বাংলাদেশের ‘আদিবাসি’ সঙ্কট


মোস্তফা জব্বার

মোস্তাফা জব্বার

বাংলাদেশের পার্বত্য অঞ্চলসহ পাহাড় ও সমতলের ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র জাতিসমূহের প্রতি আমার নিজের দারুণ রকমের সহানুভূতি ও সমর্থন রয়েছে। যেহেতু তারা পশ্চাপদ জনগোষ্ঠী সেহেতু তাদের অধিকার ও অগ্রগতি এই রাষ্ট্রের প্রাধান্য তালিকায় থাকা উচিত। সেজন্যই নিজের ক্ষমতায় যা সম্ভব তার সবই আমি এদের জন্য করে যাচ্ছি। বহু বছর আগেই আমি স্বেচ্ছায় ও বিনা পারিশ্রমিকে চাকমাদের বর্ণমালাকে কম্পিউটারে প্রয়োগ করেছি। সন্তু লারমা নিজে আমার সেই সফটওয়্যারের উদ্বোধন করেন। দীপঙ্কর তালুকদারও ছিলেন সেই অনুষ্ঠানে। যদিও পরে আমি কম্পিউটারে চাকমা বর্ণের ব্যবহার নিয়ে হতাশ হয়েছি তবুও আমি এখনও সুযোগ পেলে আমাদের উপজাতীয় সকল ভাষাকে আধুনিক যন্ত্রে ব্যবহার উপযোগী করতে সচেষ্ট থাকবো। তবে আমার শঙ্কা হলো, আমাদের উপজাতীয়রা নিজেরাই তাদের ভাষার প্রতি দরদী নন। নিজের বাড়িতে তারা হয়তো তাদের ভাষা ব্যবহার করেন। কিন্তু নিজের ভাষার লিপি তারা চেনেননা। আমি চাকমা বর্ণ চেনে এমন তরুণ খোজে পাইনি। আমার ধারনা, আমাদের উপজাতীয়রা ভাষার লিপি প্রশ্নে লাতিন হরফের আগ্রাসনের শিকার হয়ে পড়েছে। একদিন তারা নিজেদের হরফের বদলে লাতিন লিপি ব্যবহার করবে। অথচ প্রযুক্তিগতভাবে এখন তার প্রয়োজন নাই।

যাহোক, আমাদের উপজাতীয়দের ভাষাসহ সকল নৃতাত্ত্বিক সম্পদ রক্ষা করা বাংলাদেশ রাষ্ট্রের একটি পবিত্র দায়িত্ব বলে আমি মনে করি। এমনকি তাদেরকে অন্তত প্রাথমিক স্তরে মাতৃভাষায় শিক্ষা গ্রহণ করার সুযোগ দেয়া উচিত বলেও আমি মনে করি। সেই চেষ্টাও আমি করেছি। উপজাতীয় শিশুরা যাতে তাদের মাতৃভাষায় শিক্ষা গ্রহণ করতে পারে তার জন্য পার্বত্য চট্টগ্রাম উন্নয়ন বোর্ড ও আনন্দ মাল্টিমিডিয়ার রাঙ্গামাটি শাখার সহায়তায় প্রথম থেকে পঞ্চম শ্রেণী পর্যন্ত সকল পাঠ্যপুস্তককে চাকমা, মারমা ও ম্রো ভাষায় সফটওয়্যারে রূপান্তর করেছি আমি। আমি দৃঢ়তার সাথে এই জনগোষ্ঠীর ভাষা-সাহিত্য ও সংস্কৃতির উন্নয়ন, বিকাশ ও সংরক্ষণে বিশ্বাস করি। এদের জীবনধারাকে রক্ষা করার জন্য আমাদের সকলেরই উচিত সর্বাত্মক প্রচেষ্টা গ্রহণ করা। রাষ্ট্রের উচিত তাদেরকে আমানতের মতো রক্ষা করা।

কিন্তু সাম্প্রতিককালে এটি ধারণা করার কারণ ঘটছে যে, এই ক্ষুদ্র জাতিগুলোকে নিয়ে বাংলাদেশ রাষ্ট্রের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র হচ্ছে। বিষয়টি আপাতদৃষ্টে খুব নিরীহ মনে হলেও ছোট একটি শব্দের মধ্য দিয়ে আঙ্গুল ওঠছে আমাদের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব নিয়ে। দেশের কিছু বুদ্ধিজীবি এবং রাজনৈতিক নেতাও জেনে বা না জেনে সেই ষড়যন্ত্রের অংশ হচ্ছেন। যে শব্দটি নিয়ে এই অপকর্মের বিভ্রান্তি সৃষ্টি হচ্ছে সেই শব্দটি ‘আদিবাসি’।

৯ আগস্ট সারা দুনিয়াতে ‘আদিবাসি’ দিবস পালিত হয়ে থাকে। আমাদের শহীদ মিনারে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান, পত্রিকায় নিবন্ধ ও টেলিভিশনে টকশো’র আয়োজন করে দিনটি বাংলাদেশে পালিত হয়। ২০১৪ সালে এর ব্যতিক্রম হয়নি। ১৫ সালেও হয়তো তাই হবে। তবে আদিবাসীদের কথা বলতে গিয়ে কেউ কেউ একটু বাড়াবাড়ি করে ফেলেন যেটি একটি স্বাধীন সার্বভৌম রাষ্ট্রের জন্য হুঁমকি হয়ে দাঁড়ায়। আমরা কারও কারও মুখে শুনে আসছি যে, আদিবাসীদের জন্য প্রয়োজনে মুক্তিযুদ্ধের মতো আন্দোলন করা হবে। সন্তু লারমা একথা বলেছেন ২০১৪ সালে।

২০১২ সালেও সন্তু লারমা হুঙ্কার দিয়েছিলেন। তিনি যুদ্ধ করবেন বলে ঘোষণা দিয়েছিলেন। কার বিরুদ্ধে সে যুদ্ধ সেটি তিনি না বললেও অতীতে বাংলাদেশ রাষ্ট্রের বিরুদ্ধে পরিচালিত যুদ্ধের কথা স্মরণ করলে তার বক্তব্যে আমরা শঙ্কিত না হয়ে পারিনা। তবে সুখবর হলো যে, গত তিন বছরে তিনি তেমন কিছু করেননি।

বাঙ্গালি বুদ্ধিজীবিদের একটি অংশ জোরেশোরে বলার চেষ্টা করছে যে, বাংলাদেশের যাদেরকে আমরা ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র জাতি বা উপজাতি বা ছোট ছোট নৃগোষ্ঠী বলি তারা ‘আদিবাসি’। সংবিধানে তাদেরকে ‘আদিবাসি’ হিসেবে স্বীকৃতি না দেবার জন্য তারা দারুণভাবে নাখোশ। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, তার দল আওয়ামী লীগ ও তার সাথে সংশ্লিষ্ট নেতাদের বাণী উদ্ধৃত করে এটি দেখানো হচ্ছে যে, এই রাজনৈতিক শক্তিটি অতীতে এদেরকে ‘আদিবাসি’ বলে চিহ্নিত করলেও, না সংশোধিত সংবিধানে, না তাদের এখনকার বক্তব্যে ‘আদিবাসি’ শব্দটি ব্যবহার করছেন। ক্ষোভটা তাদের ওখানেই।

বিষয়টি এতোদিন আমাদের দৃষ্টি তেমনভাবে আকর্ষণ করেনি। প্রকৃতার্থে ‘আদিবাসি’ শব্দটি নিয়ে আমরা তেমন সিরিয়াসলি চিন্তাও করিনি। বিশেষ করে কথায় কথায় আমরা আমাদের দেশের উপজাতি বা ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র জাতি স্বত্ত্বাসমূহকে ‘আদিবাসি’ বলে আখ্যায়িত করতে দ্বিধা করিনি। কিন্তু যখনই আমরা লক্ষ্য করলাম যে, সংবিধানে তাদেরকে ‘আদিবাসি’ হিসেবে স্বীকৃতি না দেওয়ায় তারা নাখোশ হয়েছে তখনই ‘আদিবাসি’ শব্দের অর্থ সন্ধান করার প্রয়োজনীয়তা দেখা দিয়েছে।

আন্তর্জাতিক শ্রম সংস্থার সংজ্ঞা অনুসারে আদিবাসি হলো তারা; peoples in independent countries who are regarded as indigenous on account of their descent from populations which inhabited the country, or a geographical region to which the country belongs, at the time of conquest or colonization or the establishment of present states boundaries and who, irrespective of their legal status, retain some or all of their own social, economic, cultural and political institutions.”

আমরা যদি এই ইংরেজি বাক্যটির বাংলা মর্মার্থ করি তবে এটি এমন দাড়াবে; আদিবাসি হলো তারা যারা দেশের ঔপনিবেশিকতা সৃষ্টির সময়ে দখলদারদের চাইতে গোষ্ঠিগত কারণে আলাদা ছিলো।

আমেরিকার রেড ইন্ডিয়ানরা সেই অর্থে আদিবাসি। কারণ যখন আমেরিকায় ঔপনিবেশ স্থাপন করা হয় তখন রেড ইন্ডিয়ানরা কেবল স্বতন্ত্র ছিলোনা এখনও স্বতন্ত্র। শুধু তাই নয়, ওরা আগ্রাসনকারীদের চাইতে জীবনধারার দারুনভাবে পশ্চাদপদ। লক্ষ্যনীয় যে, দেশটিকে রেড ইন্ডিয়ানদের কাছ থেকে ছিনিয়ে নেয়া হয়েছে। খুব সঙ্গত কারণেই তাদেরকে আদিবাসির সংজ্ঞায় ফেলা যেতে পারে। কিন্তু বাংলাদেশে যারা নিজেদেরকে এই সংজ্ঞায় ফেলতে চাইছে তাদের অবস্থা কি রেড ইন্ডিয়ানদের মতো?

প্রথমত বাংলাদেশের উপজাতিসমূহ কি আদিবাসি? বাস্তবতা হচ্ছে হিমালয়ের পাদদেশের নিচু, সমতল বা জলাভূমির এই অঞ্চলে বাঙ্গালিরা বসবাস করে ৪ হাজার বছরেরও আগে থেকে। বিক্রমপুর, ওয়ারি বটেশ্বর বা সোনারগা কিংবা মহাস্থানগড় থেকে প্রাপ্ত প্রমাণাদি এসব বিষয় নিশ্চিত করে।

এখানকার উঁচু ভূমি বা পাহাড় অঞ্চলে হয়তো তারও আগে সামান্য সংখ্যক কোচ, হাজং, গারো ইত্যাদি জনগোষ্ঠীরও বসবাস ছিলো। তবে এসব জনগোষ্ঠীর বেশির ভাগ বসবাস করতো গারো পাহাড়ে যে পাহাড়টি এখন ভারতের অংশ। গারো পাহাড় থেকে যেসব উপজাতি সমতল ভূমিতে নেমে আসে তাদের কেউ কেউ মধুপুর ও বরেন্দ্র অঞ্চলের বাংলাদেশ অংশে বা ময়মনসিংহের গারো পাহাড় অঞ্চলে বাস করে। তবে এই নিম্নভূমিটি, যার নাম বাংলাদেশ, তাতে বাঙ্গালিরা বসবাস করার আগে কোচ-হাজং-গারো-সাওতালরা বসবাস শুরু করে তেমন কোন প্রমাণ এখনও পাওয়া যায়নি। বরং বাঙ্গালিরা বসবাস করার পরে এইসব উপজাতিরা হয়তো সমতল ভূমিতে বসবাস করা শুরু করে থাকতে পারে। সমতল ভূমি বিবেচনায় এছাড়াও কক্সবাজার ও পটুয়াখালিতে রাখাইন সম্প্রদায় রয়েছে। তারা তাদের জীবনাচারে প্রায় বাঙ্গালিতে পরিণত হয়েছে। নিজের বাড়িতে নিজেদের ভাষায় কথা বলা ছাড়া এদের অন্য ক্ষেত্রে খুব একটা পশ্চাদপদতা নেই। ওদের মাঝে যারা দেশের প্রধান জনগোষ্ঠীর সাথে সম্পর্ক বজায় রাখে তারা বাংলাও চমৎকারভাবে বলতে পারে। ছোট একটি দেশ হিসেবে এদের শিক্ষার, অর্থনীতির বা রাজনীতির সুযোগ দেশের প্রধান জনগোষ্ঠী বাঙ্গালীদের চাইতে মোটেই কম নয়।

অন্যদিকে পার্বত্য চট্টগ্রামের প্রধান উপজাতি চাকমাদের আদি বাসস্থান আরাকান। ত্রিপুরাদের আদি বসবাস ভারতের ত্রিপুরা রাজ্য। সেই অর্থে ওরা কেউ বাংলাদেশের আদিবাসি নয়। এর মানে এসব জনগোষ্ঠীর আবাস দখল করে আমরা বাঙালীরা বাংলাদেশ গড়িনি। তবুও বাংলাদেশে ওরা বিশেষ সুবিধাপ্রাপ্ত জনগোষ্ঠী। উপজাতিদের জন্য বাংলাদেশে শিক্ষা ও চাকুরিতে নানা কোটা আছে। প্রধানত চাকমারা সেই কোটা ব্যাপকভাবে ব্যবহারও করে। ফলে তাদের সম্পর্কে ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র জাতিস্বত্ত্বা বা নৃগোষ্ঠী অভিধাটি মোটেই বিভ্রান্তিকর নয়। বরং এদেরকে আইএলওর সংজ্ঞা অনুসারে আদিবাসি বলাটা কোনভাবেই সঠিক নয়।

২০১২ সালের ৯ আগস্ট ৭১ টেলিভিশনে প্রচারিত এক অনুষ্ঠানে মেজর জেনারেল (অব) ইব্রাহিম স্পষ্ট করে বলেছেন যে, আইএলও কনভেনশন অনুসারে আদিবাসি হিসেবে স্বীকৃতি দেবার পর তাদেরকে আত্ম নিয়ন্ত্রণ অধিকার দিতে হবে। এর মানে তারা দাবি করতে পারবে যে পার্বত্য চট্টগ্রামের তিন জেলা স্বায়ত্বশাসন পেতে পারে। এমনকি যদি তারা মনে করে যে, তারা বাংলাদেশ রাষ্ট্রে থাকবে না বা ভারতেও যোগ দেবে না তবে স্বাধীন রাষ্ট্র গড়তে পারবে। যদি তারা বাংলাদেশ রাষ্ট্রে থাকেও তবে তারা যে অঞ্চলে বাস করে সেই অঞ্চলের ভুমির মালিকানা রাষ্ট্রের হবেনা।

আমরা জানি যে, আমি বাংলাদেশের একজন নাগরিক হিসেবে দেশের যে কোন অঞ্চলে ভূমির মালিক হতে পারবো। কিন্তু বাস্তবতা হলো আমি পার্বত্য তিন জেলায় জমির মালিক হতে পারবোনা। ওখানে আমাকে জমি কিনতে দেয়া হবেনা। অন্যদিকে একজন উপজাতি দেশের যে কোন স্থানে ভূমির মালিক হতে পারবে। এটি বাংলাদেশের নাগরিক হিসেবে আমার প্রতি বৈষম্য। আমি মনে করি পাহাড়ে বা সমতলে যেসব ক্ষুদ্র জাতি আছে তাদের ভূমি সংক্রান্ত যেসব জটিলতা আছে সেটির মীমাংসা হওয়া উচিত ও রাষ্ট্রের দায়িত্ব হচ্ছে যেসব ক্ষুদ্র জাতিগুলো জমির মালিকানা নিশ্চিত করেননি তাদের ভূমির মালিকানার বিষয়টি মীমাংসা করার পর পার্বত্য জেলাসমূহে বাঙ্গালীদের জমি কেনাবেচার ক্ষেত্রে কোন নিষেধাজ্ঞা বা নিয়ন্ত্রণ থাকা উচিত নয়। এটি সংবিধান পরিপন্থী।

আমি মনে করি যে, বাংলাদেশের ক্ষুদ্র জাতিস্বত্ত্বাসমূহকে নামে আদিবাসি বলাতে আমাদের তেমন আপত্তি করার বিষয় নাও হতে পারে। ক্ষুদ্র জাতি বা আদিবাসি হিসেবে ডাকডাকি করাতে তেমন কোন পার্থক্য নেই। কিন্তু যদি এই প্রশ্নটি ওঠে যে তাদেরকে আত্ম নিয়ন্ত্রণাধিকার বা স্বায়ত্ত্ব শাসন বা স্বাধীনতা দিতে হবে তবে সেটি হবে রাষ্ট্রদ্রোহিতা। যদি এই দাবি ওঠে যে এদের জমির ওপর রাষ্ট্রের মালিকানা থাকবেনা তবে সেটিও হবে রাষ্ট্রের অধিকারের বিরোধিতা।

বাংলাদেশ রাষ্ট্র হিসেবে সকল নাগরিকের সমানাধিকার নিশ্চিত করতে বাধ্য। শুধু তাই নয়, বাংলাদেশের নাগরিকদের মাঝে কোন ধরনের বৈষম্য যাতে না থাকে সেটিও দেখার দায়িত্ব রাষ্ট্রের। রাষ্ট্র পশ্চাদপদ জনগোষ্ঠীকে সহায়তা দিতে পারে। কিন্তু এজন্য কোন জনগোষ্ঠীকে তার অধিকার থেকে বঞ্চিত করতে পারেনা কিংবা কোন জনগোষ্ঠীকে এমন কোন সুযোগ দিতে পারেনা যা রাষ্ট্রের অন্য জনগোষ্ঠী পায়না। সকল নাগরিকের সমানাধিকার নিশ্চিত করাটাই রাষ্ট্রের মুল দায়িত্ব। এক দেশে দুই আইন কোনভাবেই গ্রহণযোগ্য হতে পারেনা। আবার পশ্চাদপদ জাতি বলে তাদের নিজেদের সম্পদ রক্ষার অধিকার থেকেও তাদেরকে বঞ্চিত করা যায়না।

আমি ধারনা করি যে, আমাদের উপজাতীয় জনগোষ্ঠীর সাধারণ মনোভাব হলো বাংলাদেশের মুল জনগোষ্ঠী বাঙ্গালীদের সাথে সহযোগিতামুলকভাবে বসবাস করা। তবে তারা অবশ্যই চাইবেন যে, তাদের ভাষা, সাহিত্য সংস্কৃতির স্বাতন্ত্র ও মর্যাদা অক্ষুন্ন থাকবে। তাদের পিছিয়ে পড়ার জন্য রাষ্ট্র তাদেরকে বিশেষ সুবিধা যেমন কোটা বা অগ্রাধিকার দেবে। কিন্তু আদিবাসি নামে আখ্যায়িত হয়ে তারা নিশ্চয়ই একটি স্বতন্ত্র রাষ্ট্রের দাবি জানাতে চায় না। আমরা কামনা করবো দেশের সাধারণ নাগরিকদেরকে আদিবাসি শব্দের বেড়াজালে বিভ্রান্ত করা থেকে বিরত থাকা হবে। আমি এটাও আশা করি যে, কেউ এদেরকে জিম্মি করে তথাকথিত বিচ্ছিন্নতাবাদী আন্দোলন গড়ে তোলার চেষ্টা করবে না। আমি তাদেরকে সাংবিধানিকভাবে আদিবাসি বলতেও রাজী-কিন্তু তাদের জন্য আলাদা রাষ্ট্রের আন্দালন হলে সেটি কঠোরভাবে দমন করার পক্ষে-কারণ কোন রাষ্ট্রই রাষ্ট্রদ্রোহিতাকে মেনে নিতে পারে না। (ঢাকা, আগস্ট ২০১৫)

♦ লেখক: তথ্যপ্রযুক্তিবিদ, কলামিস্ট, দেশের প্রথম ডিজিটাল নিউজ সার্ভিস আবাস-এর চেয়ারম্যান- সাংবাদিক, বিজয় কীবোর্ড ও সফটওয়্যার এবং ডিজিটাল বাংলাদেশ-এর প্রণেতা ॥  ই-মেইল: mustafajabbar@gmail.com ওয়েবপেজ: www.bijoyekushe.net  

7 thoughts on “বাংলাদেশের ‘আদিবাসি’ সঙ্কট

  1. আরে স্যার….অপরের জিনিস নিজের নামে আর কতদিন চালাবেন। বিজয়ের পেছনের ইতিহাসটা বোধয় ভুলে গেছেন। আপনি যে সুযোগ সন্ধানি সেটা আরো একবার এই লিখনির মধ্য দিয়ে প্রমাণ করলেন। আপনার জ্ঞাণের পরিধি দেখে বিস্ময় হতে হলো…আদিবাসীদের সম্সপর্কে সঠিক সংগাটা ও ভালো ভাবে শিখতে পারলেন না। মানুষের অধিকার চুরি করে নিজের বলে চালিয়ে দেওয়া যেমনি অপরাধ ঠিক কোন জাতির সঠিক ইতিহাস সম্পর্কে না জেনে তাদের সম্পর্কে সমালোচনা ও অপব্যাখা করা একই অপরাধ। বাঙ্গালীরা 4 হাজার বছর ধরে এলাকায় বসবাস করে আসছে বলেছেন তা মানে এই বদ্বীপে যারাই বসবাস করে গেছে সবাই বাঙ্গালী? স্যার আপনানি যে চোরের পাশাপাশি একজন মূর্খ সাধক তা ও প্রমাণ করলেন এই লিখনি দিয়ে কেন যে আপনারা চুরি করা কোডিং নিয়ে চিন্তা না করে অন্য বিষয়ে আবল তাবল বলতে আসেন আমি সেটাই বুঝি না। বদ্বীপবাসীদের বাঙ্গালী নাম করণ কার মাধ্যমে হয়েছিল জানেন তো। আর জেনে না থাকলে কারো কাছ থেকে এ্কটি বই চুরি করে পড়ে নিয়েন। কারণ সেই ইতিহাসটা সম্রাট আকবরের।

  2. Odong Chakma তোমরা কবে থেকে আদিবাসী?? Indigenous হিসেবেও বাঙ্গালীরাই এর দাবীদার। তা মশাই জন্তু লারমার সশস্ত্র আন্দোলনের দাবীটা কি ছিল?

    • তোরা যদি আদিবাসী হতে চাস, তাতে তো আমাদের কোন সমস্যা নেই। আদিবাসী হিসেবে স্বাগত জানাই। বাংলাদেশ প্রথম আদিবাসী রাষ্ট্র হিসেবে বিশ্ব দরবারে ঘোষণা দিতে পারবে। সন্তু লারমাদের সশদ্ধ আন্দোলনের কী দাবী ছিলো সেটা জানতে চাইলে তাহলে বই পড়। বই না পড়ে অন্ধভাবে বিতর্কে আসবি না।

  3. স্যার, আমি আপনার একজন ভক্ত। বিটিভিতে সময় পেলেই আপনার প্রোগ্রাম দেখি। কিন্তু আমাদের পার্বত্য চট্টগ্রাম নিয়ে আপনার আগ্রহ আমাকে মুগ্ধ করেছে। আপনাকে সুন্দর লেখার জন্য ধন্যবাদ। তবে লেখার শেষাংশে আপনি যা বলেছেন তা সম্পূর্ণ স্ববিরোধী। অবশ্য এটার মূল কারণ, আপনি জাতিসংঘের আদিবাসী বিষয়য়ক চার্টার পড়ে দেখেননি। পড়ে দেখেন, আদিবাসী স্বীকৃতি পেলে তাদের স্বাধীনতার আন্দোলন কোনো রাষ্ট্র যন্ত্র রোধ করতে পারবে না। দয়া করে পড়ে দেখবেন।

  4. মোস্তফা জব্বার কবে থেইকা নিজের কাজ ফালাইয়া আদিবাসী গবেষক হইলো! এই বো…..গুলো নিজেরে কী ভাবে অনেক সময় ভাইবা কূল পাই না। এই ….. বুঝে না, এখন আন্তর্জাতিক আইনে ‘উপজাতি’, ‘ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠী’, ’জনজাতি’ যে নামে বলা হোক না কেন, তাদেরকে Indigenous peoples বলা হয়। বাংলায় অনুবাদ করা হয় ‘আদিবাসী’। এই …… আদিবাসী বলতে অসুবিধা হইলে ‘ইন্ডিজেনাস পিপলস’ লিখুক না। অন্যদিকে tribal-এর বাংলা অনুবাদ ’উপজাতি’, যেটা মহা ঝামেলাপূর্ণ। এই ……. বাংলা ভাষাটাই তো বড় সমস্যা।
    এই ….. জ্ঞানের বহর দেখে তো তাজ্জব হওয়া ছাড়া কিছুই নেই। পাহাড়ের এককালের গুন্ডা মো: মে.জে. (অব:) ইব্রাহিমের উদ্ধৃতি দিয়ে বলছেন, আদিবাসী হিসেবে স্বীকৃতি দিলে “আত্ম নিয়ন্ত্রণ অধিকার “ দিতে হবে…তিন জেলা স্বায়ত্তশাসন পেতে পারে”। আরে ….. বুঝে না, আত্মনিয়ন্ত্রণাধিকার কারোর কাছে করুণা ভিক্ষার বিষয় নয়, আর কারোর করুণা করে দেওয়ার বিষয় নয়। এটা হলো মানুষের সহজাত মানবাধিকার। এই বোকাচুদা স্বায়ত্তশাসন শব্দের অর্থও বোঝে না। একটা ইউনিয়ন পরিষদও স্বায়ত্তশাসিত, তার অধিক্ষেত্রে সে স্বায়ত্তশাসন ভোগ করে। সেখানে আইন না বদলিয়ে প্রধানমন্ত্রীরও কিছু করার থাকে না।

    এই ….. আরো অনেক লিখেছে। শেষ বাক্যটা উদ্ধৃতি না দিয়ে পারছি না, “এটাও আশা করি যে, কেউ এদেরকে জিম্মি করে তথাকথিত বিচ্ছিন্নতাবাদী আন্দোলন গড়ে তোলার চেষ্টা করবে না। আমি তাদেরকে সাংবিধানিকভাবে আদিবাসি বলতেও রাজী-কিন্তু তাদের জন্য আলাদা রাষ্ট্রের আন্দালন হলে সেটি কঠোরভাবে দমন করার পক্ষে-কারণ কোন রাষ্ট্রই রাষ্ট্রদ্রোহিতাকে মেনে নিতে পারে না”। এই …. কথাটা স্ববিরোধী হলো না? বিচ্ছিন্নতাবাদ বা আলাদা রাষ্ট্র দাবী না করার জন্যে তো সংবিধানে স্বীকৃতির দাবী জানাচ্ছে বাংলাদেশের আদিবাসী জনগণ। এই ….. কোথায় দেখেছে, আলাদা রাষ্ট্রের জন্যে পাহাড়ে আন্দোলন হচ্ছে? ব্যাপারটা এমন – দরজা বন্ধ করে দিয়ে বলছে, এই ঘরের ভিতর ঢুকছ না কেন? আদিবাসীরা যখন ভিতরে ঢুকার জন্যে বেল বাজাচ্ছে কিংবা দরজায় নক করছে, তখন মো: জব্বর ….. বলছে, এই ঘর ভাঙছো কেন?
    ———–
    দু:খিত, অভব্য ভাষায় পোস্ট দিলাম বলে। মোস্তফা জব্বাররা যখন এই রকম কথা বলে তখন মাথা আর ঠান্ডা থাকে না।

  5. তৎকালীন পররাষ্ট্রমন্ত্রী ডা. দীপু মনি সারাবিশ্বকে জানান, এ দেশের ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীগুলো আদিবাসী নয়। বাঙালি নৃগোষ্ঠীই এ ভূখ-ে ৪ হাজার বছর বা তারও বেশি সময় ধরে বসবাস করছে। আদিবাসী হিসেবে দাবি করা ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীগুলো ১৬ শতকের আগে এ ভূখণ্ডে ছিল এর কোনো প্রমাণ পাওয়া যায়নি। ঢাকায় পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে বিদেশি মিশনগুলোর প্রধানদের ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠী ইস্যুতে বাংলাদেশের অবস্থান ব্যাখ্যা করতে গিয়ে দীপু মনি বলেন, “১৯৯৭ সালের পার্বত্য শান্তিচুক্তিতে ‘উপজাতি’ শব্দটি ব্যবহৃত হয়েছিল। এরপর স্বার্থান্বেষী কিছু মহল উপজাতি শব্দকে অপব্যাখ্যার মাধ্যমে বাংলাদেশের ভৌগোলিক অখণ্ডতা, পরিচয়কে চ্যালেঞ্জ করে জাতিসংঘ ফোরাম ও আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বিশেষ সুবিধা আদায় করতে চাইছে।” পররাষ্ট্রমন্ত্রীর শক্ত অবস্থান আঁচ করতে পেরে অনুষ্ঠানে উপস্থিত বিদেশী রাষ্ট্রদূত ও দাতাসংস্থার প্রতিনিধিগণ বিষয়টি নিয়ে ভবিষ্যতে আরো আলোচনার প্রয়োজন আছে বলে মন্তব্য করলে পররাষ্ট্রমন্ত্রী দীপুমণি তাদের দৃঢ়তার সাথে বলেন, এ বিষয়ে বাংলাদেশের অবস্থান অত্যন্ত দৃঢ় ও সুস্পষ্ট। কাজেই ভবিষ্যতে এ নিয়ে আলোচনার কোনো সুযোগ নেই।

  6. “বাংলাদেশে ৪৫টি উপজাতীয় জনগোষ্ঠী বসবাস করে। বাংলাদেশের সংবিধান, পার্বত্য চট্টগ্রাম জেলা পরিষদ আইন, পার্বত্য আঞ্চলিক পরিষদ আইন এবং ১৯৯৭ সালের শান্তিচুক্তিতে উপজাতীয় সম্প্রদায়গুলোকে ‘উপজাতি’ হিসেবে অভিহিত করা হয়েছে। তাদের কোথাও ‘আদিবাসী’ হিসেবে অভিহিত করা হয়নি। তথাপি কতিপয় নেতৃবৃন্দ, বুদ্ধিজীবী, পাহাড়ে বসবাসরত শিক্ষিত ব্যক্তিবর্গ, এমনকি সাংবাদিকরাও ইদানিং উপজাতীয় সম্প্রদায়গুলোকে ‘উপজাতি’ না বলে ‘আদিবাসী’ হিসেবে অভিহিত করতে দেখা যাচ্ছে। এতদ বিষয়ে বিভিন্ন এনজিও প্রতিষ্ঠান, বিদেশী সংবাদ মাধ্যম, জাতিসংঘের আড়ালে থাকা খ্রিস্টান রাষ্ট্রসমূহ এ সকল ব্যক্তিবর্গের সাহায্যে তাদের একটি পৃথক রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার সহায়তায় অপতৎপরতা চালিয়ে যাচ্ছে। ইতোমধ্যে বাংলাদেশে বসবাসকারী অধিকাংশ উপজাতীয় সম্প্রদায় এখন নিজ নিজ ধর্ম, সংস্কৃতিতে অবস্থান না করে তাদের অনেকেই খ্রিস্টান হয়ে গেছে। বাংলাদেশীয় উপজাতীয়দেরকে ‘আদিবাসী’ উল্লেখ না করার বিষয়ে ইতিপূর্বে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় হতে নির্দেশনা প্রদান করা হয়েছিল।

    বাংলাদেশ সংবিধানের পঞ্চদশ সংশোধনী অনুযায়ী বর্তমানে দেশে আদিবাসীদের কোনো অস্তিত্ব না থাকলেও বিভিন্ন সময় বিশেষ করে জাতিসংঘ ঘোষিত আন্তর্জাতিক আদিবাসী দিবসে ‘আদিবাসী’ শব্দটি বারবার ব্যবহার হয়ে থাকে। পঞ্চদশ সংশোধনীতে বাংলাদেশে বসবাসরত ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীকে উপজাতি বা ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠী বলে আখ্যায়িত করা হয়েছে উল্লেখ করে তথ্য বিবরণীতে বলা হয়, “আগামী ৯ আগস্ট আন্তর্জাতিক আদিবাসী দিবস উপলক্ষে বিভিন্ন অনুষ্ঠান, আলোচনা ও টকশোতে ‘আদিবাসী’ শব্দটির ব্যবহার পরিহার করার জন্য অনুরোধ করা হয়েছে এবং সকল আলোচনা ও টকশোতে অংশগ্রহণকারী বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, বিশেষজ্ঞ এবং সংবাদপত্রের সম্পাদকসহ সুশীল সমাজের অন্যান্য ব্যক্তিবর্গকে বাংলাদেশের ক্ষেত্রে আদিবাসী শব্দটির ব্যবহার পরিহারের জন্য পূর্বেই সচেতন থাকতে অনুরোধ জানানো যাচ্ছে।”

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *