জেএসএস’র খাগড়াছড়ির পুনরুদ্ধার মিশন: দ্রুত অগ্নিগর্ভ হয়ে উঠছে পার্বত্য চট্টগ্রাম


বা

মেহেদী হাসান পলাশ:

খুব দ্রুততার সাথে পার্বত্য চট্টগ্রামের পরিস্থিতি ভয়াবহ দিকে ধাবিত হচ্ছে। পার্বত্য চট্টগ্রামে শান্তি চায়না এমন একটি গোষ্ঠী সুদুরপ্রসারী লক্ষ্য নিয়ে পার্বত্য চট্টগ্রামের পরিস্থিতি সংঘাতমুখর করে তুলতে অতিমাত্রায় সক্রিয় হয়ে উঠেছে। সুপরিকল্পিতভাবে নানা অপ্রীতিকর ঘটনার জন্ম দিয়ে এবং সেসব ঘটনাকে কেন্দ্র করে গুজব ও অপপ্রচার ছড়িয়ে পার্বত্য চট্টগ্রামে পাহাড়ী-বাঙালী দাঙ্গা সৃষ্টি করে ফায়দা হাসিল করতে চাইছে এ চক্রটি। এরই মধ্যে পার্বত্য জেলা খাগড়াছড়িতে ঘটা বেশ কয়েকটি অপ্রীতিকর ঘটনাকে কেন্দ্র করে অপপ্রচার ও গুজব ছড়িয়ে তারা পাহাড়ী-বাঙালী দাঙ্গা সৃষ্টি করতে সক্ষম হয়েছে- যার ফলস্বরূপ ২৫ ফ্রেব্রুয়ারীর সংঘাত। এ সংঘাতে ৬ জন আহত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে।

পার্বত্য চট্টগ্রামের পরিস্থিতির সাথে গভীর পর্যবেক্ষণ রেখেছেন এমন একাধিক সূত্র জানিয়েছে, মূলত দুটি সাময়িক লক্ষ্যকে সামনে রেখে এ ষড়যন্ত্রের ছক সাজানো হলেও এর পেছনে গভীর ষড়যন্ত্র লুকিয়ে আছে। এর একটি উপজেলা নির্বাচনে আঞ্চলিক রাজনৈতিক দলগুলোর সাফল্য লাভ এবং অন্যটি ইউপিডিএফ এর দখল থেকে জেএসএস কর্তৃক তাদের ‘হারানো সাম্রাজ্য’ খাগড়াছড়ি জেলার নিয়ন্ত্রণ পুনরুদ্ধার।

সূত্র মতে, পাহাড়ী জনগোষ্ঠী জাতীয় রাজনীতির সাথে অতিরিক্ত মাত্রায় সক্রিয় হওয়ার ফলে চলমান উপজেলা নির্বাচনে তাদের বিপুল পরিমাণ ভোট জাতীয় রাজনৈতিক দলগুলোর বাক্সে যাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। সে কারণে চলমান উপজেলা নির্বাচনে তিন পার্বত্য জেলায় আঞ্চলিক রাজনৈতিক দলগুলোর আশানুরূপ ফল লাভের সম্ভাবনা ক্ষীণতর হয়ে উঠেছে। এ পরিস্থিতি থেকে নিজেদের উত্তোরণের উপায় হিসাবে পাহাড়ী-বাঙালী সাম্প্রদায়িক দাঙ্গা বাঁধিয়ে একটি উগ্র জাতীয়বাদী ইজম সৃষ্টি করে পাহাড়ী ভোটগুলোকে আঞ্চলিক রাজনৈতিক দলের বাক্সে ফেলায় তাদের অন্যতম লক্ষ্য। 

অন্যদিকে, রাঙামাটিতে বিগত সংসদ নির্বাচনে জেএসএস নেতা উষাতন তালুকদারের বিজয় ও খাগড়াছড়িতে ইউপিডিএফ নেতা প্রসীত বিকাশ খীসার পরাজয়ের পর উজ্জিবীত জেএসএস পার্বত্য চট্টগ্রামের গুরুত্বপূর্ণ জেলা খাগড়াছড়ির নিয়ন্ত্রণ পুনুরদ্ধার করতে সক্রিয় হয়ে উঠেছে। মূলত খাগড়াছড়ি জেলার নিয়ন্ত্রণ পেয়েই ইউপিডিএফ জেএসএসকে চ্যালেঞ্জ ছুঁড়ে দিয়েছিল এবং সেই চ্যালেঞ্জে জেএসএস কোণঠাসা হয়ে খাগড়াছড়ি থেকে নিজেদের গুটিয়ে নিয়েছিল। ফলে জেএসএস নামে খাগড়াছড়িতে একটি সংগঠন থাকলেও তা সংস্কারপন্থী গ্রুপ ও ইউপিডিএফ’র ছায়াসঙ্গী।

জেএসএস প্রধান সন্তু লারমা ইউপিডিএফকে হটিয়ে বহুদিন ধরেই খাগড়াছড়ি পুনরুদ্ধার করতে চেষ্টা করে আসছিলেন। কিন্তু পেরে ওঠেননি। শুধু তাই নয়, ইউপিডিএফকে তিনি অগ্রজ সহোদর এমএন লারমার হত্যাকারী হিসাবে বিবেচনা করেন। ফলে খাগড়াছড়ি পুনুরুদ্ধার শুধু নয়, পার্বত্য চট্টগ্রাম থেকে ইউপিডিএফ’র অস্তিত্ব তিনি মুছে ফেলতে চান সবসময়। উষাতন তালুকদার এমপি নির্বাচিত হওয়ায় তার সে লক্ষ্য অনেকটা সহজ হয়েছে বলে তিনি মনে করেন। ফলে উষাতনকে কাজে লাগিয়ে সন্তু লারমা সরকারের বিভিন্ন মহল থেকে পার্বত্য চট্টগ্রাম থেকে ইউপিডিএফ উচ্ছেদে সরকারী বিভিন্ন মহলের সমর্থন আদায় করতে চাইছেন।

সূত্র জানিয়েছে, সন্তু লারমার এ মনোভাব নিয়ে উষাতন তালুকদার এরই মধ্যে সরকারের শীর্ষমহলসহ নানা পর্যায়ে কথা বলে তাদের সমর্থন আদায়ে সক্ষম হয়েছেন। খাগড়াছড়ির নিয়ন্ত্রণ পুণরুদ্ধারে জেএসএস সামরিক শক্তির পাশাপাশি পাহাড়ী জনগোষ্ঠীর জনসমর্থন অর্জন করতে চাইছে। বিশেষ করে ইউপিডিএফ’র সমর্থক গোষ্ঠীকে নিজেদের দিকে ভাগিয়ে নিতে এরই মধ্যে তৎপরতা শুরু করেছে। এ লক্ষ্যে সবিতা চাকমা, বাসনা চাকমাসহ সাম্প্রতিক ঘটনাগুলোকে পূঁজি করে পাহাড়ী-বাঙালী বিভেদ সৃষ্টির মাধ্যমে সৃষ্ট আন্দোলনে নেতৃত্ব দিয়ে খাগড়াছড়িতে নিজেদের ইমেজ ও সমর্থন সৃষ্টি করতে চাইছে। ফলে সাম্প্রতিক সহিংসতা সামনের দিনগুলোতে আরো বাড়বে বলে মনে করছে সংশ্লিষ্ট মহল।

এদিকে জেএসএস ও ইউপিডিএফ’র ক্ষমতা দখলের লড়াইয়ের মঞ্চে পর্দার অন্তরাল থেকে একটি মহল সুদুরপ্রসারী লক্ষ্য নিয়ে কলকাঠি নাড়ছে বলে জানা গেছে। তারা নীতিহীন লোভী কিছু বাঙালীকে টোপ হিসাবে ব্যবহার করে স্বার্থ সিদ্ধি করতে পারে বলে সূত্রের ধারণা। ফলে সরকারকে অতি সতর্কতার সাথে পরিস্থিতি বিবেচনা করে বাস্তবসম্মত অথচ কঠোর পদক্ষেপ নেয়ার বিষয়টি বিবেচনা করার অনুরোধ জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট মহল।  

 

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *