বান্দরবানে সার্কেল চীফ সনদের যৌক্তিকতা ও আদিবাসী বিতর্ক শীর্ষক আলোচনা সভা


নিজস্ব প্রতিনিধি:

বান্দরবান প্রেসক্লাব মিলানায়তনে পার্বত্য নাগরিক পরিষদ ও বাঙালি ছাত্র পরিষদ, বান্দরবান জেলা কর্তৃক সার্কেল চীফ সনদের যৌক্তিকতা ও আদিবাসী বিতর্ক শীর্ষক আলোচনা সভা ও প্রতিনিধি সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়েছে।

শনিবার (৮ সেপ্টেম্বর) আলোচনা সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন, জনাব কর্নেল (অব.) এস.এম আইয়ুব, প্রধান বক্তা হিসেবে উপস্থিত ছিলেন, পার্বত্য বাঙালি ছাত্র পরিষদের কেন্দ্রীয় সভাপতি ছাত্রনেতা ইব্রাহিম মনির। বিশেষ অতিথি ছিলেন, বান্দরবান জেলা আইনজীবি সমিতির সহ-সম্পাদক এডভোকেট আবু তালেব। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন, পার্বত্য নাগরিক পরিষদের বান্দরবান জেলা সভাপতি আতিকুর রহমান এবং অনুষ্ঠান পরিচালনা করেন, বাঙালি ছাত্র পরিষদের বান্দরবান জেলা আহ্বায়ক মো: মিজানুর রহমান।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে জনাব কর্নেল (অব.) এস.এম আইয়ুব বলেন, পার্বত্য চট্টগ্রাম ঐতিহাসিকভাবে বাংলাদেশের অবিচ্ছেদ্য অংশ ছিল এবং বাঙালিরাই ছিলেন এ অঞ্চলের অধিবাসী। সুতরাং উপজাতিদের আদিবাসী বলা অপরাধ। রাজার সনদ আইনসিদ্ধ নয়। তারপরেও সরকারি প্র্রশাসন কর্তৃক এই সনদ চাওয়ার কোন যৌক্তিকতা নেই। যেহেতু তারা এই সনদের প্রচলন ঘটিয়েছে সেহেতু জেলা প্রশাসনকেই প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে এই সনদের কার্যকারিতা বাতিল ঘোষনা করতে হবে।এক্ষেত্রে পার্বত্য নাগরিক পরিষদ ও বাঙালি ছাত্র পরিষদের দাবি দাওয়াগুলো যৌক্তিক বিধায় তাদের সাথে আলোচনার মাধ্যমে জেলা প্রশাসনকেই সিদ্ধান্ত নিতে হবে।

প্রধান বক্তার বক্তব্যে বাঙালি ছাত্র পরিষদের কেন্দ্রীয় সভাপতি ইব্রহিম মনির বৈষম্যমূলক উপজাতি কোটা বাতিল করে সকল শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে পার্বত্য কোটা চালু করার জোর দাবি জানান এবং পার্বত্য চট্টগ্রামের উপজাতীয় সন্ত্রাসী কর্তৃক হত্যাকাণ্ডের বিচার দাবি করেন।

ছাত্র পরিষদের নেতৃবৃন্দের উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, প্রতিটি ছাত্রকে যোগ্য নাগরিক হিসেবে তৈরী হতে হবে এবং দেশ রক্ষার আন্দোলনে নিজেকে আত্মনিয়োগ করতে হবে।

বিশেষ অতিথির বক্তব্যে এড. আবু তালেব বলেন, সার্কেল চীফ উপজাতীদের জন্য একটি প্রথাগত পদ যা বাঙালিদের জন্য নয়। সেই রাজার সনদ দ্বারা বাঙালিদেরকে হয়রানী করা অযৌক্তিক ও বেআইনী। জেলা প্রশাসনকে এ ব্যাপারে সিদ্ধান্ত নিতে হবে। ঠিক তেমনি উপজাতিদের আদিবাসি বলা বেআইনী। যারা বলে তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া যেতে পারে।

সভায় অন্যান্য বক্তারা বলেন, অবিলম্বেই চীফ সার্কেল সনদ বাতিল করতে হবে। অন্যথায় আগামী ১৫ দিনের মধ্যে সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে পার্বত্য নাগরিক পরিষদ ও বাঙালি ছাত্র পরিষদ কঠোর কর্মসূচী দিতে বাধ্য হবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *