নাইক্ষ্যংছড়ি থেকে রোহিঙ্গা স্থানান্তর আরম্ভ


বাইশারী প্রতিনিধি:

মিয়ানমার বাহিনীর নির্যাতনের কবলে পড়ে, প্রাণ বাঁচাতে বাংলাদেশে ছুটে এসে বান্দরবানের নাইক্ষ্যংছড়ির ঘুমধুম সীমান্তে আশ্রয় নেওয়া-রোহিঙ্গাদেরকে কক্সবাজারের উখিয়ায় সরিয়ে নেওয়ার কাজ আরম্ভ হয়েছে।

মঙ্গলবার(৩ অক্টোবার) বিকেল থেকে এই কাজ শুরু হয়। কিন্তু কোন একটি গোষ্ঠী রোহিঙ্গাদের মাঝে আতঙ্ক ছড়িয়েছে। শিবিরে আশ্রয় নেওয়া মিয়ানমারের বলিবাজার এলকার ছৈয়দুল ইসলাম (৩২) বলেন, ‘আমাদেরকে ভাসানচরে নেওয়া হবে বলে অনেকে বলেছে, এই জন্য লোকজন হেঁটেই উখিয়ার নানা আশ্রয় শিবিরে চলে যাচ্ছেন।’

তবে সরেজমিনে দেখা যায়- মঙ্গলবার মিয়ানমার লাগোয়া ঘুমধুমের পশ্চিমকুল পাহাড়চূড়া হতে পঞ্চাশ পরিবারের ২২৮জন রোহিঙ্গাকে তাদের মালামালসহ উখিয়া শরণার্থী ক্যাম্পে স্থানান্তর করেছে প্রশাসন।

বান্দরবানের জেলা প্রশাসক দিলীপ কুমার বণিক হস্তান্তর অনুষ্ঠানের উদ্বোধন করেন। এসব রোহিঙ্গাদেরকে ১৫টি মিনিবাসে করে পর্যায়ক্রমে পুলিশ পাহারায় উখিয়ার রোহিঙ্গা শরণার্থী ক্যাম্পে নেওয়া হয়। স্থানান্তরকালে বান্দরবানের অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট মফিদুল আলম, নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা এসএম সরওয়ার কামাল, নাইক্ষ্যংছড়ি সদর ইউপি চেয়ারম্যান তসলিম ইকবাল চৌধুরী, ঘুমধুম ইউপি চেয়ারম্যান একেএম জাহাঙ্গীর আজিজ প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

পরে উখিয়া শরণার্থী ক্যাম্পে গিয়ে এসব রোহিঙ্গাদের খোঁজখবর নেন ত্রাণমন্ত্রী মোফাজ্জেল হোসেন চৌধুরী মায়া। এসময় তিনি তাদেরকে দশ কেজি করে চাউল বিতরণ করেন।

বান্দরবানের জেলা প্রশাসক দিলীপ কুমার বণিক বলেন, ‘চিকিৎসা, বাসস্থান এবং সব ধরনের সুবিধার জন্য রোহিঙ্গাদের নাইক্ষ্যংছড়ি থেকে উখিয়ায় সরানো হচ্ছে। বর্তমান সরকার রোহিঙ্গাদের জন্য খুবই মানবিক। পর্যায়ক্রমে নাইক্ষ্যংছড়ি সদরের রোহিঙ্গাদেরকেও সরানো হবে।’

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *