উত্তেজনাকর পরিস্থিতি, সীমান্তে অস্ত্র উঁচিয়ে হুমকি দিচ্ছে মিয়ানমার সেনারা


পার্বত্যনিউজ ডেস্ক:

মিয়ানমার থেকে পালিয়ে এসে দুই মাস ধরে বান্দরবানের নাইক্ষ্যংছড়ির তমব্রু সীমান্তের শূন্য রেখায় আশ্রয় নিয়ে আছে ১ হাজার ৩শ’ ৭৪টি রোহিঙ্গা পরিবার। সেখানেও তাদের আতংক যেন পিছুই ছাড়ছে না। সীমান্তে প্রতিনিয়ত টহল দিতে আসা মিয়ানমারের সেনারা তাদের অস্ত্র উঁচিয়ে হুমকি দিচ্ছে। স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরা বলছেন, শূন্যরেখা থেকে এসব রোহিঙ্গাদের দ্রুত সরিয়ে না নিলে সীমান্তে উত্তেজনাকর পরিস্থিতির আশঙ্কা রয়েছে। বিষয়টি স্বীকার করে দ্রুত তাদের ক্যাম্পে সরিয়ে আনা হবে বলে জানিয়েছে বিজিবি।

অন্য সব রোহিঙ্গাদের মতো তারা দেশহীন। তবে মিয়ানমার থেকে পালিয়ে আশা অন্য রোহিঙ্গারা উখিয়া টেকনাফ একটু নিরাপদ আশ্রয় পেলেও এসব রোহিঙ্গা চরম অনিশ্চয়তার মধ্যে গত দুই মাস ধরে বান্দবানের নাইক্ষ্যংছড়ির তুমরু সীমান্তে জিরো পয়েন্টে আশ্রয় নিয়েছে ১৩’শ ৭৪ টি রোহিঙ্গা পরিবার । মিয়ানমারে সৈন্যরা প্রতিদিন জিরো পয়েন্টে ঘেরে টহল দেওয়ার সময় তারা অস্ত্র উঁচিয়ে তাদেরকে নানা ধরনের ভয়-ভীতি দেখাচ্ছে।

জিরো পয়েন্টে আশ্রয় নেওয়া এক রোহিঙ্গারা জানান, বাচ্চা নিয়ে কোন রকমের বেঁচে আছি। প্রতিরাতে সীমান্তে ঘেঁষে মিয়ানমার বাহিনী টহল দেয়-গুলি করে এতে আমাদের খুব ভয় লাগে। দুই মাস ধরে জিরো পয়েন্টে কষ্টে আছি।ক্যাম্পে যেতে আমাদের আপত্তি নেই।

সীমান্ত দিয়ে পালিয়ে আশা রোহিঙ্গাদের সরকার নির্ধারিত ক্যাম্পে নেওয়া হলেও তুমুরু সীমান্তে জিরো পয়েন্টে থাকা রোহিঙ্গাদের ব্যাপারে প্রশাসন কোন সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়নি। রোহিঙ্গাদের কারণে সীমান্তে উত্তেজনা হতে পারে আশঙ্কা করছেন স্থানীয়রা।

বান্দরবানের ৩ নং ঘুমঘুম ইউনিয়ন পরিষদের ( ইউপি) চেয়ারম্যান একেএম জাহাঙ্গীর আলম বলন, ‘সরকারের কাছে আমাদের অনুরোধ যত দ্রুত সম্ভব তাদেরকে নির্ধারিত ক্যাম্পে যেন নেওয়া হয়। ‘

কক্সবাজারের বিজিবি ৩৪-ব্যাটালিয়ন এর মেজর ইকবাল আহমেদ বলেন, তাদেরকে কেন্দ্র করে সীমান্তে বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটতে পারে। এজন্য আমরা তাদেরকে অন্যত্র সরিয়ে নেওয়া কাজ চলছে। এছাড়াও ওই এলাকার বাসিন্দার উপর আমাদের বিশেষ নজর রয়েছে। তমুরু সীমান্তে অংশ নেওয়া প্রায় দশ হাজার রোহিঙ্গাদের চিকিৎসা সেবা মানবিক সহযোগিতা দিচ্ছে স্থানীয় প্রশাসন।

 

সূত্র: DhakaNewsLive

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *