কক্সবাজার বিমানবন্দরকে কর্নেল কাইছারের নামে নামকরণের দাবি


চকরিয়া প্রতিনিধি:

২০০৯ সালের ২৫ ফেব্রুয়ারি ঢাকার বিডিআর (বিজিবি) দরবার হল পিলখানা ট্টাজেডির ৯বছর পূর্ণ হচ্ছে আজ। নারকীয় এ হত্যাযজ্ঞে সেনাবাহিনীর চৌকষ সদস্যদের সাথে ওইদিন দরবার হলে নিহত হন কক্সবাজারের চকরিয়া পৌরসভার ৪ নম্বর ওয়ার্ডের ভরামুহুরী গ্রামের কৃতি সন্তান শহিদ লে. কর্নেল আবু মুছা মো. আইয়ুব কাইছার। পিলখানা ট্রাজেডির পর থেকে পরিবার সদস্যরা প্রতিবছরই প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও সরকারের কাছে দাবি জানিয়ে আসছেন কক্সবাজার বিমানবন্দরকে কর্নেল আইয়ুব কাইছারের নামে নামকরণের জন্য।

কিন্তু তাদের এ দাবি বারবার উপেক্ষিত হচ্ছে বলে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন আইয়ুব কাইছারের বড়ভাই প্রকৌশলী আলহাজ্ব মো. জহুরুল মওলা ও মেঝভাই মো. এনামুল হক। তারা চকরিয়া উপজেলার স্থানীয় সাংবাদিকদের মাধ্যমে সরকার প্রধানসহ সংশ্লিষ্ট সকলের কাছে পরিবারের পক্ষ থেকে দাবি জানানোর পাশাপাশি নারকীয় ঘটনাকে সেনা হত্যা দিবস এবং নিহত সকল সেনাকর্মকর্তা ও সদস্যদের অবদানের কথা স্মরণ করে বিডিআর দরবার হলকে শহিদ জাদুঘর হিসেবে ঘোষণাও দাবি করেছেন। একই সাথে পিলখানা ট্রাজেডিতে নিহত সকল শহিদের স্ত্রী, পুত্র ও কন্যা এবং পরিবারের অন্য সদস্যদেরও সরকারি ভাবে সহযোগিতা করার জন্য সরকারের হস্তক্ষেপ চেয়েছেন তারা।

এদিকে পিলখানা দিবস উপলক্ষে ২৫ ফেব্রুয়ারি মরহুম আইয়ুব কাইছারের পরিবার তার স্মরণে গ্রামের বাড়িতে ধর্মীয় অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। এদিন সকালে বাড়িতে খতমে কোরান, মিলাদ মাহফিল, দুঃস্থদের মাঝে খাবার বিতরণ, বিকেলে সামাজিক মসজিদের দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত হবে।

লে. কর্নেল আইয়ুব কাইছারের ভাই মো. এনামুল হক বলেন, তৎকালিন সেনা প্রধান মঈন উ আহমদের দূরদর্শীতার অভাবে বিডিআর বিদ্রোহে বাংলাদেশের গর্ব ৫৮জন চৌকষ উর্ধ্বতন সেনা কর্মকর্তাসহ ৬০জনকে অকালে প্রাণ দিতে হয়েছে। তিনি অভিযোগ করেছেন, এ ঘটনার পর ৯বছর সময় পেরিয়ে গেলেও স্ত্রী, সন্তান ছাড়া পরিবারের অন্য সদস্যরা সরকারের কোন ধরণের ন্যূনতম সুযোগ-সুবিধা পায়নি।

জানা গেছে, লে. কর্নেল আবু মুছা মো. আইয়ুব কাইছারের জন্ম কক্সবাজার জেলার চকরিয়া পৌরসভার ৪নম্বর ওয়ার্ডের ভরামুহুরী এলাকায় সম্ভ্রান্ত মুসলিম পরিবারে। ওই গ্রামের মরহুম মাওলানা আবদুল খালেকের ৮ ছেলে-মেয়েদের মধ্যে তিনি ছিলেন সর্বকনিষ্ঠ। ১৯৬২ সালের ১৬ ডিসেম্বর তার জন্ম। লেখাপড়া শেষে ১৯৮৩ সালের ১০ জুন তিনি বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর ইঞ্জিনিয়ার্সকোরে যোগদান করেন। স্বীয় পেশায় অসাধারণ কর্মদক্ষতার কারনে মাত্র ৬বছরে তিনি মেজর পদে পদোন্নতি পান। ২০০৩ সালে তিনি লে. কর্নেল পদে অভিষিক্ত হন। চাকুরী জীবনে তিনি শান্তি মিশনে কুয়েত, মালয়েশিয়া, সৌদিআরব, সিঙ্গাপুর, শ্রীলংকা ও থাইল্যান্ডসহ বিভিন্ন রাষ্ট্রে ছিলেন। সর্বশেষ ২০০৯ সালে তিনি বিডিআর সদর দপ্তর পিলখানায় রক্ষানাবেক্ষন ও নির্মাণ শাখায় (একিউএমজি) পদে কর্মরত ছিলেন।

পারিবারিক সুত্র জানায়, বর্তমানে শহিদ লে. কর্নেল আইয়ুব কাইছারের স্ত্রী মুশরাত জাহান পিনু তাদের দুই মেয়ে কারিশা মুশরাত ও জাফারিয়া কাইছারকে নিয়ে ঢাকায় সরকারি ভাবে বরাদ্ধপ্রাপ্ত বাড়িতে বসবাস করে আসছেন।

লে. কর্নেল আইয়ুব কাইছারের বড় ভাই প্রকৌশলী জহুরুল মাওলা বলেন, আমরা পরিবারের পক্ষ থেকে ঘটনার পর কর্ণেল আইয়ুব কাইছারের নামে কক্সবাজার বিমানবন্দরকে নামকরণের দাবি জানিয়ে আসছি। পাশাপাশি চকরিয়া উপজেলা ও পৌরসভা প্রশাসনের কাছে দাবি জানাচ্ছি আইয়ুব কাইছারের স্মৃতি রক্ষার্থে তার নামে পৌরসভার ৪নম্বর ওয়ার্ডের সবুজবাগ-থানা সেন্টার সড়কটি নামকরণ করে সহসা প্রতিবন্ধকতামুক্ত করার প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য।

তিনি বলেন, সড়কটি চালু করা গেলে পৌরসভার কয়েক হাজার বাসিন্দা চলাচলে যেমন সুফল পাবে, তেমনকি আইয়ুব কাইছারের একটি স্মৃতি অন্তত পক্ষে জন্মভূমিতে প্রতিষ্ঠা পাবে। এ জন্য সংশ্লিষ্টদের ইতিবাচক ভূমিকা প্রত্যাশা করেন পরিবার সদস্যরা।

চকরিয়া পৌরসভার মেয়র ও উপজেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সম্পাদক আলমগীর চৌধুরী বলেন, লে. কর্নেল আইয়ুব কাইছারের মতো একজন বড় মাপের মানুষের স্মৃতি অবশ্যই নিজের জন্মভূমিতে থাকা দরকার। সবুজবাগ-থানা সেন্টার সড়কটি প্রতিবন্ধকতা মুক্ত করতে উদ্যোগ নেবো। তারপর সড়কটি তার নামে নামকরণ করবো।

মেয়র বলেন, পরিবারের দাবি নয়, পৌরসভার একটি সৃজনশীল কাজ হিসেবে আমি সেই কাজটি করবো।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *