিত্তিতে ৬(১)-এ বর্ণিত বিষয়টিসহ উহার এখতিয়ারভুক্ত অন্যান্য বিষয়ে সর্বসম্মতির ভিত্তিতে সিদ্ধান্ত গ্রহণ করিবেন, তবে সর্বসম্মত সিদ্ধান্তে উপনীত সম্ভব না হইলে চেয়ারম্যানসহ সংখ্যাগরিষ্ঠ সদস্যদের গৃহীত সিদ্ধান্তই কমিশনের সিদ্ধান্ত বলিয়া গণ্য হইবে;”।
– উক্ত আইন পাশ হলে, চেয়ারম্যানসহ ৫ সদস্য বিশিষ্ট এ কমিশনের সদস্য সচিব চট্টগ্রাম বিভাগীয় কমিশনার অথবা অতিরিক্ত বিভাগীয় কমিশনার (সংশোধনীর ফলে তিন পার্বত্য জেলায় বসবাসরত উপজাতীয়দের মধ্যে থেকে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে এ পদে নিয়োগ দেয়া হবে), এছাড়া অপর তিন জন সদস্য উপজাতীয়। অর্থাৎ ৫ জনের মধ্যে ৪ জনই উপজাতীয়। তাই অধিকাংশের মতামতকে উপেক্ষা করা চেয়ারম্যানের পক্ষে অসম্ভব হয়ে পড়বে। যার ফলে পার্বত্য বাঙ্গালীর ভূমির অধিকার হরণ এবং রাষ্ট্রের অখন্ডতা হুমকির মুখে পড়বে।

১৩(২) ধারার পরে নতুন উপধারা সংযোজন 

“(৩) এই ধারার অধীন কমিশনের সচিব এবং অন্যান্য কর্মকর্তা ও কর্মচারী নিয়োগের ক্ষেত্রে পার্বত্য জেলার উপজাতীদের অগ্রাধিকারের ভিত্তিতে নিয়োগ প্রদান করা হইবে।”
উক্ত আইন বাস্তবায়িত হলে, এতদাঞ্চলের বাঙ্গালী জনগোষ্ঠীর সাংবিধানিক অধিকার হরণ এবং একছত্র উপজাতীয় কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের স্বেচ্ছাচারিতার ফলে পার্বত্য বাঙালি ভূমির অধিকার হারাবে।
ধারা ৬(১)ক : “পুনর্বাসিত শরণার্থীদের জমি-জমা বিষয়ক বিরোধ দ্রুত নিষ্পত্তি করা ছাড়াও অবৈধভাবে বন্দোবস্ত ও বেদখল হওয়া জায়গা জমি ও পাহাড়ের মাািলকানাস্বত্ত্ব বাতিলকরণসহ সমস্ত ভূমি সংক্রান্ত বিরোধ পার্বত্য চট্টগ্রামের প্রচলিত আইন, রীতি ও পদ্ধতি অনুযায়ী নিষ্পত্তি করা।”
উক্ত আইন বাস্তবায়িত হলে, পার্বত্য চুক্তির পরবর্তী সময়ে সন্তু লারমার বক্তব্য অনুযায়ী তৎকালীন আওয়ামী লীগ সরকারের সাথে অলিখিত চুক্তির দাবী, অবৈধ বন্দোবস্তির মাধ্যমে পার্বত্যাঞ্চলে বাঙালি সেটালারদের অবস্থানের দাবী, অবৈধ বন্দোবস্তি বাতিল করে উপজাতীয় শরণার্থীদের পুনর্বাসনের দাবী, পার্বত্যাঞ্চল নিয়ে উপজাতীয় নেতাদের কল্পিত “জুমল্যান্ড” বানানোর পথে বড় বাঁধা পার্বত্য বাঙালিদেরকে অত্র অঞ্চল থেকে সরিয়ে নিয়ে ফেনী, নোয়াখালীসহ বিভিন্ন জেলার চরাঞ্চলে (ঘূর্ণিঝড় ও জলোচ্ছ্বাসে যেসব এলাকা ১০-১৫ ফুট পর্যন্ত পানির নিচে তলিয়ে যায়) পুনর্বাসনের পথ সুগম হবে। এতে প্রমাণিত হয় পার্বত্যঞ্চল থেকে বাঙালিদের তাড়ানোর নীলনকশার অংশ হিসেবেই উপজাতীয় নেতা কর্তৃক পার্বত্য ভূমি কমিশন আইন সংশোধনের দাবী তোলা হয়েছে।

ধারা ৬(১)(গ) 

“পার্বত্য চট্টগ্রামের প্রচলিত আইন, রীতি ও পদ্ধতি বহির্ভুতভাবে ফ্রীঞ্জল্যান্ড (জলেভাসা জমি)সহ কোন ভূমি বন্দোবস্ত প্রদান এবং বন্দোবস্তজনিত কারণে কোন বৈধ মালিক ভূমি হইতে বেদখল হইয়া থাকিলে তাহার দখল পুনর্বহাল:” শব্দাবলী প্রতিস্থাপন করা।
উক্ত আইন কার্যকর হলে, কমিশনের সংখ্যাগরিষ্ঠ কোরামের ভিত্তিতে হিলট্র্যাক্টস ম্যানুয়েল ১৯০০ সাল এর প্রচলিত আইন, রীতি ও পদ্ধতি অনুযায়ী পার্বত্য ভূমি কমিশন উপজাতীয় কমিশনে পরিণত হবে। ফলে রাষ্ট্র পার্বত্যাঞ্চল থেকে কর্তৃত্ব হারাবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *