খাগড়াছড়ির কোরবানীর পশুর বাজার: ক্রেতারা খুশী হলেও বিক্রেতারা হতাশ


বিশেষ প্রতিনিধি, খাগড়াছড়ি:
খাগড়াছড়ি জেলার বিভিন্ন কোরবানীর পশুর হাট বেশ জমে উঠেছে। স্থানীয় চাহিদা মিটিয়ে খাগড়াছড়ির গরু যাচ্ছে চট্টগ্রাম,ফেনীসহ সমতলের বিভিন্ন জেলায়।  গত বছরের তুলনায় এ বছর কোরবানীর পশুর দাম কম বলে দাবী বিক্রেতাদের।  

ক্রেতা বিক্রেতাদের হাক ডাকে খাগড়াছড়ি জেলার ২২টি কোরবানীর হাট এখন সরগরম। জেলার বিভিন্ন প্রত্যন্ত এলাকা থেকে স্থানীয় কৃষক,খামারী এবং ব্যবসায়ীরা গরু নিয়ে আসছেন হাটে। বেচাকেনাও বেশ ভাল বলে জানিয়েছেন বাজারের ইজারাদাররা। কয়েকটি বাজার ঘুরে দেখা গেছে, ক্রেতাদের কাছে এ বছর ছোট ও মাঝারী আকারের গরুর চাহিদাই বেশী । ছোট আকারের গরু ২০ থেকে ২৫ হাজার,মাঝারি আকারের গরু ২৫ থেকে ৩০ হাজার এবং বড় গরু বিক্রি হচ্ছে ৪০ থেকে ৬০ হাজার টাকার মধ্যে।

কৃত্রিম কোন ঔষধ ব্যবহার ছাড়া প্রাকৃতিকভাবে এখানে গরু পালন এবং মোটাতাজা করা হয় বলে সমতল জেলাগুলোতে খাগড়াছড়ির গরুর বাড়তি আকর্ষন রয়েছে। চট্টগ্রামের রাঙ্গুনীয়া থেকে গরু কিনতে আসা আক্তার হোসন,হাটহাজারীর জয়নাল আবেদীন, ফেনীর আলী হোসেন ও মাসুদ  রোগমুক্ত প্রাকৃতিকভাবে লালন পালন করা পছন্দের গরু সহনীয় দামে  কিনতে পেরে খুশী তারা।
সমতলের বাজারগুলোতে ইন্ডিয়ান গরু বেশী ওঠায় পাহাড়ে এবার ব্যাপারীদের উপস্থিতি কম। যার প্রভাব পড়ছে বাজারে। 

গত বছরের তুলনায় এ বছর গরুর দাম কম বলে বেপারীসহ স্থানীয় ক্রেতারা খুশী হলেও হতাশ বিক্রেতারা।  গরু লালন পালনকারী দীঘিনালার সুকম চাকমা, খাগড়াছড়ি সদরের মংসা থোয়াই ও রোকেয়া বেগম  জানান, গরু পালনের খড়,কুড়াসহ অন্যান্য উপকরনের দাম বৃদ্ধি পেলেও কাঙ্খিত দাম না পাওয়ায়  তাদের লোকসানই হচ্ছে। ফলে অনেকে আগামী দিনগুলোতে গরু পালতে আগ্রহ হারাবেন। কৃষক ও খামারীরা তবুও অনেকে অপেক্ষা করছেন শেষ মুহুর্তের লাভের আশায়।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *