রাঙামাটিতে ইউপিডিএফের দু’গ্রুপে গুলিবিনিময়: সংঘর্ষে গুলিবিদ্ধ ১ অপহৃত-২ সড়ক অবরোধ


নিজস্ব প্রতিনিধি:

রাঙামাটিতে ইউনাইটেড পিপলস ডেমোক্রেটিক ফ্রন্ট (ইউপিডিএফ) দুই গ্রুপের সংর্ঘষে একজন গুলিবিদ্ধ হয়েছে।

এসময় হিল উইমেন্স ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক মন্টি চাকমা ও কেন্দ্রীয় সদস্য দয়াসোনা চাকমাকে অস্ত্রের মুখে তুলে নিয়ে যায় অপর পক্ষ।

রোববার (১৮মার্চ) সকালে উপজেলার কুদুকছড়ি ইউনিয়নে বাজারে এ ঘটনা ঘটে।

জানা গেছে, সকাল ৯টার দিকে আবাসিক এলাকার একটি বাড়িতে ওই দুই নারী নেত্রীসহ যুব ফোরামের সভাপতি ধর্মসিং চাকমা ও রাঙামাটি জেলা শাখার পাহাড়ি ছাত্র পরিষদের সভাপতি কুনেন্দু চাকমা খাওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন। এ সময় ৮-১০ জন অস্ত্রধারী হামলা চালায়। দুর্বৃত্তরা ওই বাড়িটি পুড়িয়ে দেয়। দুর্বৃত্তরা গুলি ছুড়লে ধর্মসিংয়ের পায়ে লাগে।

কুনেন্দু চাকমা বলেন, আমরা চার কর্মী বাসায় খাওয়া-দাওয়া করার জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছিলাম। এ সময় হঠাৎ করে আমাদের ওপর হামলা চালায় ৮-১০ অস্ত্রধারী। আমি ও ধর্মসিং পালিয়ে যেতে সক্ষম হই। ধর্মসিংয়ের পায়ে গুলি লাগে। তাকে চট্টগ্রাম মেডিকেল হাসপাতালে নেয়া হয়েছে

এ ঘটনার জন্য ইউনাইটেড পিপল্স ডেমোক্রেটিক ফ্রন্ট (ইউপিডিএফ) রাঙামাটি জেলা ইউনিটের সংগঠক সচল চাকমা ইউপিডিএফের বিদ্রোহী গ্রুপকে (বর্মা গ্রুপ) দায়ী করেন।

ইউনাইটেড পিপলস ডেমোক্রেটিক ফ্রন্ট (ইউপিডিএফ) প্রচার ও প্রকাশনা বিভাগ নিরন চাকমা জানান, কুদুকছড়ি বাজারের ইউপিডিএফের (বিদ্রোহী গ্রুপ) বড়মা গ্রুপের একদল সশস্ত্র সন্ত্রাসী খাগড়াছড়ি-রাঙামাটি সড়ক থেকে কয়েক শ’ গজ দূরে গণতান্ত্রিক যুব ফোরামের নেতা ধর্ম সিং চাকমাদের বাড়ি লক্ষ্য করে গুলি চালায়। এতে তিনি গুলিবিদ্ধ হয়ে আহত হন।

দুর্বৃত্তরা ছাত্রদের একটি মেসে আগুন ধরিয়ে দেয় এবং হিল উইমেন্স ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক মন্টি চাকমা ও কেন্দ্রীয় সদস্য দয়াসোনা চাকমাকে অস্ত্রের মুখে অপহরণ করে আবাসিকের বৌদ্ধ মন্দিরের পাশ দিয়ে খাগড়াছড়ি-রাঙামাটি সড়কের পর্ব পাশের জঙ্গলে নিয়ে যায়।

এঘটনায় প্রতিবাদে হিল উইমেন্স ফেডারেশন, পার্বত্য চট্টগ্রাম নারী সংঘ ও ঘিলাছড়ি নারী নির্যাতন প্রতিরোধ কমিটি তাৎক্ষণিকভাবে রাঙামাটি-খাগড়াছড়ি সংযোগ সড়ক বন্ধ করে বিক্ষোভ শুরু করে। এসময় উভয় পক্ষের মধ্যে টানটান উত্তেজনা দেখা দেয়।

রাঙামাটি কতোয়ালী থানার কর্মকর্তা (ওসি) সত্যজিৎ বড়ুয়া এঘটনার সত্যতা স্বীকার করে বলেন, পাহাড়ের আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে ইউনাইটেড পিপলস ডেমোক্রেটিক ফ্রন্ট (ইউপিডিএফ) এর দু’গ্রুপের মধ্যে বন্দুক যুদ্ধের ঘটনা ঘটেছে। এঘটনায় ইউপিডিএফ অর্থাৎ মূল দলের এক কর্মী গুলিবিদ্ধ হয়েছে। তার অবস্থা আশংকাজনক।

ঘটনার সময় একই গ্রুপের হিল উইমেন্স ফেডারেশনের দুই নারী নেত্রীকে অস্ত্রের মুখে তুলে নিয়ে গেছে বলে অভিযোগ করেছে সংগঠনটি। ঘটনাস্থলে পুলিশ ও সেনাবাহিনীর টহল জোরদার করা হয়েছে। বর্তমানের পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে।

এ ব্যাপারে ইউনাইটেড পিপল্স ডেমোক্রেটিক ফ্রন্ট (ইউপিডিএফ) রাঙামাটি জেলা ইউনিটের সংগঠক সচল চাকমা এ হামলাকে ‘কাপুরুষোচিত ও ন্যাক্কারজনক’ অভিহিত করে বলেন, রাজনৈতিকভাবে ইউপিডিএফকে মোকাবিলা করতে ব্যর্থ হয়ে সশস্ত্র সন্ত্রাসীরা তাদের উত্থানকে রুদ্ধ করতে চাইছে। কিন্তু কোন ধরনের দমনপীড়ন ও সন্ত্রাসী হামলা চালিয়ে অতীতে ইউপিডিএফের অগ্রযাত্রাকে স্তব্ধ করা যায়নি।

 

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *