চকরিয়ায় বন্দুকযুদ্ধে ‘দা-বাহিনী’র প্রধান নিহত


চকরিয়া প্রতিনিধি:

কক্সবাজারের চকরিয়ায় দু’সন্ত্রাসী বাহিনীর মধ্যে অাধিপাত্য বিস্তার নিয়ে বন্দুকযুদ্ধে ‘দা-বাহিনী’র শীর্ষ সন্ত্রাসী, ভূমিদস্যু ও ইয়াবা ব্যবসায়ী শাহজাহান (৩০) নিহত হয়েছে।

শনিবার (২ জুন) রাত দেড়টার দিকে উপজেলার বরইতলীস্থ ৫ নম্বর ওয়ার্ডের মধ্যম বরইতলী বানিয়ারছড়া সংলগ্ন পাহাড়ের পাদদেশ এলাকায় আধিপত্য বিস্তার নিয়ে এ বন্দুকযুদ্ধের ঘটনা ঘটে। নিহত সন্ত্রাসী শাহজাহান ওই ইউনিয়নের মধ্যম বানিয়ারছড়া এলাকার মৃত ফরিদুল আলমের পুত্র। নিহতের বিরুদ্ধে চকরিয়া থানায় ধর্ষণ, হত্যা, অপহরণ,
চাঁদাবাজি, ছিনতাইসহ এক ডজনের অধিক মামলা রয়েছে বলে সূত্র জানায়।

স্থানীয় এলাকাবাসী জানান, উপজেলার বরইতলী, হারবাং ও পার্শ্ববর্তী লামার ফাইতং এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে এলাকার নিরীহ মানুষকে জিম্মি করে নানা ধরণের অপরাধ কর্মকাণ্ড চালিয়ে আসছিল নিহত সন্ত্রাসী শাহজাহান। সে এলাকায় তার নেতৃত্বে গড়ে তুলেছে ‘দা-বাহিনী’ নামের একটি সন্ত্রাসী গ্রুপ।

জানা গেছে, এলাকায় সে প্রতিনিয়ত বেপরোয়াভাবে চাঁদাবাজি, উঠতি বয়সের মেয়েকে তুলে নিয়ে ধর্ষণসহ নানা জঘন্য ধরণের অপরাধ কর্মকাণ্ডে লিপ্ত ছিল। এ ধরণের অপরাধের পাশাপাশি জায়গা-জবর ও মাদক ব্যবসার সাথেও সম্পৃক্ত ছিল সন্ত্রাসী শাহজাহান। তার অত্যাচারে অতিষ্ট হয়ে উঠেছিল বরইতলী, হারবাং ও ফাইতং ইউনিয়নের জনগোষ্ঠী।

শনিবার রাতে দুই সন্ত্রাসী বাহিনীর মধ্যে বন্দুকযুদ্ধে ‘দা’ বাহিনী প্রধান সন্ত্রাসী শাহজাহান নিহত হওয়ার খবর ছড়িয়ে পড়লে এলাকায় সাধারণ মানুষের মাঝে আনন্দ দেখা দেয়।

এ ব্যাপারে চকরিয়া থানার ওসি মো. বখতিয়ার উদ্দিন চৌধুরীর কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, শনিবার রাত দেড়টার দিকে দু’সন্ত্রাসী গ্রুপের মধ্যে আধিপত্য বিস্তার নিয়ে বন্দুকযুদ্ধ চলছে -এ খবর পেয়ে থানা পুলিশের একটি টিম ঘটনাস্থলে পৌঁছলে সন্ত্রাসীরা পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে পালিয়ে যায়।

ওই সময় পুলিশ সন্ত্রাসীদের বন্দুকযুদ্ধে গুলিবিদ্ধ অবস্থায় নিহত শাহজাহানের লাশ মাটিতে পড়ে থাকতে দেখে স্থানীয় লোকজন ও পুলিশের সহয়তায় গুলিবিদ্ধ শাহজাহানকে ঘটনাস্থল থেকে চকরিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে দেশীয় তৈরি একটি এলজি, ২ রাউণ্ড তাজা গুলি ও ৪০০ পিস ইয়াবা উদ্ধার করে। লাশ ময়নাতদন্তের জন্য কক্সবাজার জেলা সদর হাসপাতালে মর্গে পাঠানো হয়।

তিনি আরও বলেন, সন্ত্রাসী শাহজাহানের বিরুদ্ধে থানায় ধর্ষণ, হত্যা, অপহরণ, চাঁদাবাজি, বনদস্যুতাসহ ১২টির অধিক মামলা রয়েছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *