চকরিয়ায় আদালতের নির্দেশে কবর খুঁড়ে লাশ উত্তোলন


DSC00383 copy

চকরিয়া প্রতিনিধি:

কক্সবাজারের চকরিয়ার বদরখালী ইউনিয়নে ব্যবসার বিরোধের জের ধরে রহস্যজনকভাবে খুন হওয়া মাতারবাড়ির পাড়ার চিংড়িঘের পরিচালক রফিক আহমদের লাশ কবর খুঁড়ে উত্তোলন করা হয়েছে। রবিবার দুপুর সাড়ের বারোটার দিকে কবর খুঁড়ে লাশ তোলা হয়। আদালতের নির্দেশে এবং নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটর উপস্থিতিতে লাশ উত্তোলনের পর ময়নাতদন্তের জন্য কক্সবাজার সদর হাসপাতাল মর্গে প্রেরণ করা হয়েছে।

জানা যায়, রফিক আহমদ খুনের ঘটনায় গত ১৯ আগষ্ট থানায় মামলা করেন বড়ভাই মাষ্টার ওয়াইজ উদ্দিন। এরই প্রেক্ষিতে ময়নাতদন্তের জন্য লাশ উত্তোলন করতে আদালতে আবেদন করেন মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা মো. মাহবুবুর রহমান। আদালতের নির্দেশনা মোতাবেক রবিবার রফিক আহমদের লাশ উত্তোলন করা হয়েছে দাফনের একসপ্তাহ পর। এর আগে ১৭ আগষ্ট দিবাগত রাতে বদরখালী তিন নম্বর ব্লকের ‘বড় লবণ মাঠ চিংড়ি প্রকল্পে’ পরিচালক ও অংশীদার রফিক আহমদ ঘেরের খামার বাড়িতে অবস্থান করেন।

এ সময় খামার বাড়িতে থাকা মাতারবাড়ি পাড়ার কামাল উদ্দিনের স্ত্রী আজবাহার বেগম ও সাতডালিয়া পাড়ার নজির আহমদের ছেলে প্রকল্পের সহকারী পরিচালক আবদুল আজিজ রাতের খাবারের সঙ্গে চেতনানাশক দ্রব্য খাইয়ে অজ্ঞান করেন রফিক আহমদকে। তিনি উপজেলার বদরখালী ইউনিয়নের দুই নম্বর ব্লকের মাতারবাড়ি পাড়ার মৃত আবু ছৈয়দের পুত্র।

তদন্তাকারী কর্মকর্তা মো. মাহবুবুর রহমান বলেন, আদালতের নির্দেশনা অনুযায়ী আজ (রবিবার) কবর খুঁড়ে লাশ উত্তোলন করা হয়েছে। এ সময় কক্সবাজার জেলা প্রশাসনের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট সি এম ইমরুল কায়েস উপস্থিত ছিলেন। উত্তোলন শেষে ময়নাতদন্তের জন্য লাশ প্রেরণ করা হয়েছে কক্সবাজার সদর হাসপাতাল মর্গে।’

উল্লেখ্য, গত ১৭ আগষ্ট রাতে চিংড়ী ঘের ব্যবসায়ী রফিক উদ্দিনের লাশ পাওয়া যায় তার বাড়ির থেকে দূরবর্তীস্থান চিংড়ী ঘেরে। হৃদক্রিয়া বন্ধ হয়ে মারা গেছে মনে করে পরিবারের লোকজন পরেরদিন তার লাশ দাফন করে ফেলে। পরে হত্যার সাথে জড়িত থাকা স্থানীয় কামাল উদ্দিনের স্ত্রী আজ বাহারের দেওয়া তথ্যে জানতে পারে এটি হৃদক্রিয়া বন্ধ্যে মৃত্যু নয় এটি হত্যাকান্ড। এ ঘটনায় ৪ জনকে আসামী করে মামলা দায়ের করেন তার ভাই এম ওয়াইজ উদ্দিন। এই মামলায় আসামীরা হলেন, মৃত নজির আহম্মদের ছেলে আবদুল আজিজ (৫০), তার ছেলে সাদ্দাম হোসেন, রাসেল (২২) ও কামাল উদ্দিনের স্ত্রী আজ বাহারো। দায়েরকৃত মামলার ২ আসামী আবদুর আজিজ ও আজ বাহারোকে আটক করে পুলিশ। এই মামলার ভিত্তিতে ১১ দিন পর ময়না তদন্তের জন্য রফিক উদ্দিনের লাশ উঠানো হচ্ছে। এ ঘটনার জন্য স্থানীয় চেয়ারম্যানকেও দায়ী করছেন নিহতের পরিবার।

image_pdfimage_print

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *