কুতুপালংয়ে রোহিঙ্গা শরনার্থীর মাঝে ত্রান বিতরণ করলেন চিত্রনায়ক ইলিয়াস কাঞ্চন


 

চকরিয়া প্রতিনিধি:

মিয়ানমার সরকারের ইন্ধনে সেইদেশের সেনাবাহিনী, বিজিপি ও রাখাইন সম্প্রদায়ের নিমর্মতার শিকার হয়ে বাংলাদেশে পালিয়ে আসা রোহিঙ্গা শরনার্থীদের পাশে এসে দাড়িয়েছে ‘নিরাপদ সড়ক চাই ‘(নিসচা) এর কেন্দ্রিয় কমিটির চেয়ারম্যান ঢালিউডের সফল চিত্র নায়ক ইলিয়াস কাঞ্চন। ১৭ সেপ্টম্বর দুপুরে বাংলাদেশ মিয়ানমার সীমান্তের কাছে  উখিয়া উপজেলার কুতুপালং এলাকায় নিরাপদ সড়ক চাই (নিসচা এর উদ্যোগে সংগঠনের চেয়ারম্যান  ইলিয়াস কাঞ্চনের নেতৃত্বে নির্মমতার শিকার রোহিঙ্গাদের মাঝে ৬শ প্যাকেট শুকনো খাবার বিতরন করেন।

এ সময় তাঁর সাথে ত্রাণ বিতরণ অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন নিসচা কেন্দ্রীয় যুগ্ন সাধারণ সম্পাদক মো. গণি মিয়া বাবুল, সাংগঠনিক সম্পাদক এসএম আজাদ হোসেন, নির্বাহী সদস্য মো. কামাল হোসেন, পাক্ষিক মেহেদীর সম্পাদক ও নিসচা কক্সবাজার জেলা সভাপতি মো. জসিম উদ্দীন কিশোর, সাধারণ সম্পাদক তরুন রাজনীতিবিদ খলিল উল্লাহ চৌধুরী, সহ-সভাপতি আমিরুল ইসলাম দুলু, অনুসন্ধান সম্পাদক এমএ মনজুর, যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক ডা. আলমগীর হোসেন, কার্যকরী পরিষদ সদস্য এমআর মাহমুদ, মিজবাউদ্দিন ইবাদ, ইদগাঁও রিপোর্টাস  সোসাইটির সদস্য মো. রফিক উদ্দিন লিটনসহ জেলা ও চকরিয়া উপজেলার নেতৃবৃন্দ।

শুকনো খাবার বিতরনের পাশাপাশি রোহিঙ্গাদের বর্বর নির্যাতনের কাহিনী শোনেন এবং আশ্রিত রোহিঙ্গাদের মুখ থেকে দুর্দশার কথা শুনে নিসচা চেয়ারম্যান ইলিয়াছ কাঞ্চন আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন।

এসময় তিনি আবেগ প্রবণ হয়ে পড়ে বলেন, মিয়ানমারে যা ঘটছে তা মানবাধিকার লঙ্ঘন হিসাবে বর্ণনা করেন এবং বাষ্পরুদ্ধ কন্ঠ বলেন, এঘটনা দেখে চোখের পানি ধরে রাখা যায়না।

তিনি তাদের সমবেদনা জানান। সামান্য সহাযোগিতা নিয়ে আপনাদের পাশে থাকার চেষ্টা করেছে সামাজিক সংগঠন নিরাপদ সড়ক চাই (নিসচা)। আগামীতে আরো ব্যাপকভাবে পাশে থাকার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।

তিনি আরো বলেন, রোহিঙ্গা নির্যাতন বন্ধে ইতোমধ্যে আমরা জাতিসংঘ ও পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কাছে চিঠি পাঠিয়েছি। নিরস্ত্র, নিরাপরাধ রোহিঙ্গা নারী-পুরুষ ও শিশুদের ওপর মায়ানমার সৈনিকদের বর্বর অত্যাচারসহ নৃশংস হত্যাকাণ্ড, অমানবিক, অবিশ্বাস্য ও মানবাধিকারের চরম লংঘন। সহিংসতা ও গণহত্যা বন্ধে মায়ানমারের সামরিক জান্তা ও অং সান সুচির বিরুদ্ধে বিশ্ব নেতৃবৃন্দের ঐক্যবদ্ধ হওয়া জরুরী।

ওআইসি, জাতিসংঘসহ সকল মানবাধিকার সংগঠন এবং বিশ্ব নেতৃবৃন্দকে মায়ানমারের মানবিক বিপর্যয় রোধে ও গণহত্যা বন্ধে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করার জন্যে তিনি আহ্বান জানান।

উল্লেখ্য, রোহিঙ্গা একটি নৃগোষ্ঠীর নাম যাদের শতকরা প্রায় ৯০ ভাগ ইসলাম ও ১০ ভাগ হিন্দু ধর্মাবলম্বী। রোহিঙ্গাদের আদি আবাসস্থল মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্য। শত শত বছর ধরে রাজ্যটিতে বাস করা রোহিঙ্গাদের নাগরিকত্বের স্বীকৃতি না দিয়ে মিয়ানমার সরকার এ জাতিগোষ্ঠীকে নির্মূল করতে ‘ক্লিয়ারেন্স অপারেশন’ চালাচ্ছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *