নয়ন হত্যাকাণ্ডের বিচার ও গণগ্রেফতার বন্ধের দাবিতে খাগড়াছড়িতে বাঙালি ছাত্র পরিষদের স্বারকলিপি


Khagrachari Pic 01 (1) copy

নিজস্ব প্রতিবেদক,খাগড়াছড়ি:

যুবলীগ নেতা নুরুল ইসলাম নয়ন হত্যাকাণ্ডের সুষ্ঠ বিচার, বাঙালিদের নামে মিথ্যা মামলা দায়ের, গণগ্রেফতার বন্ধ ও গ্রেফতারকৃতদের মুক্তির দাবিতে ধারাবাহিক কর্মসূচির অংশ হিসেবে পার্বত্য বাঙালি ছাত্র পরিষদ খাগড়াছড়ি জেলা শাখার উদ্যোগে স্বারকলিপি দেওয়া হয়েছে।

মঙ্গলবার দুপুরে খাগড়াছড়ি জেলা প্রশাসক মো. রাশেদুল ইসলামের মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রীর কাছে এ স্বারকলিপি দেওয়া হয়।

স্বারকলিপিতে যুবলীগ নেতা নুরুল ইসলাম নয়ন হত্যার সাথে জড়িতদের দ্রুত গ্রেফতার পূর্বক দৃষ্টান্ত মূলক শাস্তির পাশাপাশি লংগদুতে সাধারণ নিরীহ ও নির্দোষ বাঙালিদের উদ্দেশ্যমূলক ভাবে গণগ্রেফতার বন্ধসহ-অনতিবিলম্বে গ্রেফতারকৃত সকল নির্দোষ বাঙালির নিঃস্বার্থ মুক্তির দাবি জানানো হয়।

এ সময় উপস্থিত ছিলেন, পার্বত্য বাঙালি ছাত্র পরিষদের কেন্দ্রীয় সদস্য সচিব আব্দুল মজিদ, খাগড়াছড়ি জেলা শাখার একাংশের সভাপতি লোকমান হোসাইন ও সাধারণ সম্পাদক মো. আসাদ উল্লাহ ও খাগড়াছড়ি সরকারি কলেজ শাখার সভাপতি মো. শাহাদাৎ হোসেন কায়েসসহ অন্যান্য নেতৃবৃন্দ।

স্বারকলিপিতে ভাড়ায় মোটর সাইকেল চালক নুরুল ইসলাম নয়ন হত্যাকাণ্ডের বিচার বিভাগীয় তদন্তের দাবি জানিয়ে বলা হয় নয়নকে রাঙ্গামাটির লংগদু উপজেলা থেকে দুইজন উপজাতী যুবক পরিকল্পিতভাবে ভাড়ায় নিয়ে খাগড়াছড়ির দিঘীনালা উপজেলার চার মাইল নামক স্থানে এনে হত্যা করে এবং হত্যার পরে উপজাতীয় সন্ত্রাসীরা তার ব্যবহৃত মোটর সাইকেলটি নিয়ে পালিয়ে যায়।

অভিযোগ করা হয়, ওই হত্যাকাণ্ডে জড়িত অপরাধীদের আড়াল করার জন্য ২ জুন পরিকল্পিতভাবে লংগদু উপজেলায় উপজাতীয় সন্ত্রসীরা নিজেদের ঘরবাড়ি নিজেরা পুড়িয়ে নিরীহ অসহায় বাঙালিদের উপর দোষ চাপায় এবং এ ঘটনার সাথে বাঙালিরা জড়িত বলে মিথ্যা অভিযোগের দায়ভার এনে মিথ্যা মামলা দায়ের করে হয়রানি ও গণগ্রেফতারের মাধ্যমে এলাকায় পুরুষ শুন্যতার সৃষ্টি করেছে। ফলে এলাকায় নিরীহ নারী ও শিশুরা আতঙ্কিত ও নিরাপত্তাহীনতার মধ্যে বসবাস করছে।

একইভাবে ইতিপূর্বে মাটিরাঙ্গা উপজেলার ভাড়ায় মোটর সাইকেল চালক আজিজুল হক শান্তকে ১৭ ফেব্রুয়ারি, ২০১৬ তারিখে অপহরণ করার পর ২১ ফেব্রুয়ারি, ২০১৬ তারিখে খাগড়াছড়ি আলুটিলার রিসাং ঝর্ণায় তার লাশ পাওয়া যায়। এরপর, মহালছড়ি উপজেলার ভাড়ায় মোটর সাইকেল চালক মো. সাদিকুল ইসলামকে ১০ এপ্রিল, ২০১৭ তারিখে অপহরণের পর ১৩ এপ্রিল, ২০১৭ তারিখে তার লাশ উদ্ধার করা হয়। এদেরকে নৃশংসভাবে হত্যার পর তাদের ব্যবহৃত মোটর সাইকেল গুলো ছিনতাই করে নিয়ে যাওয়া হয়।

এঘটনাগুলোর সাথে উপজাতীয় সন্ত্রাসীরা জড়িত বলে গ্রেফতারের পর আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দী দেয়। কিন্তু সংগঠিত হত্যাকাণ্ড গুলোর সুষ্ঠ বিচার না হওয়ায় ইউপিডিএফ, জেএসএস, জেএসএস (সংস্কার)  নামীয় উপজাতীয় সন্ত্রাসীরা পার্বত্য জনপদ অশান্ত করার লক্ষ্যে নুরুল ইসলাম নয়নকে হত্যা করেছে।

এদিকে নয়ন হত্যার বিচার, বাঙালিদের বিরুদ্ধে দায়েরকৃত মিথ্যা মামলা প্রত্যাহার, গণগ্রেফতার বন্ধ ও গ্রেফতারকৃতদের নি:শর্ত মুক্তির দাবিতে বুধবার সকাল ১১টায় জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে মানববন্ধন ও প্রতিবাদ সমাবেশ, ১০ জুন চট্রগ্রাম মহানগরের প্রেসক্লাবের সামনে মানববন্ধন ও প্রতিবাদ সমাবেশ ও তিন জেলায় বিক্ষোভ মিছিল এবং ১১ জুন তিন পার্বত্য জেলায় অর্ধদিবস হরতাল এর কর্মসূচি রয়েছে পার্বত্য নাগরিক পরিষদ ও বাঙালি ছাত্র পরিষদে।

স্বারকলিপিতে অভিযোগ করা হয়, পার্বত্য এলাকার উপজাতীয় সন্ত্রাসীরা অবৈধ অস্ত্রের মাধ্যমে নিরীহ পার্বত্যবাসীর উপর প্রতিনিয়ত খুন, অপহরণ, ধর্ষন, চাঁদাবাজিসহ নানা অপকর্ম চালিয়ে পার্বত্য অঞ্চলকে সন্ত্রাসীদের অভয়ারণ্যে পরিনত করে আসছে। বিভিন্ন মহল থেকে অবৈধ অস্ত্র উদ্ধারের জোর দাবি জানানো হলেও কার্যকরী কোন পদক্ষেপ না নেওয়ায় সন্ত্রাসীরা আরও বেপরোয়া হয়ে পার্বত্য অঞ্চলকে আলাদা জুম্মল্যান্ড করার অপচেষ্টা চালাচ্ছে। স্বারকলিপিতে উপজাতীয় সন্ত্রাসীদের সকল অপকর্ম বন্ধের এবং পার্বত্য অঞ্চল থেকে সকল অবৈধ অস্ত্র উদ্ধারে যৌথবাহিনীর অভিযান পরিচালনার দাবি জানানো হয়

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *