কুতুবদিয়ায় মাঠে নতুন লবণ: দাম সস্তা


 

কুতুবদিয়া প্রতিনিধি:

কক্সবাজারের কুতুবদিয়ায় চলতি ২০১৭-১৮ অর্থ বছরে লবণ চাষে মাঠে নতুন লবণ উঠতে শুরু করেছে।

উপজেলার ৬ ইউনিয়নে প্রায় পাঁচ হাজার চাষি লবণ উৎপাদনে মাঠে নেমেছে। গত বছরে উৎপাদিত লবণে প্রায় পুরো মৌসুমে রেকর্ড পরিমাণ দাম পেয়েছে চাষিরা। তবে শেষের দিকে দাম পড়ে যাওয়ায় লবণ বিক্রি বন্ধ রাখে কয়েক হাজার চাষি। মণ প্রতি ৪‘শ টাকাতেও অনেকে বিক্রি করেনি অধিক দামের আশায়। যে কারণে তাদের অন্তত: ৫০ হাজার মণ লবণ মাঠে অবিক্রিত পড়ে থাকে।

লেমশীখালী কাজীর পাড়ার লবণ চাষি মুস্তাফিজুর রহমান বলেন, অধিক দামের আশায় তার ৩০০ মণ পুরনো লবণ মাঠে রয়েছে। তার ৩ একর লবণ মাঠে নতুন লবণ উঠতে শুরু করেছে।পুরনো লবণ প্রতি মণ ৩০০ আর নতুন আড়াই’শ টাকা দাম মাঠ পর্যায়ে। এমন পরিস্থিতির মাঝে বিদেশ থেকে লবণ আমদানি হলে চাষিরা আরো ক্ষতির সম্মুখীন হবেন বলে তিনি জানান।

কৈয়ারবিল মাঝের পাড়া লবণ মাঠের চাষি জানান, গত বছরে লবণের দাম বৃদ্ধি থাকায় অধিক দামে মাঠ লগিয়ত নেয়া হয়েছে। ৪০ শতক(এক কানি) লবণের জমি ৬০ হাজার টাকার বেশিতে লবণ ব্যবসায়ীরা লগিয়ত দিয়েছে। সাথে বেড়েছে শ্রমিকের মজুরি। এক মৌসুমে প্রতিজন মজুরির দাম ৯০ হাজার টাকা। পলিথিন, আহার সব মিলিয়ে খরচ এবার দ্বিগুন। সে হিসেবে মাঠে লবণের দামে চরম ধস। দামের উর্ধ্বগতি না হলে মারাত্বক ক্ষতির মুখে পড়বেন তারা। এমনটি জানান তিনি।

উত্তর ধূরুং বেড়িবাঁধের বাইরে সাগরে পানি থেকে লবণ চাষে নতুন লবণ উঠছে এক সপ্তাহ আগেই। লেমশীখালী চৌমুহনী, মলমচর, কৈয়ারবিল, দক্ষিণ ধুরুং, তাবালের চর প্রভৃতি স্থানে লবণ উঠতে শুরু করেছে। সব মাঠেই লবণের দামে ধস। লবণ ব্যবসায়ীরা দামের প্রকৃত ধরণ বুঝতে না পেরে মাঠে ন্যায্য দাম দিতেও ভয় পাচ্ছে। আবার চাষিরাও কম দামে লবণ ছাড়ছে না দাম বাড়ার আশায়। যে কারণে মাঠে লবণের মজুদ বেড়েই চলেছে।

উত্তর ধুরুং ইউনিয়নের লবণ ব্যবসায়ী মোহাম্মদ হোছাইন, লেমশীখালীর লবণ ব্যবসায়ী আব্দু রহিম জানান, অনেক মাঠে পুরাতন লবণ চাষিরা মজুদ রেখেছে বেশি দামের আশায়। তবে নারায়নগঞ্জ, চট্টগ্রাম, চাঁদপুর, খুলনা প্রভৃতি স্থানের লবণ মিলগুলোতে লবণের দামে ধস থাকায় তারা বেশি দামে লবণ ক্রয় করতে পারছেন না। চলতি মৌসুম শুর হতে না হতেই নতুন লবণ উঠছে প্রতিটি মাঠে।

এ ছাড়া পরিবহণ খরচ, শ্রমিক খরচ বেড়ে যাওয়ায় এবার লবণ উৎপদনে অধিক খরচ পড়বে। আবহাওয়া অনুকুলে থাকলে লবণের উৎপাদনে লক্ষ্যমাত্রা অর্জন সক্ষম হবে। এ ক্ষেত্রে বিদেশি লবণ আমদানি হলে লবণ চাষিরা মারাত্বক ক্ষতির সম্মুখীন হবে বলেও তারা জানান।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *