আলীকদমে ‘অবৈধ’ সার আটক দেখিয়ে ছেড়ে দেয়ার সিদ্ধান্ত


Follow Up

আলীকদম (বান্দরবান) প্রতিনিধি :

বান্দরবানের আলীকদম উপজেলায় ট্যোবাকো কোম্পানীর ‘অবৈধ’ মজুদকৃত ৪১ মেট্রিক টন ডিএপি সার ছেড়ে দেয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে উপজেলা সার ও বীজ মনিটরিং কমিটি। অবৈধ মজুদের অভিযোগে সারগুলি গত রবিবার উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) কর্তৃক ‘আটক’ করেন। বুধবার ইউএনও কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত এ সংক্রান্ত একটি সভায় ইউএনও বলেন, সারগুলি জব্দ নয়, আটক করা হয়েছিল। ঢাকা ট্যোবাকো ইন্ডাস্ট্রিজ ও নাছির ট্যোবাকো থেকে ‘মুছলেকা’ নিয়ে অবৈধ সারগুলি ছেড়ে দেয়ার সিদ্ধান্ত হয়েছে। এ দু’কোম্পানী সারগুলি তামাক চাষের ব্যবহার করবে। তামাক চাষকে সরকারীভাবে নিরূৎসাহিত করা হয়। প্রশাসন থেকে এ খাতে ভর্তুকীকৃত সার বরাদ্দ দেয়া হয় না। এ কারণে কোম্পানীগুলো প্রতিবছর অবৈধ উপারে সার সংগ্রহ করে আসছে। আজ থেকেই টোবাকো কোম্পানীগুলো অবৈধ সারগুলি বিতরণ শুরু করেছে।

বৈঠক সূত্রে জানা গেছে, ২০০৯ সালের সার বিধিমালা লঙ্ঘন করে ঢাকা ট্যোবাকো ইণ্ডাস্ট্রিজ ৩৭ মেট্রিক টন ও নাছির ট্যোবাকো ৪ মেট্রিক টন ডিএপি সার আলীকদম উপজেলার পান বাজারে মজুদ করেন। এ অভিযোগে গত রবিবার বিকেলে উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোতাকাব্বীর আহমেদ সার জব্দ করেছেন বলে জানিয়েছিলেন সাংবাদিকদের। তবে আজ বুধবার উপজেলা সার ও বীজ মনিটরিং কমিটির সভায় তিনি জব্দ নয় সারগুলি আটক করা হয়েছিল বলে জানান। এ সময় উপজেলা নির্বাহী অফিসার আরো বলেন, ‘প্রশাসনের অনুমতি ছাড়া এ দু’ট্যোবাকো কোম্পানীর সারগুলি আলীকদমে অবৈধভাবে এনেছেন’।

index

উপজেলা সার ও বীজ মনিটরিং কমিটির সদস্য সচিব ও উপজেলা কৃষি অফিসার কৃষিবিদ আলী আহমেদ বলেন, ‘অবৈধ এ সার আটকের বিষয় নিয়ে সাংবাদিকরা প্যাঁচাচ্ছে’। এর প্রতিবাদ করে সার ও বীজ মনিটরিং কমিটির সদস্য ও প্রেসক্লাব সভাপতি মমতাজ উদ্দিন আহমদ বলেন, সাংবাদিকরা অবৈধ সারের বিষয়ে লিখেছেন। ট্যোবাকো কোম্পানীগুলো প্রশাসনের অনুমতি ছাড়া সার মজুদ করছে। এ সময় সারগুলির বিষয়ে বিধিমতে ব্যবস্থা গ্রহণের ওপর তিনি মত ব্যক্তি করেন। বৈঠক উপস্থিত উপজেলা পরিষদের দু’ভাইস চেয়ারম্যান আইনগতভাবে নয়, স্থানীয় সিদ্ধান্তেই ‘অবৈধ’ সারগুলি ছেড়ে দেয়ার পক্ষে জোরালো সুপারিশ করেন।

ইউএনও কার্যালয়ে বুধবার অনুষ্ঠিত সার ও বীজ মনিটির কমিটির সভায় অন্যান্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন ইউপি চেয়ারম্যান জামাল উদ্দিন, ঢাকা ট্যোবাকোর চকরিয়া রিজিওনাল ম্যানেজার (আরএম) মোঃ কাউসার খান, শাখা ম্যানেজার শহিদুল ইসলাম, মৎস্য কর্মকর্তা আজিম উদ্দিন, ঢাকা ট্যোবাকোর ম্যানেজার মোঃ রাব্বী, নাছির ট্যোবাকোর প্রতিনিধি মোঃ আওয়াল, আবুল খায়ের ট্যোবাকোর ম্যানেজার কিবিরিয়া।

এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী অফিসার জানান, পার্শ্ববর্তী লামা উপজেলায়ও কয়েকদিন পূর্বে অবৈধ সার আটকের পর ‘মুছলেকা’ নিয়েছে ছেড়ে দেয়া হয়েছে। সার ও বীজ মনিটরিং কমিটির সভায় সিদ্ধান্তের আলোকে আলীকদমেও একই প্রক্রিয়ায় ট্যোবাকোর কোম্পানী থেকে ‘মুছলেকা’ নিয়ে আটক সারসগুলি ছেড়ে হবে।

আলীকদম থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ হোসাইন বলেন, আলীকদমে অবৈধ সার মজুদের বিষয়টি তিনি শুনেছেন। তবে সার আটক কিংবা জব্দের বিষয়ে উপজেলা প্রশাসন থেকে তাকে কিছুই জানানো হয়নি। 

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *