আলীকদমে স্ত্রী নির্যাতনের দায়ে দু’শিক্ষকের বিরুদ্ধে মামলা


আলীকদম প্রতিনিধি:

স্ত্রী নির্যাতনের দায়ে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে মামলা হয়েছে বান্দরবানের আলীকদম উপজেলার সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের যৌতুক লোভী দুইজন সহকারী শিক্ষকের বিরুদ্ধে। মামলার পর থেকে নারী নির্যাতনকারী এ দুই শিক্ষককে ধরতে পুলিশ অভিযান অব্যাহত রেখেছে।

অভিযুক্ত শিক্ষকরা হচ্ছেন থোয়াইচিং হেডম্যানপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক শফিকুল ইসলাম ও চৈক্ষ্যং ত্রিপুরাপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক মনিরুল ইসলাম। মঙ্গলবার (২০ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে অভিযুক্ত শিক্ষকদের ধরতে সংশ্লিষ্ট বিদ্যালয়ে অভিযান চালায় পুলিশ।

থানায় প্রদত্ত এজহারে প্রকাশ, উপজেলার থোয়াইচিং হেডম্যানপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক শফিকুল ইসলাম ২০০১ সালে বিয়ের পর থেকে তার শিক্ষিকা স্ত্রীকে পিতার বাড়ি থেকে যৌতুক এনে দেওয়ার জন্য শারিরীক ও মানসিক নির্যাতন করে আসছে। এ নির্যাতনের অন্যতম সহযোগী তার আরেক ভাই চৈক্ষ্যং ত্রিপুরাপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক মনিরুল ইসলাম। সর্বশেষ গত মাসে ৩ লক্ষ টাকা যৌতুকের দাবিতে নির্যাতনকারী স্বামী শফিকুল ইসলাম তার অপর দুই ভাই জহির ও মনিররুলকে সাথে নিয়ে স্ত্রীর ওপর বর্বর নির্যাতন চালায়। নির্যাতিত শিক্ষিকা আত্মীয়-স্বজনের সহায়তায় স্থানীয় স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ও চকরিয়ায় কয়েক দফা চিকিৎসা করান। গত ৬ ফেব্রুয়ারি পারিবারিক বৈঠকে সমঝোতার মাধ্যমে স্ত্রীকে আলীকদমস্থ বাড়িতে নিয়ে এসে আরও কয়েক দফা নির্যাতন করেন। গত ১৫ ফেব্রুয়ারি দুপুরে পুনরায় নির্যাতনের দায়ে আলীকদম থানায় নিরূপায় হয়ে অভিযোগ করেন নির্যাতিতা স্ত্রী।

এ ব্যাপারে আলীকদম থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন ২০০০ (সংশোধনী ২০০৩) এর ১১(গ)/৩০ ধারায় মামলা রুজু হয়েছে। অপরদিকে, চকরিয়া সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে গত ৭ ফেব্রুয়ারি অভিযুক্ত শিক্ষক শফিকুল ইসলামের বিরুদ্ধে ১৯৮০ সালের যৌতুক নিরোধ আইনের ৪ ধারা এবং ১৮৬০ সালের পেনাল কোডের ধারা ৩২৩/৩০৭/৩৭৭/৫০৬(২) দণ্ডবিধিতে আরেকটি মামলা রুজু হয়েছে। এতে যৌতুক দাবিতে মারধর, অর্থ আত্মসাত ও যৌন নির্যাতনের অভিযোগ আনা হয়।

অভিযুক্ত শিক্ষকদ্বয় সহোদর ভাই। এর মধ্যে নির্যাতক স্বামী মামলার পর থেকে পলাতক রয়েছেন। অপরজন বান্দরবান সদরে আইসিটি প্রশিক্ষণে আছেন।

অভিযুক্ত শিক্ষক শফিকুল ইসলাম জানান, আমার বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে। তাই ঠিক মত স্কুলে যেতে পারছি না। এ ব্যাপারে আমি আইনী লড়াই চালিয়ে যাবো।

আলীকদম থানার সেকেন্ড অফিসার মোহাম্মদ আজমগীর জানান, অভিযুক্ত শিক্ষকদের ধরতে সংশ্লিষ্ট স্কুলে অভিযান পরিচালনা করি। কিন্তু তারা স্কুলে অনুপস্থিত থাকায় তাদের আটক করা যায়নি।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *