নাইক্ষ্যংছড়ির দোছড়িতে তামাক চাষী অপহরণের ঘটনায় অপহরণ চক্রের তিন সদস্য গ্রেফতার


বাইশারী প্রতিনিধি:

বান্দরবানের নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলার দোছড়ি ইউনিয়নের লংগদুর মুখ নামক স্থান থেকে গত ১৭ এপ্রিল (মঙ্গলবার) দিবাগত রাতে তামাক চাষী সাইফুল ইসলাম (১৮) কে অপহরণের ঘটনায় জড়িত অপহরণ চক্রের সক্রিয় তিন সদস্যকে গ্রেফতার করতে সক্ষম হয়েছে বাইশারী তদন্ত কেন্দ্রের পুলিশ সদস্যরা। গত তিন দিনের টানা অভিযানের ফলে অপহরণ চক্রের তিন সদস্যকে গ্রেফতার করা হয় বলে পুলিশ জানান।

গ্রেফতারকৃতরা হলো রামু উপজেলার গর্জনিয়া ইউনিয়নের বড়বিল গ্রামের বাসিন্দা মো. ইসমাইলের পুত্র শফিউল আলম (৩৪), উপজেলার একই ইউনিয়নের একই গ্রামের বাসিন্দা মকবুল আহামদের পুত্র নুরুল হাকিম (৩২) ও মৃত নুরুল হাকিমের পুত্র আব্দুর রশিদ (২৬)।

অভিযানের নেতৃত্ব দানকারী বাইশারী পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রের সহকারী ইনচার্জ আবু মুসা বলেন, জেলার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ডিএসবি) আলী হোসেন স্যারের নির্দেশ মোতাবেক তথ্য প্রযুক্তি ব্যবহারের মাধ্যমে অপহরণকারী চক্রে তিন সদস্যকে গ্রেফতার করা হয়েছে। সর্বশেষ ২৪ এপ্রিল ভোর রাতে ধৃতদের স্বীকারোক্তি মোতাবেক তথ্য প্রযুক্তি ব্যবহারের মাধ্যমে শফিউল আলমকে রামু উপজেলার দূর্গম জনপদ জোয়ারিনালা ইউনিয়নের নন্দাখালী গ্রামের এক বাড়ি থেকে অভিযান চালিয়ে গ্রেফতার করা হয়েছে।

পুলিশ জানায়, ধৃত অপহরণকারী চক্রের সদস্যরা সরাসরি তামাক চাষী সাইফুল ইসলামকে অপহরণের সাথে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেছে। এছাড়া বাইশারী ঈদগড়-ঈদগাঁও সড়ক রামু গর্জনিয়া-দোছড়ি ও বাঁকখালী থেকে বিগত দিনে অপহরণের সাথে এদের সম্পৃক্ততার কথাও স্বীকার করেছে। অপহরণের ঘটনায় নাইক্ষ্যংছড়ি থানায় মামলা দায়ের হয়েছে। যার মামলা নং- ৬, ২২/০৪/২০১৮ইং।

স্থানীয়রা জানান, বাইশারী পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রের সহকারী ইনচার্জ আবু মুসার সাহসিকতায় এলাকার লোকজন এখন কিছুটা স্বস্তির নিশ্বাস ফেলেছে। তবে অপহরণ চক্রের মূল হোতা মো. আনোয়ার প্রকাশ আনাইয়া ডাকাতকে গ্রেফতার না করা পর্যন্ত এলাকায় পুরাপুরি স্বস্তি ফিরবে না। এলাকার লোকজন এখনো অপহরণ আতঙ্কে ভুগছেন। কিছুদিন থেমে থেমে চলছে এলাকায় অপহরণ বানিজ্য।

তাই এলাকার হাজার হাজার জনসাধারণ আনাইয়া ডাকাতকে গ্রেফতারের দাবি জানান।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *