চকরিয়ায় ইয়াবা ব্যবসায়ীরা বহাল তবিয়তে: গ্রেফতার এড়াতে আত্মগোপন


চকরিয়া প্রতিনিধি:

সরকার মাদকের বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স ঘোষণা করেছেন। সরকারের ঘোষিত এই সিদ্ধান্তের আলোকে সারা দেশের ন্যায় মাদক বিরোধী অভিযানে নামে র‍্যাব, পুলিশসহ সংশ্লিষ্ট প্রশাসন।

মাদক দমনে কক্সবাজারের চকরিয়া থানা পুলিশ একের পর এক অভিযান অব্যাহত রাখায় অনেক ইয়াবা কারবারি ও বিক্রেতারা গা ঢাকা দিয়ে ধরা-ছোঁয়ার বাইরে রয়ে গেছে। বর্তমান সময়ে তারা অনেকেই ভিন্ন কৌশল অবলম্বন করে নির্বিঘ্নে এ ব্যবসা চালিয়ে যাচ্ছে বলে স্থানীয়দের অভিযোগ।

এসব অভিযোগ দীর্ঘ দিনের হলেও রহস্যজনক কারণে তারা এখনও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর হাতে আটক হয়নি।প্রকৃত মূল ইয়াবা ব্যবসায়ীদের গ্রেপ্তার করে জিজ্ঞাসাবাদ করলে ইয়াবা চালানের প্রবেশপথ, উৎস এবং বিক্রয়ের বিভিন্ন পয়েন্টের সন্ধান সংক্রান্ত তথ্য পাওয়া সম্ভব হবে। এমনই অভিমত করেছে স্থানীয় সচেতন মহল।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, চকরিয়ার উপকূলীয় বদরখালী, খুটাখালী, ডুলাহাজারা, হারবাং, পহরচাঁদা, সাহারবিল, কোনাখালী, বদরখালী রোডের লালব্রীজ, আঞ্চলিক মহাসড়ক ও পৌরসভা এলাকায় বিভিন্ন পয়েন্ট দিয়ে মরণ নেশা ইয়াবার চালান নিয়ে এসে উপজেলার বিভিন্ন পাড়া মহল্লায় পাচার করছে একটি দুর্দান্ত প্রভাবশালী ইয়াবা কারবারি চক্র।

সম্প্রতি সরকার মাদকের বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণা করলে চকরিয়া থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. বখতিয়ার উদ্দিন চৌধুরীর নেতৃত্বে সাড়াশি অভিযান চালায় পুলিশ। অভিযানে ওসি বখতিয়ার উদ্দিন চৌধুরীর নেতৃত্বে চকরিয়ার আটার ইউনিয়ন ও পৌরসভার নয়টি ওয়ার্ড থেকে অন্তত তিন শতাধিক মাদক বিক্রেতা ও সেবনকারীকে আটক করেছে পুলিশ।

প্রশাসন মাদকের বিরুদ্ধে অভিযান অব্যাহত রাখার সুবাদে উপকূলীয় বদরখালী এলাকার চিহ্নিত ইয়াবা ব্যবসায়ী ও অর্ধ ডজন মামলার আসামী জিয়াবুল ও তার স্ত্রী নিজেদের রক্ষার্থে গা ঢাকা দেয়। ইয়াবা ব্যাবসায়ী জিয়াবুলের মতো জালাল উদ্দিন নামের জনৈক এক যুবক প্রশাসন ও লোকচক্ষুর আড়ালে দিব্যি চালিয়ে যাচ্ছে ইয়াবা ব্যবসা। নিজেকে স্থানীয়ভাবে বড় মাপের নেতা পরিচয় দিয়ে সরকারদলীয় নেতাকর্মীদের সঙ্গে সখ্যতা গড়ে তুলে রমরমা এ ইয়াবা ব্যবসা চালিয়ে যাচ্ছে বলে স্থানীয়দের অভিযোগ।

অভিযুক্ত ইয়াবা কারবারি জালাল উদ্দিন চকরিয়া উপজেলার ফাঁসিয়াখালীস্থ ২নম্বর ওয়ার্ডের দিগরপানখালী এলাকার শামসুল হুদা ছেলে এবং রাজনৈতিকভাবে বিএনপির সহযোগি সংগঠন ফাসিয়াখালী ইউনিয়ন শ্রমিকদলের সদস্য সচিব (সাধারণ সম্পাদক) পদে দায়িত্ব পালন করছেন। তার ইয়াবা ব্যবসা চালানোর মূল টার্নিং পয়েন্ট হচ্ছে চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়ক সংলগ্ন উপজেলার ফাসিয়াখালী হাসেরদীঘি ষ্টেশনস্থ তার মালিকানাধীন ব্যবসা প্রতিষ্ঠান টায়ারের দোকান।

মূলত: প্রশাসন ও লোকচক্ষুকে ফাঁকি দিয়ে সেখান থেকেই সকল ইয়াবা চালান বিভিন্ন কৌশলে সরবরাহ দিয়ে থাকে। ইয়াবা ব্যবসার মূলহোতা জালাল হলেও তার সহযোগি হিসেবে ইয়াবা চালান পাচারে ব্যবহার করেছে তার আপন বড়ভাই আবুল হাসেম (প্রকাশ টুটটেং হাসেম) কে। এ দু’ভাইয়ের সিন্ডিকেট ইয়াবা বাণিজ্য নিয়ে এলাকার সাধারণ মানুষের মধ্যে নানা কৌতুহল সৃষ্টি হয়। বিএনপির রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত থাকলেও সরকারদলীয় রাজনৈতিক নেতার সাথে সখ্যতা গড়ে তুলে তাদের মাধ্যমে প্রভাব বিস্তার করে এ অপরাধ কর্মকাণ্ড দিব্যি চালিয়ে যাচ্ছে।

থানা সূত্রে জানায়, ইয়াবা ব্যবসায়ী জালাল উদ্দিনের বড় ভাই আবুল হাসেম ইয়াবা ট্যাবলেটের চালান নিয়ে ঢাকায় গেলে বিগত ২০১৫ সনের ৬ সেপ্টেম্বর ডিএমপি’র (ঢাকা) শাহজাহানপুর থানায় ৪০০০ (চার হাজার) পিস ইয়াবা ট্যাবলেটসহ পুলিশের হাতে গ্রেফতার হন আবুল হাসেম। ওই সময় শাহজাহানপুর থানায় মাদকদ্রব্য আইনের ১৯৯০ সনের ১৯(১)এর ৯ (খ) ধারায় মামলা হয় ইয়াবা ব্যবসায়ী ধৃত আবুল হাসেমের বিরুদ্ধে। ওই মামলায় দীর্ঘ ১৬ মাস কারাভোগ থাকার পর জামিনে বের হয়ে ফের তার এলাকায় এসে প্রশাসনের চোখ ফাঁকি দিয়ে ছোট ভাই জালালের নিয়ন্ত্রিত ইয়াবা ব্যবসা দিব্যি এই চালিয়ে যাচ্ছে।

এনিয়ে স্থানীয় এলাকাবাসী ও সচতেন মহল চলমান মাদক বিরোধী অভিযানে এলাকায় চিহ্নিত মাদক কারবারিদের আইনের আওতায় নিয়ে আসার জন্য প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।

চকরিয়া থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. বখতিয়ার উদ্দিন চৌধুরী জানিয়েছেন, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের তালিকাভুক্ত ইয়াবা ব্যবসায়ীর পাশাপাশি স্থানীয়ভাবে চিহ্নিত ইয়াবা ব্যবসায়ীর একটি তালিকা তৈরীর প্রক্রিয়া চলছে। অচিরেই তালিকাভুক্তসহ চিহ্নিত ইয়াবা ও মাদক ব্যবসায়ীদের গ্রেফতার করে যথাযথ আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করার উদ্যোগ নেয়া হবে বলে তিনি জানান।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *