নারী নির্যাতন আইনে মামলা: আলীকদমে দুই শিক্ষক বরখাস্ত


আলীকদম প্রতিনিধি:

নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে আসামী হওয়ায় বান্দরবান পার্বত্য জেলা পরিষদ চেয়ারম্যানের অনুমোদনক্রমে অভিযুক্ত দুই শিক্ষককে সরকারি চাকুরী হতে সাময়িক বরখাস্ত করেছে জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিস। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে অভিযুক্ত শিক্ষকরা মামলার বাদীর চরিত্রহনন করে লেখা একটি লিফলেট ফেসবুকে পোস্ট করাসহ আলীকদম ও চকরিয়ার কাকারা এলাকায় বিভিন্ন দেওয়ালে লিফলেট লাগিয়ে যাচ্ছেন বলে অভিযোগ উঠেছে।

জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিস সূত্রে জানা গেছে, পার্বত্য জেলা পরিষদের ওপর ন্যস্ত বান্দরবানের প্রাথমিক শিক্ষা বিভাগ। নিয়োগ, বদলী ও বরখাস্তের সিদ্ধান্তসমূহ জেলা পরিষদ চেয়ারম্যানের অনুমোদনক্রমে হয়। চলতি বছরের ১৫ ফেব্রুয়ারি আলীকদম থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন ২০০০ (সংশোধনী ২০০৩) এর ১১(গ)/৩০ ধারায় একটি মামলায় আসামী হন আলীকদম উপজেলার থোয়াইচিং হেডম্যান পাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক শফিকুল ইসলাম ও চৈক্ষ্যং ত্রিপুরা পাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক মনিরুল ইসলাম।

এ ঘটনার বিষয়ে জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার গত ১ মার্চ ১৯৯ স্মারকে উপজেলা শিক্ষা অফিসারকে তদন্তের নির্দেশ দেন। উপজেলা শিক্ষা অফিসার ঘটনাটি সত্য মর্মে তদন্ত প্রতিবেদন দেন। জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার ১৮ মার্চ স্মারক নং- ১৩৫ মূলে অভিযুক্ত ২ শিক্ষকের সাময়িক বরখাস্তের অনুমোদন চেয়ে বান্দরবান পার্বত্য জেলা পরিষদ চেয়ারম্যানের কাছে পত্র দেন। এরপর ‘দুইজন সহকারি শিক্ষক এর বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা গ্রহণ’ সংক্রান্ত অনুমোদপত্রে স্বাক্ষর দিয়ে পার্বত্য জেলা পরিষদ থেকে গত ৫ এপ্রিল স্মারক নং- ৫৪৫ মূলে জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসারকে পত্র দেন।

‘চেয়ারম্যানের অনুমোদনক্রমে’ শিক্ষকদ্বয়কে সাময়িক বরখাস্তের প্রস্তাবে স্বাক্ষর করেন পরিষদের নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ নুরুল আবছার।

বান্দরবান জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিস থেকে সোমবার (০৪ জুন) পাওয়া অফিস আদেশে দেখা যায়, শিক্ষক শফিকুল ইসলাম ও মনিরুল ইসলামকে সংশ্লিষ্ট বিধি মোতাবেক ০১ মার্চ ২০১৮ থেকে সরকারি চাকুরি হতে সামিয়ক বরখাস্ত করা হয়।

এদিকে, মামলা হতে জামিনে এসে অভিযুক্ত শিক্ষকরা মামলার বাদী জয়নবের ওপর পুনরায় হামলা করে। এ ঘটনায় আলীকদম থানায় জিডি নং- ২৫২ তারিখ: ০৬/০৩/২০১৮ইং রুজু হয়। এ জিডির তদন্ত শেষে অভিযুক্ত এ দুই শিক্ষকের বিরুদ্ধে ৫০৬ ধারায় অভিযোগ দাখিল করে পুলিশ।

এতে ক্ষিপ্ত হয়ে অভিযুক্ত শিক্ষক শফিকুল ইসলাম মামলার বাদীর চরিত্রহনণ করে লেখা একটি লিফলেট ফেসবুকে পোস্ট করে এবং আলীকদম ও চকরিয়ার কাকারা এলাকায় বিভিন্ন দেওয়ালে লাগিয়ে যাচ্ছেন বলে অভিযোগ করেন জয়নব আরা বেগম।

এ ব্যাপারে অভিযুক্ত শিক্ষক শফিকুল ইসলাম বলেন, আমি বাদী জয়নব আরা বেগম ও পুলিশের বিরুদ্ধে সংবাদ সম্মেলন করেছি। সেইসব আমি ফেসবুকে পোস্ট করেছি। আর বান্দরবান পার্বত্য জেলা পরিষদ ২০১৪ সালের চাকুরী বিধি লঙ্ঘন করে আমাকে সাময়িক বরখাস্ত করেছে।

সোমবার দুপুরে এ অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে আলীকদম থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) রফিক উল্লাহ্ বলেন, অভিযুক্ত শিক্ষক শফিকুল ইসলাম ও মনিরুল ইসলামের বিরুদ্ধে ইতোমধ্যে নারী নির্যাতন মামলায় চার্জশীট দাখিল করা হয়েছে। মামলায় জামিনে এসে তারা বাদীর ওপর হামলা ও লিফলেট বিতরণ করছে বলে শুনেছি। এ বিষয়ে তদন্ত করা হচ্ছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *