চকরিয়ায় বেসরকারি হাসপাতালে সনদ বিহীন এমবিবিএস


 

চকরিয়া প্রতিনিধি:

কক্সবাজারের চকরিয়ায় উপজেলার মালুমঘাট মা-মনি বেসরকারি  হাসপাতালে  ডা. দুলালী মন্ডল নামে আরএমও মহিলা রোগীদের চেকআপ, ডেলিভারিসহ সকল চিকিৎসা কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে। তার প্রচারণা ব্যানারে নামের পাশে উল্লেখ রয়েছে এমবিবিএস (সিইউ) সিএমইউ। এ হাসপাতালে ওই ডাক্তারের বিরুদ্ধে প্রতিনিয়ত রোগীদের গলাকাটা বানিজ্যের অভিযোগ তুলেছে ভুক্তভোগীরা।

সরেজমিনে দেখাগেছে, হাসপাতালে যাচাই করে ডাক্তার ও কর্তৃপক্ষের কাছে অভিযুক্ত ডাক্তারের বৈধ কাগজপত্র দেখতে চাইলে  তারা কোন ধরণের সনদপত্র দেখাতে পারেননি। অভিযুক্ত ওই মহিলা চিকিৎসক দুলালী মন্ডল নিজেকে ভূয়া নয় বলেও দাবি করেন। তিনি বলেন, এমবিবিএস পাশ করার পর তার সনদপত্র এখনো উত্তোলন করেনি। তিনি সনদপত্র উত্তোলনের জন্য ফি জমা দেয়া হয়েছে বলে জানিয়েছে।আগামী দু’একদিনের মধ্যে তার বৈধ কাগজপত্র নিয়ে আসবেন বলেও সাংবাদিকদের জানান।

স্থানীয়রা জানায়, ডুলাহাজারাস্থ মালুমঘাট চা বাগান সড়কে প্রতিষ্ঠানটি নির্মাণের পর থেকে বিভিন্ন হাসপাতাল ও চিকিৎসকরা রোগীদের পরীক্ষা-নিরিক্ষার জন্য এখানে পাঠানো হতো। পরে নামেমাত্র ডাক্তার দিয়ে রোগী দেখা শুরু করে দেয় হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ।এতে রোগীদের সন্দেহ সৃষ্টি হলে কয়েকজন ভুক্তভোগী মা-মনি নামধারী এ হাসপাতালে গলাকাটা বানিজ্যের অভিযোগ তুলে। অদূরবর্তী পার্বত্য এলাকার লোকজনসহ স্থানীয় মহিলাদের চেকআপ, ডেলিভারীসহ অন্যান্য চিকিৎসা নিতে গেলে চিকিৎসা শেষে ফেরার পথে হাসপাতাল থেকে মোটা অংকের একটি বিল স্লিপ হাতে ধরিয়ে দেয়। এছাড়াও পরীক্ষা-নিরিক্ষায় ভুল রিপোর্ট প্রদানের অভিযোগ রয়েছে হাসপাতালের বিরুদ্ধে।

দেখাগেছে, হাসপাতালটিতে ১০-১৫টি রোগীর সিট থাকলেও চিকিৎসক লক্ষ্য করা গেছে হাসপাতাল এমডি নিকোলাস ব্যতিত মাত্র একজন চিকিৎসক। এ নিয়ে  সচেতন মহলের অভিমত, ভিএমডিসির অনুমোদন বিহীন ডাক্তার, যত্রতত্র প্রাইভেট হাসপাতাল ও ক্লিনিকের গলাকাটা বানিজ্যিক ফাঁদে প্রতারিত হচ্ছে সাধারণ লোকজন। তাদের দাবি নামমাত্র ডাক্তার দেখিয়ে মানুষের সাথে এসব প্রতারণা ও অনিয়মের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া দ্রুত প্রশাসনের আবশ্যক। না হলে এদেশের সাধারণ জনগোষ্ঠী এ চিকিৎসা খাতের উপর আস্থা হারিয়ে ফেলবে।

মালুমঘাট মা-মনি হাসপাতালের এমডি ডা. নিকোলাস হালদার কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, প্রথমে অস্বীকার করলেও পরে ডা. দুলালীর কোন প্রকার সনদপত্র না থাকার বিষয়টি তিনি স্বীকার করেন। তিনি জানান, আগামী এক সপ্তাহের মধ্যে ডাক্তার দুলালীর এমবিবিএস ও ভিএমডিসি’র সনদসহ সকল যাবতীয় কাগজপত্র জমা দিতে বলা হয়েছে বলে তিনি জানান।

এ ব্যপারে চকরিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট  নূরুদ্দীন মুহাম্মদ শিবলী নোমান বলেন, সন্দপত্র বিহীন চিকিৎসা কার্যক্রম চালানোর বিষয়টি আমি এখন অবগত হয়েছি।এ বিষয়ে  খতিয়ে দেখে ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও জানিয়েছেন।

কক্সবাজার সিভিল সার্জন ডা. আবদুস সালাম বলেন, ভূয়া ডাক্তার দিয়ে হাসপাতাল চালানো ব্যাপারে ছাড় দেওয়া হবে না। অভিযোগ পেলে তাৎক্ষণিক ওই ডাক্তারের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। কোন চিকিৎসক ভূয়া প্রমাণিত হলে তাকে আইনের আওতায় আনা হবে বলেও তিনি জানান।

নিউজটি চকরিয়া বিভাগে প্রকাশ করা হয়েছে

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *