নানিয়ারচরে উপজলো ভাইস চেয়ারম্যানের উপর হামলায় দুই বাঙ্গালী যুবক গ্রেফতার: ইউএনওকে লাঞ্ছিত করার ঘটনা ধাপাচাপা

নানিয়ারচর ১

পার্বত্যনিউজ রিপোর্ট :

নানিয়ারচর উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যানের উপর হামলার ঘটনায় রাঙ্গামাটির বগাছড়িতে দুই বাঙ্গালী যুবককে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। তবে এ ঘটনার দুইদিন আগে সেনা, পুলিশ ও প্রশাসনের উপস্থিতিতে নানিয়ারচর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার উপর প্রকাশ্যে উপজাতীয় নেত্রীর হামলার ঘটনায় পুলিশ বা প্রশাসন এখন পর্যন্ত কাউকে গ্রেফতার করেনি, এমনকি কোনো মামলাও রজু করেনি। অথচ উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যানের উপর হামলার পরপরই নানিয়ারচর থানার এসআই আউয়াল বাদি হয়ে ২৬ জনের নামোল্লেখ করে এবং আরো অজ্ঞাতনামা বেশ ক’জনকে আসামী করে মামলা দায়ের করেন। যার নম্বর-৩ তারিখ-৩০ ডিসেম্বর ২০১৪।

রাঙ্গামাটির নানিয়ারচর উপজেলার বগাছড়িতে সোমবার সন্ধ্যায় অবরোধকারীদের হামলায় নানিয়ারচর উপজেলা পরিষদের ভাইস চেয়ারম্যান রন বিকাশ চাকমা আহত হওয়ার অভিযোগে হামলাকারী সন্দেহে এ দুই বাঙ্গালী যুবককে গ্রেফতার করেছে নানিয়ারচর থানা পুলিশ।

আটক দুই বাঙ্গালি যুবক হলো, বগাছড়ি আমতলা এলাকার জোনাব আলী‘র ছেলে হাবিব (৩৪) ও বগাছড়ি প্রাইমারী স্কুল এলাকার মো: আবদুল খালেক‘র ছেলে মুন্না (২২)। মঙ্গলবার রাতে তাদের আটক করার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন নানিয়ারচর থানার অফিসার ইনচার্জ মো: রশিদ চৌধুরী।

নানিয়ারচর থানার অফিসার ইনচার্জ মো: রশিদ চৌধুরী জানান, সোমবার সন্ধ্যায় বাঙ্গালীদের অবরোধের মধ্যেই সোমবার বিকেলে নানিয়ারচর উপজেলা থেকে ১৪ মাইল এলাকায় একটি সভায় যোগ দেয়ার জন্য উপজেলা চেয়ারম্যানের গাড়িতে করে যাওয়ার পথে বগাছড়ি চৌরাস্তা এলাকায় পৌছলে অবরোধকারী বাঙ্গালী পিকেটাররা গাড়ীটির গতিরোধ করে এবং গাড়ীর সামনে বসা ভাইস চেয়ারম্যান রন বিকাশ চাকমাকে লাঠি দিয়ে আঘাত করলে তিনি আহত হন।

তাৎক্ষনিকভাবে গাড়ীর সাথে থাকা পুলিশ এবং পাশ্ববর্তী স্থান থেকে ছুটে আসা সেনা সদস্যরা গাড়ীটিকে উদ্ধার করে নিরাপদে পৌঁছে দেয়। পরে আঘাত প্রাপ্ত নানিয়ারচর উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান রন বিকাশ চাকমাকে রাঙ্গামাটি সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।

উল্লেখ্য গত ২৮ ডিসেম্বর মানবাধিকার কমিশনের চেয়ারম্যান ড. মিজানুর রহমানের উপস্থিতিতে বগাছড়ির ১৪ মাইল এলাকায় পাহাড়ি নেত্রী ও ইউপি মেম্বার কাজলী ত্রিপুরার নেতৃত্বে পাহাড়ী নারীদের একটি গ্রুপ ইউএনও নুরুজ্জামানের উপর চড়াও হয়।

এদিকে নানিয়ারচরের ঘটনায় রাঙামাটির পুলিশ প্রশাসনের দ্বিমুখী নীতির কারণে বিক্ষুদ্ধ হয়ে উঠছে বাঙালী সম্প্রদায়। নানিয়ারচর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার উপর হামলায় প্রশাসন কী ব্যবস্থা নিয়েছে সে বিষয়ে রাঙামাটির জেলা প্রশাসক মো. শামসুল আরেফিনের কাছে মোবাইলে জানতে চাইলে তিনি বলেন, দুইজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। তাদের কোন মামলায় গ্রেফতার করা হয়েছে- ভাইস চেয়ারম্যানের উপর হামলা না ইউএনও’র উপর হামলার ঘটনায়? উত্তরে ডিসি বলেন, দুটো একই মামলা। পৃথক পৃথক দিনে, পৃথক পৃথক ঘটনায় এক মামলা হয় কী করে? তাছাড়া ইউএনও’র উপর হামলা করেছে উপজাতীয় সন্ত্রাসীরা। তাদের মামলায় বাঙালী গ্রেফতার হলো কী করে- এসব প্রশ্নের কোনো সদুত্তর না দিয়ে জেলা প্রশাসক বলেন, আগের মামলা রেকর্ড করা হয় নি। কেন করা হয়নি, সেটা কি কোনো অফেন্সিভ অপরাধ ছিল না- এমন প্রশ্নের উত্তরে ডিসি বলেন, যার বিরুদ্ধে ঘটনা তিনি কোনো রেকর্ড করেননি।

তবে এ ঘটনার পর নানিয়ারচর ইউএনওকে মোবাইলে প্রাণনাশের হুমকি দেয়া হয়েছে। এ ব্যাপারে জানতে নানিয়ারচর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো: নুরুজ্জামান মোবাইল এসএমএস এর মাধ্যমে তাকে হুমকি দেওয়ার সত্যতা নিশ্চিত করে পার্বত্যনিউজকে বলেন, আমি প্রজাতন্ত্রের একজন কর্মচারি, দেশের প্রয়োজনে নিজের প্রাণ বিসর্জন দিতেও আমি দ্বিধা করবো না। প্রাণনাশের হুমকিতে আমি ভীত নই উল্লেখ করে তিনি বলেন, বর্তমানে আমি আমার কর্মস্থল নানিয়ারচর অবস্থান করছি।

এদিকে নানিয়ারচরের ঘটনায় রাঙামাটি পুলিশ প্রশাসনের দ্বিমুখী নীতির তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন পার্বত্য গণ পরিষদের মহাসচিব কবি মাহমুদুল হাসান নিজামী। তিনি পার্বত্যনিউজকে বলেন, এ ধরণের দ্বিমুখী নীতি চললে ভবিষ্যতে কোনো দেশপ্রেমিক কর্মকর্তা পার্বত্য চট্টগ্রামে দায়িত্ব পালন করতে পারবে না।

এদিকে বাঙ্গালীদের অধিকার আদায়ের আন্দোলনকে স্তব্ধ করতেই দুই বাঙ্গালী যুবককে গ্রেফতার করা হয়েছে বলে দাবী করেছেন নানিয়ারচর ভূমি উদ্ধার আন্দোলন পরিষদের আহবায়ক মো: মিজানুর রহমান।

সাজানো ও মিথ্যা মামলায় নিরীহ দুই বাঙ্গালী যুবককে গ্রেফতারের ঘটনায় তীব্র নিন্দা জানিয়ে অবিলম্বে গ্রেফতাকৃতদের মুক্তির দাবি জানিয়েছেন নানিয়ারচর ভূমি উদ্ধার আন্দোলন পরিষদের আহবায়ক মো: মিজানুর রহমান। তিনি পার্বত্যনিউজকে বলেন, পুলিশ একটি সাজানো মামলায় আমাদের দুই কর্মীকে আটক করেছে। তিনি মিথ্যা মামলা প্রত্যাহারের দাবী জানিয়ে বলেন, অবিলম্বে এ মামলা প্রত্যাহার করা না হলে হরতালের চেয়েও কঠোর কর্মসূচি দিয়ে নানিয়ারচরকে অচল করে দেওয়া হবে।

Print Friendly, PDF & Email
Facebook Comment

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আরও পড়ুন