বান্দরবানে ভিক্ষু হত্যার কারণ: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বললেন আত্মীয় স্বজন, পুলিশ সুপার বললেন জমাজমি সংক্রান্ত


ঘটনাস্থল পরিদর্শন করলেন পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী বীর বাহাদুর

2

স্টাফ রিপোর্টার:

বান্দরবানের নাইক্ষ্যংছড়িতে বৌদ্ধ ভিক্ষু হত্যার ঘটনাকে ‘বিচ্ছিন্ন ঘটনা’ উল্লেখ করে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল বলেছেন, ‘এর সঙ্গে স্বজনেরা জড়িত।’

আজ শনিবার দুপুরে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের ইংরেজি বিভাগের অধ্যাপক রেজাউল করিম সিদ্দিকীর হত্যাকাণ্ডের প্রতিবাদে আয়োজিত শিক্ষক-ছাত্র-সুধী সমাবেশ শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এ মন্তব্য করেন।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘সাম্প্রতিক সময়ে আমরা প্রত্যেক হত্যাকাণ্ড তদন্তের মাধ্যমে তার বিচার করতে পেরেছি। সাগর-রুনি হত্যাকাণ্ড অন্য কথা। ওটা এখানে না আসাই ভালো। একমাত্র সাগর-রুনি ব্যতীত অন্য কোনো হত্যাকাণ্ডই বিচারের বাইরে নেই।’ এরপর সাংবাদিকেরা বান্দরবানে বৌদ্ধ ভিক্ষুক হত্যার বিষয়ে জানতে চাইলে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘এটা বিচ্ছিন্ন ঘটনা, তাঁর আত্মীয়-স্বজনেরা জড়িত’।

এছাড়া উক্ত ঘটনায় পার্বত্য প্রতিমন্ত্রী বীর বাহাদুর উশৈসিং এমপি, জেলা পুলিশ সুপার মিজানুর রহমান, নায়েব সুবেদার খুরশেদ আলমের নেতৃত্বে নাইক্ষ্যংছড়িস্থ ৩১ বিজিবির একটি টহল দল, উপজেলা ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান কামাল উদ্দিন ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আবু শাফায়েত মোহাম্মদ শাহেদুল ইসলাম ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন।

পার্বত্য প্রতিমন্ত্রী বীর বাহাদুর বিকাল ৫ টার সময় ঘটনাস্থল পরিদর্শন শেষে তার আত্মীয়-স্বজনদের প্রতি সমবেদনা জ্ঞাপন করেন এবং জেলা পুলিশ সুপার ও স্থানীয় প্রশাসনকে ঘটনার সৃষ্ট তদন্তপূর্বক দোষীদের দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ প্রদান করেন।

পুলিশ সুপার মিজানুর রহমান বলেন, জায়গা সংক্রান্ত বিরোধের জের ধরে হয়ত এই ঘটনা ঘটাতে পারে। এছাড়া গত এক সপ্তাহ আগে বৌদ্ধ ধর্মীয় নেতা ৪ লক্ষ টাকা দিয়ে একটি জায়গা বিক্রি করেছিল হয়ত ঐ টাকার জন্য সন্ত্রাসীরা এই কাজ করেছে। তবে এই মূহুর্তে তদন্ত চলছে অবশ্যই অপরাধীদের খূঁজে বের করে আইনের আওতায় আনা হবে।

বৌদ্ধ ভিক্ষুর ছেলে অংছাথোয়াই চাক বলেন, তার পিতা দীর্ঘ দুই বৎসর যাবৎ উক্ত বিহারে ধর্মীয় নেতা হিসেবে অবস্থান করছিলেন। তার সাথে কারো ঝগড়া বিবাদ নেই।

উপজাতীয় নেতা বাবু নিউলামং মার্মা বলেন, উক্ত ঘটনায় উপজাতীয় লোকজন সহ বাকী ধর্মীয় গুরুরা আতংকিত। কারণ পার্বত্য এলাকায় এই ধরনের ঘটনা আর কোনদিন তারা দেখেননি।

সরজমিনে গিয়ে দেখা যায়, বৌদ্ধ বিহারের ভিতরেই ধর্মীয় নেতা মংশৈউ চাকের লাশ গলাকাটা অবস্থায় পড়ে রয়েছে। কিন্তু বিহারের কোন জিনিষ পত্র এলোমেলো নেই এবং স্থানীয়দের দাবী বিহারের কোন প্রকার টাকা-পয়সা বা মূর্তি লুটতরাজ হয় নাই।

এই রিপোর্ট পাঠানো পর্যন্ত পুলিশ ও বিজিবির টহল দল ঘটনাস্থল ঘেরাও করে রেখেছে এবং বিকাল সাড়ে পাঁচটার সময় বৌদ্ধ ভিক্ষুর লাশ ময়না তদন্তের জন্য বান্দরবান সদর হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। এই পর্যন্ত ঘটনার সাথে জড়িত সন্দেহে কাউকে আটক অথবা গ্রেপ্তার করা হয়নি।

উল্লেখ্য, বান্দরবানের নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলার বাইশারী ইউনিয়নের উপর চাক পাড়া বৌদ্ধ বিহারের বৌদ্ধ ধর্মীয় নেতা মংশৈউ চাককে (৭৭) গলা কেটে হত্যা করা হয়েছে।

প্রত্যক্ষদর্শী ও এলাকাবাসী সুত্রে জানা যায়, প্রতিদিনের ন্যায় ভোর ৫টার দিকে বৌদ্ধ বিহারে ধর্মীয় গুরুকে অংছাথোয়াই চাকের স্ত্রী খাবার দিতে গিয়ে দেখতে পায় সে গলা কাটা ও রক্তাক্ত অবস্থায় পড়ে রয়েছে।

বিষয়টি স্থানীয় পাড়ার লোকজনকে জানালে সাথে সাথে পুলিশকে খবর দেওয়া হয়। খবর পেয়ে বাইশারী তদন্ত কেন্দ্রের ইনচার্জ আনিসুর রহমান ঘটনাস্থলে পৌঁছান।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *