চকরিয়ায় ৮০ শতক  জমির  মরিচ ও টমেটো ক্ষেত গুড়িয়ে দিয়েছে দূর্বৃত্তরা: অসহায় কৃষকের ৫ লক্ষাধিক টাকার ক্ষতি


চকরিয়া প্রতিনিধি:

কক্সবাজারের চকরিয়ায় এক অসহায় কৃষকের পূর্বশত্রুতার জেরে চলতি মৌসুমে উৎপাদিত ৮০শতক জমির মরিচ ও টমেটো ক্ষেত গুড়িয়ে দিয়েছে একদল দূর্বৃত্ত।এ ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্থ কৃষক উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণে ও ক্ষেতের ক্ষতিপূরণসহ শাস্তির দাবি জানিয়ে ১৫ অক্টোবর রবিবার বিকেলে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন।

গত ১৩ অক্টোবর রাতে উপজেলার কোনাখালী ইউনিয়নের ৩নম্বর ওয়ার্ডের মধ্যম কোনাখালী এলাকায় পাষবিক এঘটনা ঘটে। ভুক্তভোগী ও ক্ষতিগ্রস্ত কৃষক এনিয়ে মামলার প্রস্তুতি নিয়েছেন বলে জানান।

ঘটনার পরের দিন সকালে স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান, ইউপি সদস্য ও ইউনিয়নে দায়িত্বরত উপসহকারি কৃষি কর্মকর্তা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে ক্ষেতের ক্ষয়ক্ষতির বিবরণসহ ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন।

অভিযোগ সুত্রে জানা গেছে, কোনাখালী ইউনিয়নের ৩নম্বর ওয়ার্ডের মধ্যম কোনাখালী এলাকার হাজ্বী ছৈয়দ আহমদের পুত্র নুরুল আবছার চলতি মৌসুমে তার পৈত্রিক ৮০ শতক (দুই কানি) জমিতে মরিচ ও টমেটোর চাষাবাদ করেন।

ক্ষেত থেকে ফলন উৎপাদন করে বাজারজাত করার পূর্বে পূর্বশত্রুতার জের ধরে একই ওয়ার্ডের মধ্যম কোনাখালী খাতুর বাপের পাড়া এলাকার মেহের আলীর পুত্র মনজুর আলম প্রকাশ ফজুল হক চোরা, আবুল কাসেমের পুত্র মিনহাজ উদ্দিন, মৃত মো. নাছিমের পুত্র আবুল হাসেম ও আবুল কালামেরর পুত্র আবু ছৈয়দসহ ১০/১৫ জনের একদল দূর্বৃত্ত গত ১৩ অক্টোবর রাতে মরিচ ও টমেটো ক্ষেতে ঢুকে ব্যাপকভাবে তান্ডব চালিয়ে গাছ উপড়ে ফেলে।

এসব দূর্বৃত্তরা ৮০শতক চাষাবাদী ক্ষেতের মরিচ ও টমেটো গাছের গোড়া সম্পূর্ণরূপে গুড়িয়ে দিয়ে অন্তত ৫ লক্ষাধিক টাকার ক্ষতি সাধন করেছে।

ক্ষতিগ্রস্থ ও ভোক্তভোগী কৃষক নুরুল আবছার বলেন, জমি ও পূর্বশত্রুতার জের ধরে এলাকায় কতিপয় চিহ্নিত ভুমিদস্যুরা রাতের আধাঁরে আমার চাষাবাদী জমির মরিচ ও টমেটো ক্ষেতে তান্ডব চালিয়ে ৮০শতক জমির ফলন গুড়িয়ে নষ্ট করে দেয়।এতে আমার কম করে হলেও ৫লক্ষাধিক টাকার ক্ষতিসাধন হয়েছে।

স্থানীয় বিভিন্ন এনজিও সংস্থা থেকে ঋন নিয়ে এ সব ক্ষেতের চাষাবাদ করেন বলে তিনি আরও জানান। ক্ষতিগ্রস্থ  এই কৃষকের বর্তমানে এনজিওতে বহু টাকা দেনা রয়েছে বলে জানিয়েছেন। তিনি এ ঘটনার সুষ্ঠ তদন্তপূর্বক ও ক্ষতিপূরণসহ শাস্তির দাবি জানিয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. সাহেদুল ইসলামের কাছে লিখিত অভিযোগও দায়ের করেন।

এ ব্যাপারে চকরিয়া থানার পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) মিজানুর রহমানের কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, টমেটো ও মরিচ ক্ষেত গুড়িয়ে দেওয়ার বিষয়ে থানায় কেউ লিখিত অভিযোগ করেনি। অভিযোগ পেলে তদন্তপূর্বক আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে তিনি জানান।

এ বিষয়ে চকরিয়া উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ মো. আতিক উল্লাহর কাছে জানতে চাইলে তিনি  বলেন, মরিচ ও টমেটো ক্ষেত নষ্ট করে দেওয়ার খবর পেয়ে উপ-সহকারি কৃষি কর্মকর্তাকে ঘটনাস্থলে পাঠানো হয়েছে এবং পরবর্তী আইনী ব্যবস্থা গ্রহণের বিষয়ে ভুক্তভোগীদের পরামর্শ দেয়া হয়েছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *