বান্দরবান আ’লীগ থেকে বহিষ্কৃত দুই নেতার গোপন বৈঠক



নিজস্ব প্রতিবেদক, বান্দরবান
রাজনীতিতে শেষ কথা বলে কিছু নেই- এরই যেন প্রতিফলন ঘটেছে বান্দরবানের রাজনীতিতে। একসময় দুজনে আওয়ামীলীগে ছিলেন হেভী ওয়েট। রাজনীতিতে দু-হেভী ওয়েটের আধিপত্য বিস্তারে নেতা-কর্মীরা দিশেহারা হয়ে পড়েছিলেন। ফলে আওয়ামীলীগে তখন বিরাজ করছিল প্রসন্ন-মুজিব দা-কুড়াল অবস্থা। অবশেষে ১৮ বছরের টানা জেলা আ’লীগের সভাপতি প্রসন্ন কান্তি তঞ্চঙ্গ্যার পতন ঘটে ২০১৩ সালে।

অন্যদিকে প্রসন্ন কান্তি তঞ্চঙ্গ্যা জেলা আ’লীগ থেকে বহিষ্কার হওয়ার পর অপ্রতিদ্বন্দ্বী হয়ে উঠেন জেলা আ,লীগের সাধারণ সম্পাদক ও জেলা পরিষদের সদস্য কাজি মুজিবুর রহমান। এরই মধ্য জেলা আওয়ামীলীগে সভাপতি করা হয় জেলা পরিষদের চেয়াম্যান ক্যশৈহ্লাকে।

জেলা সভাপতি ক্যশৈহ্লা হলেও দল ও নেতা কর্মীদের পরিচালনা করেন জেলা আ,লীগের সাধারণ সম্পাদক কাজি মুজিবুর রহমান। তিনি শুধু পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী বীর বাহাদুর এমপিকে সমীহ করতেন বলে জনশ্রুতি রয়েছে। জেলা ও উপজেলার নেতা-কর্মীরা তার সাথে দেখা করতে ঘন্টার পর ঘন্টা অপেক্ষা করতে হত তার বাসভবনে। ছোট একটি ঘটনায় তার পতন ডেকে আনেন নিজেই। এরপর কাজি মুজিবুর দল থেকে বহিষ্কার হন।

জানা গেছে এক সময় দা-কুড়াল সম্পর্ক ভুলে জোট বেঁধেছেন আ,লীগ থেকে বহিষ্কৃত এই দুই নেতা। বান্দরবান জেলা আওয়ামী লীগের বহিষ্কৃত সাবেক সভাপতি প্রসন্ন কান্তি তঞ্চঙ্গ্যা ও সাধারণ সম্পাদক কাজি মুজিবুর কক্সবাজারে বেসরকারি হোটেলে গোপন বৈঠকও করেছেন। যা ইতোমধ্যে টক অবদ্যা টাউনে পরিণত হয়েছে।

বৈঠকে আওয়ামী লীগের অঙ্গ সংগঠনের কিছু নেতাকর্মীও উপস্থিত ছিলেন বলে জানা গেছে। এঘটনার জেরে রবিবার ১০ ডিসেম্বর আজিজনগর ইউনিয়নের সেচ্ছাসেবক লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক মফিজুল ইসলামকে বহিষ্কার করা হয়েছে সংগঠন থেকে।

সূত্র জানায়, শনিবার ৯ ডিসেম্বর কক্সবাজারেরর একটি হোটেলে বহিষ্কৃত জেলা আ’লীগের সাবেক সভাপতি প্রসন্ন কান্তি তঞ্চঙ্গ্যা ও সাবেক সাধারণ সম্পাদক কাজি মুজিবুর রহমানের নেতৃত্বে বৈঠক হয়। আগামী সংসদ নির্বাচনে এ-দুজন আওয়ালীগ থেকে মনোনয়ন চাইবেন নয়তোবা সতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে প্রার্থী হবেন। এনিয়ে অনুগত নেতাকর্মীদের নিয়ে নিয়ে বৈঠক হয়েছে বলে সূত্র জানায়।

বৈঠকটি গোপনে করা হলেও সামাজিক যোগযোগ মাধ্যমে খবর চলে আসে।

সূত্র জানায়, আগামী সংসদ নির্বাচনে দলের বহিষ্কৃত দুই নেতা বান্দরবান সংসদীয় আসনের জন্য আওয়ামী লীগ থেকে মনোনয়ন চাইবেন। এ ক্ষেত্রে বর্তমান সাংসদ ও পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী বীর বাহাদুরকে মনোনয়ন দেয়া হলে যে কোন একজন স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে লড়বেন। এ বিষয়ে তৃণমূল পর্যায়ে নেতা কর্মীদের জনমত যাচাইয়ে জন্যই বৈঠকের আয়োজন করা হয়।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক নেতারা বলেন, আমরা এখন মামলা-হামলার ভয় করি না। আগামী সংসদ নির্বাচন নিয়ে আমাদের বৈঠক। সময় বলে দিবে আমাদের কি করা প্রয়োজন। নির্বাচনে নিজেদের করণীয় এবং নিজেদের মধ্য মনোমালিন্য ভুলে গিয়ে এক সাথে কাজ করার লক্ষ্য নিয়ে এ বৈঠক করেছি।

বৈঠক নিয়ে এ বিষয়ে মুঠোফোনে কাজি মুজিবুর রহমান ও প্রসন্ন কান্তি তঞ্চঙ্গার সাথে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তারা ফোন রিসিভ করেনি। এমনকি জেলা আ,লীগের কয়েকজন নেতাও ফোন রিসিভ করেননি।

উল্লেখ্য, দলীয় শৃঙ্খলা ভংঙ্গের দায়ে ও গঠনতন্ত্র বিরোধী হওয়ায় ২০১৩ সালে বহিষ্কার করা হয় জেলা আ’লীগের সভাপতি প্রসন্ন কান্তি তঞ্চঙ্গাকে। অপর দিকে ২০১৫ সালের জুন মাসে জেলা ছাত্রলীগের সম্মেলনে হামলার অভিযোগে কাজি মুজিবুর রহমানসহ ২২ নেতাকর্মীকে দল থেকে বহিষ্কার করা হয়।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *