পার্বত্য উপত্যকায় বাঙ্গালীরা বৈষম্য ও নির্যাতনের শিকার


images ববব

মো:শামীম উদ্দিন:
সারা বিশ্বজুড়ে বর্তমানে চলছে দিন বদলের পালা । কিন্তু এই যুগের সাথে তাল মিলিয়ে বদলাচ্ছে না শুধু পার্বত্য বাঙ্গালীদের ভাগ্যের চাকা । একদিকে বাংলাদেশ সরকার দ্বিপাক্ষীক আলোচনার মাধ্যমে ১৯৯৭ সালের ২ ডিসেম্বর “শান্তি চুক্তি” নামে অসম চুক্তি করে যেমন বাঙ্গালীদের অধিকার হরণ করছে অন্যদিকে হায়েনা রূপী উপজাতীয়দের বিভিন্ন সশস্ত্র সংগঠনের (যেমন, জেএসএস, ইউপিডিএফ-সহ এদের বিভিন্ন অঙ্গ সংগঠন ) অত্যাচার ও বর্বরতায় হারাতে হচ্ছে অগনিত নিরীহ বাঙ্গালীর তাজা প্রাণ, তাদের বসতবাড়ি ভিটাসহ সর্বস্ব ।
                                
বাংলাদেশ সহ বিশ্বের বিভিন্ন ইলেক্ট্রনিক্স মিডিয়া ও পত্রপত্রিকায় উপজাতীয়দের অনগ্রসর ও পশ্চাৎপদ চিহ্নিত করে একচেটিয়াভাবে শুধুমাত্র তাদের জন্য উন্নয়ন কর্মকাণ্ড চালানো হচ্ছে। যদি ও তারা বর্তমানে ততটা পশ্চাৎপদ নয়।

আমাদের দেশের বহু বামপন্থী বুদ্ধিজীবী, সাংবাদিক ও মিডিয়া ব্যক্তিত্ত্বরা শুধুমাত্র উপজাতিদের অধিকার, অনগ্রসরতা পশ্চাৎপদতা নিয়ে গবেষণার মাধ্যমে বাংলাদেশসহ সারা বিশ্বে কাছে উপস্থাপন করছে। কিন্তু পার্বত্য চট্টগ্রাম দুর্গম পাহাড়ী এলাকায় যে বাঙ্গালীরা উপজাতীদের চেয়েও অনেক বেশি অনগ্রসর, পশ্চাৎপদ ও বৈষম্যের শিকার তা নিয়ে কেউ মাথা ঘামায় না।

প্রকৃতপক্ষে উপজাতীয়রা বর্তমানে মোটেও পশ্চাৎপদ নয় বরঞ্চ তারা বাংলাদেশের অন্যান্য যে কোন জেলার চেয়ে অনেক উন্নত জীবন যাপন করছে । শিক্ষা-দীক্ষায়, চাকুরী, ব্যবসায়-বানিজ্যে সর্বক্ষেত্রে তারা আজ প্রতিষ্ঠিত। বর্তমানে পার্বত্য চট্টগ্রামে হাজার হাজার উপজাতীয় ডাক্তার, ইঞ্জিনিয়ার, আইনজীবী, সেনা অফিসার, প্রশাসনে উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা, শিক্ষক, ব্যাংকার, পুলিশ কর্মকর্তা, এনজিও কর্মকর্তা-কর্মচারী, বিদেশী সংস্থার কর্মকর্তা খুঁজে পাওয়া যাবে । বিপরীতে পার্বত্য অঞ্চলের বাঙ্গালীরা হাজার থাক শতের কোটাও পার হতে পারেনি- যদিও বাঙ্গালীরা সে অঞ্চলের মোট জনসংখ্যার অর্ধেক।

বর্তমানে পার্বত্য চট্টগ্রামে ৮ম শ্রেণী পাস বেকার উপজাতীয় যুবক খুঁজে পাওয়া যাবে না। অথচ বিপরীত দিকে একই অঞ্চলের হাজার হাজার বাঙ্গালী যুবক বেকার হয়ে দেশ ও অর্থনীতির বোঝা হয়ে রয়েছে। অগ্রাধিকারের নামে একচেটিয়া উপজাতীয় প্রার্থীদের নিয়োগের ফলে বঞ্চিত হচ্ছে বাঙ্গালী শিক্ষিত যুবকেরা। ১৯৭৬ সালের পর থেকে অস্ত্র ঠেকিয়ে, রাজনৈতিক চাপ প্রয়োগ করার মাধ্যমে যে কোন প্রতিষ্ঠানে একচেটিয়া পাহাড়ি যুবকদের নিয়োগ দিতে বাধ্য করছে জন সংহতি সমিতি (জে এস এস), ইউপিডিএফ ও তার অঙ্গ সংগঠন পাহাড়ি ছাত্র পরিষদ। পার্বত্য চট্টগ্রামের যে কোন সরকারী বেসরকারী অফিসে বর্তমানে চাকুরীরত পার্বত্য বাঙ্গালী কর্মকর্তা কর্মচারী খুঁজে পাওয়া দুষ্কর। একদিকে সরকারের তরফ থেকে দেয়া অগ্রাধিকার, অন্যদিকে আঞ্চলিক পরিষদের চাপ, প্রয়োজনে অস্ত্রের ব্যবহারে চলছে প্রতিনিয়ত সুবিধা আদায়।

১৯৮৪-৮৫ সালে একত্রে ৫০০ উপজাতি যুবককে বিভিন্ন কর্মক্ষেত্রে নিয়োগ দেওয়া হয়। ১৯৮৬ সালে তৎকালীন সরকারের বিশেষ ক্ষমতা বলে চাকুরি দেওয়া হয় ১৮৭৭ জন উপজাতি যুবককে, একসাথে শুধুমাত্র পার্বত্য তিনটি জেলা হতে এই বিশাল সংখ্যক নিয়োগ বাংলাদেশে ইতিহাস সৃষ্টি করেছিল । কিন্তু সে সকল ক্ষেত্রে বাঙ্গালীরা উপেক্ষিত থেকেছে সবসময়।

শান্তিচুক্তি বাস্তবায়নের গোড়াতেই শান্তি বাহিনীর ৭১ জন ক্যাডারকে চাকুরীতে পুনর্বহাল, ৭০৫ জনকে পুলিশ বাহিনীতে, ১০ জনকে সার্জেন্ট পদে নিয়োগ দেওয়া হয়। এ রকমভাবে শান্তিচুক্তির আগে ও পরে হাজার হাজার পদে উপজাতীয়দের নিয়োগ দিয়েছে সরকার যার মধ্যে একজন বাঙ্গালীও নেই। বিগত শুধু এক অর্থবছরে পার্বত্য চট্টগ্রামে সড়ক উন্নয়নের খাতে ব্যয় হয়েছে প্রায় ৪৭১ কোটি ১৮ লাখ টাকা, যার প্রায় সম্পূর্ণই ব্যয় হয়েছে উপজাতি অধ্যুষিত এলাকার রাস্তাসমূহের উন্নয়নে। অথচ বাঙ্গালী অধ্যুষিত এলাকার সড়কগুলোর বেহাল দশা। ১১ নভেম্বর প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা খাগড়াছড়ি সফরকালে ৩২০ কোটি টাকার ১২টি উন্নয়ন প্রকল্প ও ৫টি উন্নয়ন কাজের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন ও উদ্বোধন করেছেন যার আশি ভাগেরও বেশী উপজাতীয় অধ্যুষিত এলাকায়।

উপজাতীরা প্রায় সময় দাবি করে তাদের ভারত প্রত্যাগত শরণার্থীদের পুনর্বাসন করা হয়নি, অথচ বাস্তব চিত্র তার ভিন্নতা প্রমাণ করে। জুলাই ১৯৯০ সালে জুন ১৯৯২ পর্যন্ত ১২০০ হাজার উপজাতি শরণার্থী পরিবারকে পুনর্বাসিত করা হয়, এ লক্ষ্যে ১৬ লাখ টাকা ও ৫৬৮১.৩৯৮ টন খাদ্য শস্য বরাদ্দ করা হয়। প্রতিটি পুনর্বাসিত পরিবারকে গৃহ নির্মাণ, কৃষি সহায়তা বাবদ এককালীন অনুদান দেওয়া হয় ১৬০০০ হাজার টাকা করে। পরিবার পিছু প্রতি সপ্তাহে বরাদ্দ করা হয় ২১কেজি চাল ও ১০০০ টাকা। ১৯৯০ সাল পর্যন্ত ফেরত আসা প্রতিটি পরিবারকে এভাবে পুনর্বাসিত করা হয়। ১৯৯২ সাল হতে ১৯৯৭ সালের চুক্তির পূর্ব পর্যন্ত ফেরত আসা শরণার্থীদের এর চেয়ে বেশি সুযোগ সুবিধা দেওয়া হয়। ১৯৯৭ সালের চুক্তির পর থেকে ফেব্রুয়ারী ১৯৯৮ সাল পর্যন্ত ভারতের ত্রিপুরা থেকে ফিরে আসা ১০ হাজার ৪২৭ টি পরিবারকে সরোর ঘোষিত ২০দফা প্যাকেজ সুবিধা সম্বলিত সবকিছু দেওয়া হয়েছিল (সূত্র:তৎকালীন পত্র পত্রিকার রিপোর্ট)। অথচ ৩৮ হাজার ১৫৬ টি বাঙ্গালী পরিবার আভ্যন্তরীণ উদ্বাস্তু হলেও তাদের জন্য এ পর্যন্ত প্রাপ্ত তথ্য মতে (২০১১ এর এপ্রিল পর্যন্ত) এধরনের কিছুই করা হয়নি। তবে ১৯৮২-৮৩ সালে সরকারী উদ্যোগে ২৬ হাজার বাঙ্গালী পরিবারকে পার্বত্য অঞ্চলে পুনর্বাসিত করার পর তাদের প্রত্যেক পরিবারকে ৫ একর জমি বরাদ্দ দেওয়া হয়েছিল । তাছাড়া “শান্তিচুক্তি”র পর ভারত হতে প্রত্যাগত শরণার্থীদের নামেও সরকার প্রতি ৩ একর করে জমি বরাদ্দ দিয়েছিল। কিন্তু সেসব জমির বিরাট অংশের দখল এখন বাঙালীদের হাতছাড়া- বিশেষ করে গুচ্ছগ্রামের বাঙালীদের জমি। এ দখল নিয়ে সৃষ্টি হয়েছে নানা রকম বিরোধ- যাকে কেন্দ্র আবার অস্থির হয়ে উঠছে পার্বত্য চট্টগ্রাম। বিশেষ করে রাজা দেবাশীষ রায় “বন ও পরিবেশ এবং পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের” উপদেষ্টা নিয়োগ পাওয়ার পর। যার প্রমাণ পাওয়া যায় সম্প্রতি ঘটে যাওয়া মহালছড়ি কেয়াংঘাট ইউনিয়নের করলাছড়ি সংঘর্ষ এবং দীঘিনালা উপজেলার সোনামিয়া টিলা ও বাবুছড়া বাজার এলাকার ঘটনায় (দৈনিক আমার দেশ:১২/০৩/০৮)।

তাছাড়া ২০০৮ সালের সংসদ নির্বাচনে মহাজোটের ঐতিহাসিক জয়ের সাথে তিন পার্বত্য জেলায় যারা সংসদ সদস্য হিসেবে নির্বাচিত হয়েছে তারা সবাই উপজাতি। তারা একটি রাজনৈতিক ব্যানার থেকে নির্বাচিত হলেও দেখা গেছে সকলেই জাতিগত ভিত্তিতে কাজ করছে। বাঙ্গালীদেরকে পার্বত্য এলাকা থেকে  বিতাড়িত করার জন্য মাঠ পর্যায়ের উপজাতিদের উস্কিয়ে দিচ্ছে। আর তারা প্রশাসনে বসে আইনগতভাবে একদিকে যেমন  বাঙ্গালীদের হয়রানি করছে, অন্যদিকে উপজাতিদের সহযোগিতা করছে যা পার্বত্য এলাকার প্রতিনিয়ত প্রশাসনিক কার্যক্রম ও ঘটনা থেকে বোঝা যায়।

সাম্প্রতিক সময়ে সংঘটিত অত্যাচারের নিপীড়নের কিছু খন্ডচিত্র আপনার জ্ঞাতার্থে তুলে ধরছি। বিগত ২০ এপ্রিল ২০০৮ সালে পাহাড়ী সশস্ত্র সন্ত্রাসীরা বাঘাইহাটে বাঙ্গালীদের ১৮১ টি ঘর পুড়িয়ে দেয়। ২০০৯ সালে ৬ মে বাঘাইহাটের গঙ্গারাম এলাকায় ইউপিডিএফ এর সন্ত্রাসীরা নির্মমভাবে হত্যা করে আলকাছ, আমান, মুজিব ও রাসেলকে। ২০০৯ সালের ডিসেম্বরে পানছড়িতে ধর্ষনের পর হত্যা করে দুই শিশু সন্তানের জননী নাছিমাকে। ২৪ জানুয়ারী ২০১০ সালে বাঘাইছড়িতে উপজাতি সন্ত্রাসীরা বাঙ্গালী এলাকায় ঢুকে মা বোনদের ইজ্জত হরণ এবং প্রকাশ্যে ভারি অস্ত্র দেখিয়ে গরু, নগত টাকা, গহনাসহ মূল্যবান জিনিসপত্র লুট করে নিয়ে যায়। ১৯ ফেব্রুয়ারি ২০১০ সালে তথাকথিত সি এইচ টি কমিশন এর প্রত্যক্ষ মদদে উপজাতীয় অস্ত্রধারী সন্ত্রাসীরা জ্ঞানেন্দ্রীয় চাকমা ও জোসনা রানীর নেতৃত্বে বাঘাইহাটে বাঙ্গালীদেরকে অস্ত্রের মুখে অবরোধ করে কয়েকশ’ ঘর বাড়ি জ্বালিয়ে দেয়, নষ্ট করে শত শত একর জমির ফসল। ২৩ ফেব্রুয়ারি ২০১০ খাগড়াছড়ি সদর উপজেলায় বাঙ্গালীদের ঘর বাড়ি পুড়িয়ে দিয়ে তার উপর নিক্ষেপ করে খাগড়াছড়ি পৌরসভার চতুর্থ শ্রেণীর কর্মচারী আনোয়ারের লাশ। ৪ ফেব্রুয়ারি ২০১১ নানিয়াচরের হামিদুলকে হত্যা করে, ১৬ ফেব্রুয়ারি ২০১১ রাঙ্গামাটির লংগদুতে বাঙ্গালি পাড়ায় হামলা চালিয়ে ৪০টির ও বেশি বসতবাড়ি জ্বালিয়ে দেয়। গত ১৭ এপ্রিল ২০১১ তারিখে খাগড়াছড়ির রামগড় উপজেলার কচুবাউন্তি গ্রামে ১৫-২০ জন বাঙ্গালী কৃষক তাদের হলুদ ক্ষেত তৈরীর কাজ করতে গেলে উপজাতি সশস্ত্র সংগঠন ইউপিডিএফ এর নেতৃত্বে কয়েকশ উপজাতি সন্ত্রাসী তাদের ঘেরাও দিয়ে এলোপাতাড়ি কুপিয়ে ঘটনাস্থলে মেরে ফেলে আইয়ুব আলী (৩৮), নওয়াব আলী (৬০), সুনীল সরকার (৩৩) কে। এখনো নিখোঁজ রয়েছে ২ জন। সর্বশেষ ৪ জন বাঙ্গালী উক্ত ঘটনায় মারা যায়।

সকলের ধারণা বিগত দিনের নির্যাতন, অসহায় ও চাঁদাবাজি ও হত্যাকান্ডগুলোর সুষ্ঠু বিচার ও অপরাধীরা গ্রেফতার না হওয়ায় সন্ত্রাসীরা আরো বেপরোয়া হয়ে উঠেছে। তাছাড়া তিন পার্বত্য চট্টগ্রামে বিভিন্ন পদে বাঙ্গালীর প্রতিনিধিত্ব না থাকায় এবং উপজাতিদের একক প্রতিনিধিত্বের কারণে বাঙ্গালীদের আহাজারি বেশিদুর পর্যন্ত এগোয় না। একশ্রেণীর মিডিয়া উপজাতি সন্ত্রাসীদের মোটা অংকের টাকার কাছে বিক্রি হওয়াতে সঠিক চিত্র দেশবাসীর কাছে তুলে ধরে না। তাছাড়া উপজাতিরা বাঙ্গালীদের চেয়ে কি পরিমাণে অগ্রগতি লাভ করেছে তা নিম্নের বর্ণনা থেকে সুস্পষ্ট ভাবে প্রতীয়মান হওয়া হয়।

১)    পার্বত্য চট্টগ্রামের প্রতিটি জেলায় আছে একটি করে “স্থানীয় সরকার পরিষদ” যার প্রধান নির্বাচিত হন একজন উপজাতি। এই পরিষদে আরো আছেন ৩০ জন সদস্য, যাদের ২০ জন উপজাতি আর বাকী ১০ জন অ-উপজাতি(বাঙ্গালী)। এই পরিষদের চেয়ারম্যান পান উপমন্ত্রীর মর্যাদা আর সদস্যরা উপসচিবের। আর পরিষদের ক্ষমতা হল:পরিষদই নেবে ভূমিসংক্রান্ত সমস্ত সিদ্ধান্ত। কর আরোপ করতে পারবে, নানা নিম্নপদে কর্মচারী নিয়োগ করতে পারবে, সহকারী সাব-ইন্সপেক্টর পর্যন্ত পুলিশ নিয়োগ করতে পারবে, ভূমিহীন উপজাতিদের ভূমি বন্টন করবে,বাজেট প্রণয়ন করবে এবং পালন করবে নানা দায়িত্ব। দেখা যাচ্ছে এই পরিষদের প্রধান একজন উপজাতি এবং তারাই সংখ্যাগরিষ্ঠ হওযার ফলে পরিষদের ১০০ ভাগ সুবিধা ভোগ করে উপজাতিরা।
২)    বর্তমানে উপজাতিরা ৮৭% শিক্ষিত  হবার পরও সকল সরকারী শিক্ষা বৃত্তি, ইউএনডিপি কর্তৃক বিদেশ গমনের বৃত্তি, সেনামৈত্রী বৃত্তি, বেসরকারী বৃত্তির বেশিরভাগই তারা পায়। অন্যদিকে বাঙ্গালীরা ৪০% এর কম শিক্ষিত অথচ সকল প্রকার বৃত্তির ১%ও তাদের জন্য বরাদ্দ হয় না। বিদেশ গমনের জন্য তারা কোন বৃত্তি পায় না।
৩)    সরকার পার্বত্য অঞ্চলের বিভিন্নস্থানে উপজাতীয় ছাত্র-ছাত্রীদের জন্য ১৩টি ছাত্রাবাস করে দিয়েছে অথচ বাঙ্গালীদের জন্য ০১ টি (২০০৮ সালে স্থাপিত)।
৪)    দেশের সকল বিশ্ববিদ্যালয়, মেডিকেল কলেজ, বি আই টি, ক্যাডেট কলেজ, পলিটেকনিক কলেজসমূহ সহ সকল উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানে প্রতি বিষয়ে দুই থেকে পাঁচজন পর্যন্ত ছাত্র-ছাত্রী উপজাতি কোটায় ভর্তির সুযোগ পায়। অথচ পার্বত্য বাঙ্গালীদের তেমন কোন সুযোগ নেই।
৫)    বিভিন্ন সরকারী-বেসরকারী চাকুরীতে উপজাতিদের শিক্ষাগত যোগ্যতা একধাপ নিচে নির্ধারণ করা হয়েছে অর্থাৎ স্নাতক সমমানের ক্ষেত্রে উচ্চমাধ্যমিক, উচ্চমাধ্যমিক সমমানের ক্ষেত্রে মাধ্যমিক যোগ্যতা ধারীদের নিয়োগ করা হয়। বয়স ১০বছর পর্যন্ত শিথিল করা হয়। অন্যদিকে পার্বত্য বাঙ্গালীরা যোগ্যতা সম্পন্ন থাকলেও উপজাতিদের অগ্রাধিকার নামে চাকুরী থেকে তাদেরকে বঞ্চিত করা হয়।
৬)    বিসিএস পরীক্ষায় উপজাতি প্রার্থীদের জন্য ২৫% কোটা সংরক্ষণ করা হয়েছে, অথচ বাঙ্গালীদের জন্য কোন কোটা সংরক্ষণ করা হয় নি।
৭)    উপজাতিদের সংস্কৃতি রক্ষার আড়ালে দেশের এবং বিদেশী দাতা সংস্থা থেকে প্রাপ্ত শত শত কোটি টাকা আত্মসাৎ করা হচ্ছে। অন্যদিকে আজ পার্বত্য চট্টগ্রামে “অ-উপজাতি” নামের নতুন শব্দটি দিয়ে পার্বত্য বাঙ্গালীদের আরেক নতুন জাতিতে পরিণত করা হয়েছে, তাদের বাঙ্গালী পরিচয়টুকুও কেড়ে নেওয়া হয়েছে।
৮)    উপজাতিদের ভূমিকর দিতে হবে নিয়মের অর্ধেক, বাঙ্গালীদের দিতে হবে পুরোটাই। তাছাড়া উপজাতিদের দিতে হবে না আয়কর, মূল্যসংযোজন করসহ আরো নানা কর।
৯)    যে কোন ব্যাংক থেকে তারা অনায়াসেই ঋণ পায় এবং তাদেরকে মাত্র ৫% সুদ দিতে হয় আর বাঙ্গালীদের সুদ দিতে হয় ১৫% ও শিল্পক্ষেত্রে ১৮% টাকা।
১০)    বিদেশী সকল সংস্থা এবং এন জিওগুলোতে শুধুমাত্র একচেটিয়াভাবে উপজাতিদের নিয়োগ দেওয়া হয় এবং উন্নয়ন কর্মকান্ডে অন্তর্ভুক্ত করা হয়। কিন্তু বাঙ্গালীদের ক্ষেত্রে তার উল্টো।
১১)    ব্যবসা-বানিজ্য সহ সকল ক্ষেত্রে উপজাতিরা অগ্রাধিকার পায়। দু’লক্ষ টাকার ঠিকাদারি কাজগুলো তাদের জন্য সংরক্ষিত রাখা হয়। এর উপরের মূল্যমানের কাজগুলোতে ১০% সংরক্ষিত রাখা হয়। এটা উন্মুক্ত প্রতিযোগিতার অতিরিক্ত।

অন্যদিকে উপজাতি সন্ত্রাসীদের ক্রমবর্ধমান চাঁদাবাজি, অপহরণ, গুম, হত্যায় তাদের জীবনের নিরাপত্তা অনুপস্থিত। বাঙ্গালীরা ঠিকাদারিসহ সকল প্রকার ব্যবসা-বাণিজ্য বন্ধ করে পার্বত্য চট্টগ্রাম ছেড়ে আসতে বাধ্য হচ্ছে। থানা সদর ব্যতীত প্রত্যন্ত অঞ্চলে বাঙ্গালীরা কোন ঠিকাদারি সঠিকভাবে করতে পারছে না জীবনের নিরাপত্তার অভাবে।

পশ্চাৎপদতা, অনগ্রসরতা যদি কোটা প্রথার উদ্ভবের কারণ হয় তাহলে উপজাতিরা যে রকম ভৌগোলিক, অর্থনৈতিক, রাজনৈতিক ও সামাজিক অসুবিধার সম্মুখীন, ঠিক বাঙ্গালীরাও একই অবস্থার সম্মুখীন। কিন্তু জীবনের সকল ক্ষেত্রে কোটা থাকার কারণে শিক্ষিত, অশিক্ষিত সকল শ্রেণীর উপজাতিরা দিন দিন তাদের শিক্ষার হার বাড়িয়ে, বেকারত্বের হার কমিয়ে নিজেদের অবস্থান সুদৃঢ় করে নিচ্ছে। অন্যদিকে অবহেলিত, নির্যাতিত, নিপীড়িত ও সুবিধা বঞ্চিত বাঙ্গালীরা আগের মতই অশিক্ষিত থেকে যাচ্ছে এবং দিন দিন দেশের অশিক্ষিত ও বেকারত্বের হার বাড়াচ্ছে।

“শান্তি চুক্তি’’ করার সময় তৎকালীন ও বর্তমান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছিলেন-“পার্বত্য এলাকায় পাহাড়ী বাঙ্গালী সকলেই থাকবেন- কোন বাঙ্গালীকে বলপূর্বক প্রত্যাহার করা হবে না”। তবে আজ কেন বাঙ্গালীদের উপর এত নির্যাতন,অত্যাচার! কেন তাদের প্রতি এত বৈষম্য! পাহাড়ের ঐ উপত্যকায় আর কত প্রাণ দিবে বাঙ্গালীরা। আর কত লাশ চায় সন্তু ও খীসাবাহিনী। সর্বশেষে মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর কাছে আবেদন রইল, পার্বত্য চট্টগ্রামের অখণ্ডতা রক্ষার্থে অতি দ্রুত বাঙ্গালী-উপজাতি-সরকারের মধ্যে ত্রিপাক্ষীক আলোচনার দরকার। আর না হয় বিদেশী ষড়যন্ত্র ও উপজাতিদের চেষ্টায় পার্বত্য চট্টগ্রাম হয়ে যেতে পারে অন্য কোন পূর্ব তিমুর অথবা সাউথ সুদান ।

লেখক: সদস্য সচিব, অনলাইন এক্টিভিস্ট ফোরাম ফর চিটাগাং হিল ট্রাক্টস, খাগড়াছড়ি জেলা শাখা।

One thought on “পার্বত্য উপত্যকায় বাঙ্গালীরা বৈষম্য ও নির্যাতনের শিকার

  1. This not right.This comment is totally wrong because most of Offices higher rank officers are Bengali. Most of the clash was created by Bengali people in Chittagong hill tract by getting support military army.Bengali people captured our place our land and they destroy our tradition of parbotto hill tract.

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *