দেবদূত টনি ক্রুসেই শেষ মুহূর্তে রক্ষা পেল জার্মানি



পার্বত্যনিউজ ডেস্ক:

জার্মানির বিশ্বকাপ স্বপ্নকেই প্রায় বিলীন করে দিয়েছিল সুইডেন। কিন্তু শেষ পর্যন্ত দেবদূত হয়ে একেবারে শেষ মুহূর্তে জার্মানিকে রক্ষা করলেন টনি ক্রুস। ড্র হতে যাওয়া ম্যাচ থেকে এনে দিলেন ২-১ গোলের দারুণ এক জয়। সেই সঙ্গে রাশিয়া বিশ্বকাপের দ্বিতীয় রাউন্ডে যাওয়ার স্বপ্নও দেখছে এখন জোয়াকিম লো’র দল।

সোচিতে ম্যাচের শুরু থেকেই আক্রমণাত্মক খেলতে থাকে জার্মানি। গোলের জন্য হন্যে হয়ে ওঠে জোয়াকিম লো’র শিষ্যরা। ৭ মিনিটেই গোলের সুযোগ পান ড্রাক্সলার। কিন্তু কাজে আসেনি তা। আর ১২ মিনিটে গোলের সহজ সুযোগ পেয়ে এবং ম্যানুয়েল ন্যয়ারকে একা পেয়েও তা কাজে লাগাতে পারেননি সুইডেনের বার্গ।

এদিন জার্মানদের আধিপত্যের মাঝেই গোটা ফুটবল দুনিয়াকে চমকে দেয় সুইডেন। ৩২ মিনিটে ম্যানুয়েল ন্যয়ারকে হতাশ করে দারুণ এক গোল করে সুইডিশ সমর্থকদের উচ্ছ্বাসের জোয়ারে ভাসান তোইভোনেন।

তাহলে রাশিয়াতেই জার্মান সাম্রাজ্যের পতন! প্রথম ম্যাচে মেক্সিকোর কাছে হার। দ্বিতীয় ম্যাচে সুইডেনের কাছে হারলেই যে ২০১৮ বিশ্বকাপ থেকে বিদায় নিতে হবে জার্মানদের! অনেকের মনেই তখন এই ভয় ধরে যায়!

কিন্তু কথায় আছে, জার্মানরা কখনোই হাল ছাড়ে না। গোল হজমের পর থেকেই দেখা যায় জার্মান শিবিরে ঘুরে দাঁড়ানোর প্রাণপণ চেষ্টা। বিরতির পরও দেখা গেল সেই প্রমাণ। গোলের শোধ নিতে হন্যে হয়ে পড়ে জার্মান শিবির।

৪৮ মিনিটেই এসে যায় সেই মুহূর্ত। টিমো ওয়ার্নারের ক্রস থেকে পাওয়া বলটিকে দারুণভাবে সুইডেনের জালে জড়ান মার্কো রেউস। কিছুটা স্বস্তি ফিরে আসে জোয়াকিম লোর মুখে।

আক্রমণ চলতে থাকে। ৫১ মিনিটে আবারও সুযোগ আসে জার্মানির। কিন্তু টনি ক্রুসের ক্রস থেকে পাওয়া থমাস মুলারের অসাধারণ হেড গোলপোস্টের বাইরে দিয়ে চলে যায়। জার্মানি তাদের সেরা সুযোগটা মিস করে ৬০ মিনিটে।

৭৫ মিনিটে কর্নার পায় সুইডেন। কর্নার থেকে পাওয়া বল বক্সের বাইরে থেকে দুর্দান্ত শটে জার্মানির জালে জড়ানোর চেষ্টা করেন আন্দ্রেয়াস গ্রানকভিস্ট। কিন্তু তা আর হতে দেননি গোলপোস্টের নিচে দেয়াল হয়ে দাঁড়ানো জার্মান গোলরক্ষক ম্যানুয়েল নিউয়ের। ৮২ মিনিটেও সুযোগ কাজে লাগাতে ব্যর্থ হন জার্মান স্ট্রাইকার টিমো ওয়ার্নার।

তার পরের মিনিটেই কপাল পোড়ে জার্মানির। প্রতিপক্ষের খেলোয়াড়কে ভয়াবহভাবে ট্যাকল করার কারণে জেরোমে বোয়াটেংকে দ্বিতীয় হলুদ কার্ড দেখান ম্যাচ রেফারি। ১০ জনের দলে পরিণত হয় জোয়াকিম লোর দল।

কিন্তু জার্মানি বলে কথা। এমন পরিস্থিতিতেও যে সুন্দর, গোছানো ফুটবল খেলা যায়, সেটাই দেখিয়েছে ২০১৪ সালের ব্রাজিল বিশ্বকাপের চ্যাম্পিয়নরা। কিন্তু কিছুতেই যেন সহায় হচ্ছিল না ভাগ্য।

শেষ দিকে ক্রুস-মুলারদের নেওয়া দুর্দান্ত কিছু শট দারুণভাবে রুখে দেন সুইডিশ গোলরক্ষক। অতিরিক্ত সময়ের ৯০+২ মিনিটে জার্মানির এগিয়ে যাওয়ার পথে বড় বাধা হয়ে দাঁড়ায় সুইডেনের গোলপোস্ট।

জার্মানির লড়াই চলে তবু। অতিরিক্ত সময়ের একেবারে শেষ মুহূর্তে ৯০+৫ মিনিটে ফ্রি-কিক পায় লো’র দল। আর অসাধারণ সেই ফ্রি-কিক থেকেই গোল করে জার্মানিকে ২-১ গোলের জয় উপহার দেন টনি ক্রুস। সেই সঙ্গে প্রমাণ করলেন আসলে তারা কেন চ্যাম্পিয়ন।

সূত্র- প্রিয়.কম

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *