চকরিয়ায় বনাঞ্চল দখলে স্কেভেটর দিয়ে কাটা হচ্ছে পাহাড়


chakaria pic 17-5-2017
চকরিয়া প্রতিনিধি:
চট্টগ্রাম দক্ষিণ বনবিভাগের চুনতি রেঞ্জের আওতাধীন চকরিয়া উপজেলার বরইতলী ইউনিয়নের বানিয়ারছড়া বনবিটের বিপুল পরিমাণ বনভূমি জবর দখলে নিয়ে প্রকাশ্যে দিবালোকে স্কেভেটর গাড়ী দিয়ে নির্বিচারে কাটা হচ্ছে পাহাড়। সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের নাকের ডগায় এসব অপরাধ করে চললেও পালন করছে নিবর দর্শকের ভূমিকা। বনকর্মকর্তাদের দাবী, বনভূমির পাশে দখলবাজদের খতিয়ানি জমিও রয়েছে। অভিযোগটি উঠেছে এক সময়ের ব্রাক্ষ্মণবাড়িয়া জেলার বাসিন্দা মৃত আবুল কাসেমের পুত্র শফিকুল ইসলাম(৬০) প্রকাশ শফি সওদাগরের বিরুদ্ধে। তিনি বর্তমানে বসবাস করে চকরিয়া পৌরসভা ২নং ওয়ার্ডের হালকাকারা এলাকায়।

স্থানীয়রা জানিয়েছেন, অভিযুক্ত শফিকুল ইসলাম বিগত ৩০বছর পূর্বে ব্রাক্ষ্মণবাড়িয়া জেলা থেকে চকরিয়ায় আসেন। এরপর থেকে বিভিন্নভাবে গড়ে তোলেন অঢৈল সম্পদ।বিগত কয়েক বছর পূর্বে চট্টগ্রাম দক্ষিণ বনবিভাগের চুনতি রেঞ্জের আওতাধীন চকরিয়া উপজেলার বরইতলী ইউনিয়নের বানিয়ারছড়া বনবিটের পশ্চিম পাশে^ বেশ কয়েকজন ব্যক্তি থেকে কিছু পরিমাণে খতিয়ানভূক্ত জমি ক্রয় করেন। এর সুযোগে বনবিভাগের বিপুল পরিমাণ জমি জবর দখলে নিয়ে স্কেভেটর গাড়ী দিয়ে পাহাড় কেটে সমতল ভূমিতে পরিণত করছেন।

স্থানীয় সূত্রে আরো জানান, বানিয়ারছড়া বনবিট এলাকায় বরইতলী মৌজার ৭নং সীটের ১১০২৬, ১১০২২, ১১০২৫ দাগ থেকে জমি ক্রয় করলেও উপরোক্ত দাগ ছাড়া পাশ^বর্তী বনবিভাগের বনভূমি দাগ নং ১১০৩৫,১১০২৩, ১১০২১, ১১০২৪, ১১০২৭ এর প্রায় ৪একর পরিমাণ জমি জবর দখলে নিয়েছেন ওই শফিকুল ইসলাম। এমনকি বনভূমি জবর দখলে নিয়ে স্কেভেটর গাড়ী দিয়ে প্রকাশ্যে দিবালোকে পাহাড় কেটে স্থাপনা নির্মাণ, মৎস্য প্রকল্পসহ বিভিন্ন অবকাঠামো তৈরীতে মেতে উঠেছেন। বর্তমানে দাম্পার ট্রাক নিয়ে বিভিন্ন স্থানে মাটি বিক্রি করে লক্ষ লক্ষ টাকা হাতিয়ে নিচ্ছেন। কিন্তু সংশ্লিষ্ট বনবিভাগ নিরব ভূমিকা পালন করায় বনভূমি দখল পক্রিয়া আরো বাড়িয়ে দিয়েছেন।

এ প্রসঙ্গে অভিযুক্ত শফিকুল ইসলাম জানিয়েছেন, তিনি বিএস খতিয়ানভূক্ত জমি ক্রয় করে পদ্ধতীসহ স্থাপনা নির্মাণ করছেন। পাহাড় কাটার বিষয়টি সর্ম্পকে বলেন, বৈধ খতিয়ানভূক্ত জমির পাহাড় কাটলে এটি তার একান্ত বিষয়। এমনকি তিনি বনবিভাগের সাথে বুঝাপড়া করেই স্কেভেটর গাড়ী ভাড়ায় এনে কাজ করছেন বলে জানান।

চকরিয়ার বানিয়ারছড়া বিট কর্মকর্তা আবুল কাসেম জানিয়েছেন, পাহাড়কাটা কিংবা সমতল ভূমি ওই স্থানে শফিক ৫ একর জমি দাবী করছে। তন্মধ্যে আমাদের বনভূমি রয়েছে ৩ একর। তা নিয়ে শফিকের সাথে বিরোধ চলছে, আগামী সোমবারের মধ্যে বিষয়টির সমাধানকল্পে চট্টগ্রাম বিভাগীয় বনকর্মকর্তা (ডিএফও) অফিসে বৈঠক হবে। উভয়পক্ষের বৈঠকের পর গাড়ী জব্দসহ পাহাড় বন্ধ ও বনভূমি থেকে জমি থেকে উচ্ছেদ করা হবে। এছাড়াও জমি নিয়ে স্থানীয়দের সাথে বিরোধও রয়েছে।

চুনতি রেঞ্জ কর্মকর্তা মিজানুর রহমান জানিয়েছেন, আমাদের বন ভূমির পাশে^ শফিকুল ইসলামের খতিয়ানী জমি রয়েছে। আমাদের বনভূমির সাথে সাংঘর্ষিক না হতে শফিকুল ২০০৯সন থেকে আবেদন করেছেন। এর প্রেক্ষিতে সার্ভেয়ারী দিয়ে জমি পরিমাপ করা হয়েছে। তা খুব শীঘ্রই সমাধান হবে। পরিমাপে অভিযুক্ত শফিক বনভূমি দখল করে থাকলে অবশ্যই ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

এব্যাপারে পরিবেশ অধিদপ্তরের কক্সবাজারের পরিচালক সর্দার শরীফুল ইসলাম জানিয়েছেন, পাহাড় কাটার বিষয়টি নিয়ে খুব শীঘ্রই সরে জমিনে ঘটনাস্থলে গিয়ে সত্যতা পেলে পরিবেশ আইনে মামলা দায়েরসহ প্রয়োজনীয় আইনী ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *